মহানগরশিরোনাম

বরাদ্দ কম তবুও থেমে নেই উন্নয়ন কার্যক্রম : সাক্ষাৎকারে নওহাটা পৌর মেয়র মকবুল

ফজলুল করিম বাবলু: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সীমানা লাগোয়া পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৪৬ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার লোকের বসবাস। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এখানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ মকবুল হোসেন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল বারী খানকে পরাজিত করে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।
শেখ মকবুল হোসেন বলেন, দ্বিতীয়বারে দায়িত্ব নেওয়ার পর হতে পৌর এলাকার অনেক সমস্যার সমাধান করলেও এখনো অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। প্রায় চার বছরে তিনি ১৩ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ তিনি শেষ করেছেন। আরো ২ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য টেন্ডার এর কাজ শেষ করা হয়। এখন শুধু ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দেওয়া বাকী রয়েছে। এই কাজ সমাপ্ত হলে পৌরবাসীর দুঃখ দূর্দশা অনেকাংশে লাঘব হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার সময় পৌর এলাকার অনেক স্থানেই জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙা রাস্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, সড়কে বাতির অভাবসহ নানা সমস্যা ছিল। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকাসক্তদের উৎপাতে জনগণ অতিষ্ট ছিল। এখন মাদক ও অন্যান্য সমস্যা থাকলেও পুর্বের তুলনায় অনেক কম।
পাকা রস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আনসার ক্যাম্প হেত বরইকুড়ি পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার, মদন হাটি মসজিদ থেকে রায়হানের বাড়ি পর্যন্ত ৬০০ মিটার, নওহাটা ব্রীজ থেকে বাকসারার নবীউল্লাহর মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার, বাকবরিয়া মসজিদ হতে পবা থানা পর্য়ন্ত ৫০০ মিটার, বারইপাড়া মোড় হতে আলতা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, বায়া আমির হাজির বাড়ি থেকে ভূমি অফিস পর্যন্ত ১ কিলোমিটর, নামোপাড়া বাদলের বাড়ি থেকে নওপাড়া মাদ্রাসা পর্যন্ত ৬৫০ মিটার ও কাজিপাড়া জয়েন হাজির বাড়ি থেকে নওপাড়া আশরাফ হাজির বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা ইতোমধ্যে পাকা করণ করা হয়েছে।
এছাড়াও পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে নওহাটা বাজারের অগ্রণী ব্যাংক হতে বারনই নদী পর্যন্ত, মরগী পট্টি হতে নদী পর্যন্ত, গরুর হাট হতে নদী পর্যন্ত, মধুসুদনপুর মসজিদ হতে কোরবানের বাড়ি পর্যন্ত, বাগধানী হাট হেত বারনই নদী পর্যন্ত, বায়া মোড় থেকে হিমালয় কোল্ডস্টোরেজ পর্যন্ত, বায়া হতে গুড়িপাড়া পর্যন্ত এবং বায়া বালিয়া ডাঙ্গার ড্রেন শেষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসাথে রাস্তা রক্ষায় পাঁচটি পুকরের প্রটেকশন ওয়াল এর কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে এসে জনগণ যেন কোন অসুবিধায় না পড়ে তার জন্য নওহাটা হাটে সেট তৈরী করা হয়। এর সাথে বাথরুম এবং বায়া বাজারেও স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম তৈরী করেছেন।
তিনি আরো বলেন, পবা উপজেলার সামনে ফলক নির্মাণ, চারটি মসজিদ নতুনভাবে নির্মাণসহ পৌর এলাকার প্রতিটি মসজিদের উন্নয়ন করা হয়েছে। পৌর এলাকা আলোকিত করা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থের অভাবে এখনো পুরো পৌর এলাকায় লাইটিং করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে তিনটি ওয়ার্ড আলোকিতকরণের কাজ স মাপ্ত করা হয়েছে। বাজেট পেলে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ড আলোকায়নের কাজ শেষ করা হবে। মেয়র বলেন, পৌরসভার মধ্যে সকল কমিউনিটি ক্লিনিকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা, দরীদ্রদের মধ্যে ছাগল ও সেলাই মেশিন বিতরণ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানসহ দরীদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ নিজশ্ব অর্থায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র বলেন, প্রতিটি গোরস্তানে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। সকল ওয়ার্ডে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করতে না পারলেও প্রতিটি ওয়ার্ডে সেমি নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই পৌর ভবন তাঁর আমলেই নির্মিত হয়। এখন বারনই শাখা নদীর উপর ব্রীজ এর কাজ চলমান রয়েছে। হিমালয় কোল্ড স্টোরেজ হতে গড়িপাড়া রবির বাড়ি পর্যন্ত, ভুগরইল পশ্চিমপাড়া গোরস্থ্যান হতে আলমগীরের বাড়ি পর্যন্ত ও শিয়ালবাট সৈয়দের বাড়ি থেকে ইসরাফিলের বাড়ি পর্যন্ত নতুন করে ড্রেন নির্মান কাজ শুরু হবে। সেইসাথে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এসবিবি ও সিসি রাস্তা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিরোধী দলের মেয়র হওয়ায় বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। শুধু আমি নয়, উত্তরাঞ্চলের সব পৌরসভা বৈষম্যের শিকার। সরকারের বরাদ্দ কম থাকায় উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছি না। মেয়র বলেন, পাঁচ বছর আগেও পৌরসভার প্রধান সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা। এখন সমস্যা সেভাবে নেই। বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের চেষ্টা করছি। এজন্য একটি প্রকল্প দুই বছর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে আশা করছি পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তা, ড্রেন, বিদ্যুৎ সমাধানে ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রজেক্ট অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার জায়গা বেদখল হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের কিছু জায়গা এবং ফুটপাত দখল করেছে একশ্রেণির মানুষ। এগুলো সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা। তাই দখলমুক্ত করার দায়িত্বও তাদের। তবে পৌরসভার নওহাটা বাজারের কিছু জায়গা দখল হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সেটি দখলমুক্ত করতে পারছি না। তিনি বলেন, ‘৩০ ভাগ পৌরবাসী কর দেন না। দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রায় দেড় কোটি টাকা দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করি। এখন কোনো দেনা নেই। পৌরসভার কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বেতন আপডেট আছে।’ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করা হচ্ছে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক উপস্থিতি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিজেই তদারকি করি।
তিনি আরো বলেন, আমার পৌরসভায় দুর্নীদিবাজ কেউ নেই। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার জন্য কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। পৌরসভা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মকবুল হোসেন বলেন, একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা উপহার দিতে চাই। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে বরাদ্দের ওপর। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close