তানোরশিরোনাম

রাজনৈতিক কারনে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে, একান্ত সাক্ষাতকারে তানোর পৌর মেয়র মিজান

ফজলুল করিম বাবলু: রাজশাহীর উপজেলার নওহাটা পৌরসভার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ২৭ দশমিক ৪৩০ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ৫১ হাজার ৫০০শত লোকের বসবাস। ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার। এটি তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমানে মিজানুর রহমান মিজান মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরুল হককে পরাজিত করে তিনি প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

মেয়র বলেন, নির্বাচিত হলেও তাকে সঠিক সময়ে শপথ গ্রহন করতে দেওয়া হয়নি। শপথ গ্রহনের দিনই তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
সেখানেই তিনি শপথ গ্রহন করেন এবং ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে বর্তমান সরকারের
রোষানলে পরেন। তার নামে একাধিক মামলাও হয়েছে। এছাড়াও তাঁকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছেনা। এমন কি ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাদি তাঁকে দিতে দেওয়া হচ্ছেনা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাতার এগুলো ভাগবাটোয়ারা করে নেয় এবং নিজেরাই সব কিছু বিতরণ করছেন। সেইসাথে তাঁর নামে মিথ্যা প্রচারণা করছে বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়র আরো বলেন, শপথের পর থেকে এ পর্যন্ত এডিবি থেকে মাত্র কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মাসিন্দা প্রভাসের বাড়ি হতে বিষ্ণোর বাড়ি পর্যন্ত ১৩৬ মিটার এইচ.বি.বি রাস্তা, একই গ্রামের কলিমুল্লাহর পুকুরে ৩০ মিটার রিটেনিং ওয়ালসহ সিঁড়িঘাট নির্মাণ, রায়তান বড়শো গ্রামে ওয়াক্তিয়া মসজিদ হতে আনিসুরর বাড়ি পর্যন্ত ৫০ মিটার ড্রেন নির্মাণ, গোল্লাপাড়া সাহাজীপাড়া আনুর চাতাল হতে অমোল এর বাড়ি পর্যন্ত ৮০ মিটার ব্রীক ড্রেন নির্মাণ, একই পাড়ার হলদারপাড়া ডাক্তার ভবেশ এর দোকান থেকে মুকুলের বাড়ি পর্যন্ত ৫০মিটার ব্রীক ড্রেন নির্মাণ, তানোর হিন্দুপাড়া আংশিক মন্দির নির্মাণ, গুবিরপাড়া হান্নানের বাড়ি পুকুরের রিটানিং ওয়ালসহ ১০ মিটার সিঁড়িঘাট নির্মাণ, গুবিরপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পুকুরে রিটারিং ওয়ারসহ ২৫ মিটার মাটি ভরাট, ঠাকুরপুকুর গ্রামের শিশুর বাড়ি হতে সাহেব আলীর বাড়ি পর্যন্ত ৯০মিটার সোলিং রাস্তার কাজ।

এছাড়াও বেলপুকুরিয়া আদিবাসীপাড়া পুকুর ধারে রিটানিং ওয়ালসহ ৮০ফিট সিঁড়িঘাট নির্মাণ, সিন্দকাই মাওয়ালা আমিনুল ইসলামের বাড়ি হতে ফুটবল মাঠ পর্যন্ত এইচ.বি.বি রাস্তা, একইপাড়ার মাদ্রাসার পুকুরের শেষ মাথা গতে ফুটবল মাঠের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত এইচ.বি.বি রাস্তা করণ, মথুরাপুর জামে মসজিদের বারান্দার দরজা থাই গ্লাস ও ওয়ালসহ মেঝেতে টাইলস এর কাজ, একই এলাকার সরদারপাড়ার কুদরতের বাড়ি থেকে আরজেদ এর বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, আমশো গ্রামের এক্সিটিং ড্রেন হতে বিলকুমারী বিল পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ, ধানতৈড় উত্তরপাড়া হানিফের বাড়ির পার্শে নাড়াপুকুরে রিটানিং ওয়াল ও জাইদুলের বাড়ি হতে ইদ্রিসের বাড়ি পর্যন্ত সোলিং করণ, ধানতৈড় দক্ষিণপাড়া কবরস্থান দরগাতলাপুকুরে রিটানিং ওয়ালসহ সিঁড়িঘাট নির্মাণ, চাপড়া গ্রামে ছহির হাজির বাড়ি হতে ইয়াছিনের বাড়ি পর্যন্ত ব্রীক ড্রেন নির্মাণ, তালন্দ গ্রামের আজিমের পুকুরে রিটারিং ওয়াল নির্মাণ ও গোকুল গ্রামের এক্সিটিং ড্রেন এসাহাকের বাড়ি হতে হাবিব কবিরাজেরজ বাড়ি পর্যন্ত ব্রীক ড্রেন নির্মাণসহ পৌরসভার অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের কাজ সমাপ্ত করেছেন বলে জানান মেয়র।

