গোদাগাড়িশিরোনাম-২

গোদাগাড়ীর পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল আটকে দরকষাকষির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ে দুটি পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ফলাফল আটকে রেখে তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করা হচ্ছে। তারা দ্রুত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজটির শূন্যপদে একজন নৈশ্যপ্রহরী এবং সৃষ্টপদে একজন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে প্রকাশিত আরেকটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহীদের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনের জন্য বলা হয়। এতে নৈশ্যপ্রহরী পদে আটজন এবং অফিস সহায়ক পদে সাতজন আবেদন করেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভাইভা বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম জার্জিস কাদির। এছাড়াও ছিলেন পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি একেএম আতাউর রহমান খান, অধ্যক্ষ আবদুল মালেক, গভর্নিং বডির সদস্য আবদুর রহিম এবং কলেজের শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির সদস্য আফতাব রশীদ। মৌখিক পরীক্ষায় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করা সবাই অংশ নেন। কিন্তু নৈশ্যপ্রহরী পদে আবেদন করেও তিনজন অংশ নেননি। দুটি পদে পরীক্ষা দেওয়া ১২ প্রার্থী এখন ফলাফলের অপেক্ষায়। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, ফল আটকে রেখে এখন কে কত টাকা দিতে পারবেন তা নিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে দরকষাকষি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য একেএম আতাউর রহমান খান বলেন, ভাইভা পরীক্ষায় দেখলাম শামিম ও জামাল নামের দুইজন ভাল করেছেন। এদের দুজনেরই বাবা আবার এই কলেজে চাকরি করতেন। তাই এ দুজনকে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করে আমি পরীক্ষার ফলাফল অধ্যক্ষকে প্রকাশ করার জন্য দেই। তিনি বললেন, দু’একদিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তারপর করেননি। কেন করেননি তিনিই ভাল বলতে পারবেন। অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত জামাল হোসেনের বাড়ি গোদাগাড়ীর মালিগাছা গ্রামে। তার বাবা আবুল কাশেম পালপুর ধরমপুর কলেজে চাকরি করতেন। জামাল বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছি কি না তা জানি না। তবে মৌখিক পরীক্ষা ভাল দিয়েছি। আমি চাকরি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। শুনছি, বিভিন্নজনের সঙ্গে দরকষাকষি করা হচ্ছে।

নৈশ্যপ্রহরী পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শামিম হোসেনেরও বাড়ি একই গ্রামে। তার বাবা মৃত আবুল খায়েরও এই কলেজে নৈশ্যপ্রহরী পদে চাকরি করতেন। শামিম বলেন, আমার আব্বা এই পদে চাকরি করতেন। তিনি মারা গেছেন। তাই তার পদে আমিই চাকরির জন্য আবেদন করেছি। পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। আমি নির্বাচিত হয়েছি কি না তা জানি না। তবে সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হলে আমার চাকরি হবে বলে আশা করি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব এবং দরকষাকষির কারণে ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। আমি ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাই। প্রার্থীরা জানিয়েছেন, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মালেক আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রভাব খাটিয়ে ফলাফল প্রকাশ করছেন না। একাধিক চাকরিপ্রত্যাশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌখিক পরীক্ষার পর টাকার জন্য প্রায় সব প্রার্থীর সঙ্গেই কথা বলা হয়েছে। চাকরি দিলে কে বেশি টাকা দিতে পারবেন এ নিয়ে এখন চলছে দরকষাকষি। আর এ কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের।

জানতে চাইলে দরকষাকষির অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ আবদুল মালেক বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি রাজশাহীর নিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম জার্জিস কাদির ফলাফল নিয়েছেন। এখন তিনিই তা প্রকাশ করছেন না। কেন করছেন না তা তা আমি বলতে পারব না। ফলাফল দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করে দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির বলেন, ফলাফলে দুইজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা পরীক্ষায় ভাল করেছে। ফলাফল তার কাছে আছে। কিন্তু একটু ‘সমস্যার কারণে’ ফলাফল প্রকাশ করা যাচ্ছে না। দু’একদিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তখন ফল প্রকাশ করা যাবে। আর পরীক্ষার তিনমাস পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশের সময় থাকে বলেও জানান তিনি।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/ নাসি

Close