অর্থ ও বাণিজ্যআন্তর্জাতিকনাগরিক মতামতশিরোনাম-২

‘বামপন্থীদের সঙ্গে নোবেল বিজয়ী অভিজিতের চিন্তার মিল রয়েছে’

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: বামপন্থীদের সঙ্গে এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তার মিল রয়েছে। তার কাজের পদ্ধতি ভারতে প্রয়োগ করলে অর্থনীতিতে এর সুফল মিলবে। এমনটাই মনে করেন সিপিএম নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত।
অসীম দাশগুপ্ত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, অভিজিত নোবেল পাওয়ায় তিনি যারপরনাই আনন্দিত। যে কোনও একটি অর্থনীতিতে উন্নয়ন নির্ভর করে আর্থিক বৈষম্য কমানোর ওপর। এই কথাটাই অভিজিৎ বলতে চেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই আমরাও এটিই বলে আসছি। আরও একটি ব্যাপার উল্লেখযোগ্য যে, তিনি তাত্ত্বিক কারণেই এই নোবেল পাননি, এ বিষয়টি তিনি প্রয়োগ করেছেন, যা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের গবেষণা ভারতের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে। আমরাও অনেকদিন ধরে বলছি যে, দুই ধরনের উন্নয়নের কথা বলা হয়ে থাকে। প্রথমটা হলো আমাদের দেশে যে পদ্ধতিটা ভাবা হয়ে চলেছে ১৯৯১ সাল থেকে, যেখানে উন্নয়নের জন্য বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে, বিদেশি বিনিয়োগ আনা যেতে পারে। এই ভাবনায় বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে ভাবাই হয় না। মনে করা হয়, বৈষম্য এমনিই কমবে।
অসীম দাশগুপ্তের দাবি, এ পদ্ধতি যে যথাযথ নয় তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে উৎপাদনেও যে অধোগতি এসে গেছে; সে কথাও মনে করিয়ে দেন এই বাম রাজনীতিক। তিনি বলেন, আমরা এর বিকল্প চাই। আমরা বলছি, চাহিদা বৃদ্ধি করা হোক। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে তোলা হোক। গ্রামাঞ্চলে বাস যে অধিকাংশ মানুষের তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এটি করা হোক। তার জন্য ভূমি সংস্কার করা যেতে পারে, সেচের মাধ্যমে পানি পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। ফসলের ন্যায্য দাম পাইয়ে দেওয়া নিশ্চিত করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, বামপন্থী অর্থনীতির যে ঘরানা, তার সঙ্গে অনেকটাই সাযুজ্য রয়েছে অভিজিতের ভাবনার। তিনি যেভাবে বলছেন যে, জনশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি করে খরচ করা হোক, তা একেবারেই বামপন্থীদের সঙ্গে মেলে। মনে রাখতে হবে আরেক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও একই কথা বলে এসেছেন, বলে চলেছেন।
অসীম দাশগুপ্ত মনে করেন, সরকার যদি এ নীতি গ্রহণ বা প্রয়োগ না করে, তাহলেও তার প্রয়োগ ভারতে ঘটানো সম্ভব। কিভাবে? এই বাম রাজনীতিক বলেন, সরকার যদি নাও এগিয়ে আসে, বেসরকারিভাবে কোনও সংস্থা যদি এগিয়ে আসে, যেটুকু এগিয়ে আসবে সেটুকুই মঙ্গলজনক হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে অমর্ত্য সেনের প্রতীচী ট্রাস্টের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সব কাজই গুরুত্বপূর্ণ।
কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রতিশ্রুত ‘ন্যায়’ প্রকল্পের সঙ্গে অভিজিত বিনায়কের কাজের কোনও মিল পাচ্ছেন না বলেও জানান এই বাম রাজনীতিক।
উল্লেখ্য, উন্নয়ন অর্থনীতির মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিন অর্থনীতিবিদকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অভিজিৎ ব্যানার্জি। পুরস্কারপ্রাপ্ত বাকি দুই অর্থনীতিবিদ হলেন অভিজিতের স্ত্রী ফরাসি নাগরিক অ্যাস্থার ডাফলো এবং মার্কিন নাগরিক মাইকেল ক্রেমার। বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৪) বিকেল সাড়ে ৩টায় রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
অভিজিৎ ব্যানার্জি ১৯৬১ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দীপক ব্যানার্জি ছিলেন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক এবং তার মা নির্মলা ব্যানার্জিও ছিলেন সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা’র অর্থনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক। তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুল এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে লেখাপড়া করেন। যেখান থেকে ১৯৮১ সালে অর্থনীতিতে বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৩ সালে দিল্লির জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
১৯৮৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে পিএইচডি করার জন্য হার্ভার্ডে ভর্তি হন। অর্থনীতিতে পিএইচডি নিতে তার থিসিসের বিষয় ছিল “এসেস ইন ইনফরমেশন ইকোনমিকস”। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

Close