উন্নয়ন বার্তামহানগরশিরোনাম-২

নগরীতে বেলা’র আয়োজনে “বেনিফিসিয়ারিজ ফিডব্যাক মিটিং” অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র আয়োজনে আজ নগরীর এক রেস্তরায় ‘বেনিফিসিয়ারিজ ফিডব্যাক মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বেলা’র রাজশাহী কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল। সভা সঞ্চালনা করেন বেলা’র হেড অব প্রোগ্রাম মো. খোরশেদ আলম। রাজশাহী বিভাগে পরিবেশগত ইস্যুতে জনস্বার্থে বেলা’র দায়ের করা মামলাগুলোর উপকারভোগীদের উপস্থিতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাপা’র বগুড়া জেলা কমিটির সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান, নাটোরের সাথী’র নির্বাহী পরিচালক শিবলী সাদিক, বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কেএম বেলাল হোসেন, শিক্ষক মো. মোকসেদ আলী, সাংবাদিক জিনাত জেবীন, উন্নয়নকর্মী কেএম ওবায়দুর রহমান, এম ফজলুল হক বাবলু ও মিন্টু মিয়া, ইউপি সদস্য কামরুন্নাহার, কৃষক দীপক মজুমদার, মৃৎশিল্পী ঋষিকেশ পাল, মৎস্যজীবী নিত্যানন্দ দাস, গৃহিনী সেলিনা বেগম, সীমা রানি দাস, রোজিনা খাতুন প্রমুখ।

সভায় বেলা’র রাজশাহী কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল বিগত সময়ে রাজশাহী বিভাগে মানুষের পরিবেশগত অধিকার রক্ষায় তাদের গৃহীত কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবেশগত ন্যায়বিচারকে জনপ্রিয় করা, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার সংক্রান্ত ধারণা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বেলা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পরিবেশ বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেলা মানুষের পরিবেশগত অধিকার রক্ষায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিভিন্ন ইস্যুতে বেশকিছু জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে এবং ইতিবাচক আদেশও পেয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বেলা’র দায়ের করা মামলাগুলোতে আদালত যেসব ক্ষেত্রে অন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন সেসবের একাংশের ক্ষেত্রে প্রশাসন ইতিমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় নি। অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, এই মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায় কি না তা বেলা বিবেচনা করতে পারে। একইসাথে বেলা’র পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা মনিটরিং করা যেতে পারে। তারা বলেন, বেলা’র উদ্যোগের পাশাপাশি কোনো কোনো ইস্যুতে স্থানীয় জনগণকে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংঘবদ্ধভাবে প্রশাসনের কাছে যেতে হবে এবং পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সংগঠিত হতে হবে। এছাড়াও গণসচেতনতায় বেলা আরও বেশি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে ভালো হয়। বক্তারা জানান, বেলা’র আইনি পদক্ষেপের কারণে রাজশাহী বিভাগের পরিবেশগত অনেক সংকটের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বেলা’র সক্রিয় সহযোগিতায় ভবিষ্যতে পরিবেশগত বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বিতভাবে কাজ করা সম্ভব হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেলা’র হেড অব প্রোগ্রাম মো. খোরশেদ আলম বলেন, সব বিষয়েই আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, সেখানে স্থানীয়ভাবেও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। আসলে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বড় কথা। বেলা মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তরিক। মানুষকে তার পরিবেশগত অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে। পরিবেশগত বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন আগের চেয়ে অনেকটাই সচেতন। আবার আপনাদের স্থানীয়ভাবেও সচেতনামূলক কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উচিত। সীমাবদ্ধতা থাকবেই। সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমাদের পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যেতে হবে এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close