চারঘাটশিরোনাম

শীতের আগমনে চারঘাটে লেগেছে খেজুর গাছ পরিষ্কারের ধুম

মোঃ সজিব ইসলাম, চারঘাট: প্রকৃতির রঙিন রঙ্গমঞ্চে কুয়াশার চাদরমুড়ি দিয়ে হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা পৌঁছে গেছে। শীতকে বরণ করতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। মিষ্টি খেজুর রসের পিঠা পায়েশে বরণ করা হবে শীতকে। তাই খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য শুরু হয়েছে ঝোড়-বাল্লি কেটে গাছ পরিচর্যার।

গাছিরা খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারঘাট উপেেজলার গাছিরাও থেমে নেই। তারাও ঠুঙি, দা, দড়া নিয়ে গাছে গাছে চড়ে বেড়াচ্ছেন। কোমরে দড়া বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুনতার সাথে গাছ চাঁছা-ছেলা ও খিল (বাঁশের কঞ্চি ফালির বিশেষ অংশ) বসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আর ক’দিন পরেই গাছিদের মাঝে শুরু হবে খেজুর রস সংগ্রহের ধুম। শীত মৌসুম এলেই এলাকার সর্বত্র শীত উদযাপনের নতুন আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গাছিরা।

চারঘাট উপেেজলার নিমপাড়া গ্রামের কাদের আলী জানান, তিনি বিগত ২০ বছর ধরে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করেন। শীতকালই তার আয়ের মৌসুম। এ মৌসুমে তিনি খেজুর গাছ ভাড়া নেন। এ মৌসুমে রস ও গুড় বিক্রি করে আয় করেন লক্ষাধিক টাকা। তাই প্রতিবছর শীতের অপেক্ষায় থাকেন তিনি।

তিনি বলেন, নিজের চাষযোগ্য জমি নেই। কৃষি কাজ করেন। মাঝে মাঝে শ্রমিকের কাজও করেন। ভ্যানও চালান। তবে শীত মৌসুমে পড়ে থাকেন খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজে। এ কাজে তার স্ত্রীও সহযোগিতা করেন। রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করেন তার স্ত্রী। এক ভাড় গুড় বিক্রি করেন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। প্রতি ভাড় রস বিক্রি করেন ১০০ টাকায়। এতে তার সংসারে সুদিন ফিরেছে।

শীতের সকালে খেজুরের ঠান্ডা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যায় না। আর খেজুর রসের পিঠা ও পায়েসতো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি খেজুর রসের পায়েশ ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।

শীতের সকালে বাড়ির উঠানের রোদে বসে গাছ থেকে সদ্য নামিয়ে আনা খেজুরের ঠান্ডা মিষ্টি রসের অন্যরকম স্বাদও পাওয়া যায়। এ রস থেকে তৈরি হয় গুড়, সুস্বাদু পাটালি ও সন্দেশ।

শলুয়া ইউনিয়নের আব্দুর সবুর নামের এক গাছি ও রস বিক্রেতা বলেন,আমাদের উপজেলার গুড়ের চাহিদা রয়েছে অন্যান্য উপজেলাতেও। আমরা এখন খেজুর গাছগুলো রসের জন্য প্রস্তুত করছি। তবে আগের মতো আর খেজুর গাছ নেই। জ্বালানীসহ বিভিন্ন কাজে মানুষের ব্যবহারে গাছ নিধন ও প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবের কারণে তেমন সুস্বাদু রসও হয় না।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগুড় আজ বিলুপ্তির পথে। কারণ আগের মতো খেজুর গাছ আর নেই। ইটভাটায় জ্বালানির কাজে ব্যবহার করতে নিধন হচ্ছে এলাকার শত শত খেজুর গাছ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরপরেও গাছিরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাই সচেতন মহলের দাবি কেবল গুড়, সুস্বাদু খাবার ও শুধু রসনা তৃপ্তির সুমিষ্ট রসের জন্যই নয়, আমাদের জীবনের প্রয়োজনে পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় আমাদেরকে খেজুর গাছ বাঁচিয়ে রাখতে সকলের সচেষ্ট হতে হবে।

বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close