মেয়র বলেন, পূর্বের মেয়র সরকারী দলের হলেও তেমন কোন প্রকার উন্নয়ন তিনি করেন নি বরং ঋণের বোঝা রেখে ভোটে হেরে তিনি ক্ষমতা ছাড়েন। এই ভঙ্গুর পৌরসভার দায়িত্ব নিয়ে স্বল্প বাজেটের মধ্যেও মিজান পৌরবাসীর সেবা করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে গোরস্থান. মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহ এর উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। সেইসাথে পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করার জন্য সচেতনতামূলক সভা ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করনে। শিক্ষার উন্নয়নে স্কুল সমুহে ব্রেঞ্জ ও বিভিন্ন ভবনের আংশিক উন্নয়ন করছেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও তদারকী অব্যাহত রেখেছেন। রাস্তা, ড্রেন,সহ পৌর এলাকার বিভিন্ন বাজারে সেড ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, পৌরসভাকে আবর্জনা মুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেয়র আরো বলেন, অর্থের অভাবে পৌরসভাকে আলোকিত করণ, পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কাজ ব্যহত হচ্ছে। তবে জনগণ যেন বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট না পান তার জন্য প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে রাস্তা, ড্রেনসহ অন্যান্য উন্নয়মূলক কাজ তিনি করতে পারছেন না। তবে সল্প অর্থে এই সকল উন্নয়মূলক কাজ করতে পেরে এবং এই কাজে পৌরবাসী সহযোগিতা করায় পৌরবাসীকে তিনি ধন্যবাদ জানান। মেয়র আরো বলেন, ইতোমধ্যে পাইপ লাইনের সাহায্যে পানি সরবরাহ, সোলার প্যানেল স্থাপন, বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামরা স্থাপন ও পাকা রাস্তা করনের জন্য টেন্ডার এর কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও জলবায়ু প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়ন করার জন্য ১২ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই অর্থ বরাদ্দ পেলে পৌরসভার সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন মেয়র।

তিনি বলেন, পৌর সভার অনেক জায়গা দখল হয়ে থাকেলও রাজনৈতিক কারনে সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়াও পৌরবাসী সবাই কর দেন না। মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রায় ৩২লক্ষ টাকা দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেইসাথে কর্মকর্তা, কর্মচারী, কাউন্সিলদের ১০ মাসের বেতন বাঁকি রেখে যান পূর্বের মেয়র। পূর্বের মেয়র বকেয়া বেতনের তিন মাসের বেতন তিনি প্রদান করেছেন। তবে তাঁর আমলে কোন বেতন ভাতা বাঁকী নাই বলে জানান মেয়র। তিনি আরো বলেন, আমার পৌরসভায় দুর্নীদিবাজ কেউ নেই। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার জন্য কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। পৌরসভা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিজান বলেন, একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা উপহার দিতে চাই। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে রাদ্দের ওপর। তবে এত কিছুর পরেও আগামীতেও জনগণ তাঁর পাশে থাকবেন বলে আশাব্যক্ত করেন মেয়র মিজানুর রহমান মিজান।

বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close