গোদাগাড়িশিরোনাম-২

গোদাগাড়ীতে কাটিং পদ্ধতিতে গাঁদা ফুলের চাষ

ফজলুল করিম বাবলু : বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত গোদাগাড়ীতে কাটিং পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে গাঁদা ফুলের চাষ। বিগত দিনে গোদাগাড়ীর লাল মাটিতে তেমন ফসল না হলেও কালের বিবর্তনে এই অঞ্চলে এখন সব ধরনের ফসল হচ্ছে। এর মধ্যে ফুলও চাষ হচ্ছে প্রায় ১০ বছর ধরে। এখানে গাঁদা, রজনীগন্ধা, জারবেরা ও গ্লাডিওলাসসহ নানা ধরনের ফুলের চাষ হচ্ছে। গোদাগাড়ীর কাদিপুর গ্রামের ফুলচাষী কাইয়ুম বলেন, ১০ বছর পূর্বে মাত্র ৩ শতক জমি লিজ নিয়ে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ শুরু করেন। সে সময়ে ভাল লাভ করার পর থেকে তিনি আর অন্য কোন ফসলের চাষ করেন না। তিনি প্রায় ৫বিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস, গাঁদা ও রজনীগন্ধা ফুলের চাষ করছেন। এরমধ্যে ১ বিঘা জমিতে চাষ করছেন গাঁদা ফুলের। তিনি আরো বলেন, বিদিরপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম ফুল চাষে তাকে উদ্বুদ্ধ করেন। শুধু তাই নয় সবর্দা তিনি পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। মূলত তাঁর পরামর্শেই এতদূর এগিয়েছেন বলে জানান কাইয়ুম।
তিনি বলেন, আগে বীজ থেকে চারা করে জমিতে গাঁদা ফুলের চারা রোপন করতেন। কিন্তু এখন আর বীজ থেকে চারা রোপন করছেন না। গাঁদা গাছ থেকে ছোট ছোট করে ডাল এবং কান্ড কেটে অন্য জমিতে রোপন করছেন। এতে ২ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসছে বলে জানান তিনি। পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে মাটিতে সুন্দর করে বেড তৈরী করতে হবে। এরপর ছোট ছোট করে ডালের কা- কেটে সেই বেডে ঘন করে রোপন করতে হবে। এক সপ্তাহ রাখার পর যখন সেই কা-ের গোড়াতে শেকড় গজাবে তখন সেখান থেকে তুলে জমিতে রোপন করতে হবে বেশী তাপমাত্রা থেকে কা-কে রোধ করতে উপরে উঁচু করে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে রাখতে হবে জানান তিনি।
এরপর প্রয়োজনীয় পানি, সার এবং ছাত্রকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। পরিচর্যা বিষয়ে কাইয়ুম বলেন, গাঁদা ফুলে তেমন কোন পরিচর্যা লাগেনা। তবে জমির আগাছা নিয়মিত পরিস্কার রাখতে হবে। সেইসাথে কৃষি উপসহকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে বলে জানান তিনি। কাইয়ুম আরো বলেন, ১বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করে শেষ অবধী সর্বমোট বিশ হাজার টাকার মত খরচ হয়। রোপন থেকে ৬মাস পর্যন্ত এই ফুল গাছ থেকে উত্তোলন করা যায়। এক বিঘা জমি থেকে খরচ বাদে লক্ষাধীক টাকা উপার্জন করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কাইয়ুম বলেন, তিনি এক সময় ভূমিহীন ছিলেন। কোন রকমে কাঁচা ছাপরা ঘরে বসবাস করতেন। ফুলের চাষ করে তিনি এখন দেড় বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও পাকা বাড়িও করেছেন। পরিবারের সকলেই এখন ভাল আছেন। প্রতি বছর সব খরচ বাদে ২লক্ষ টাকা অধিক তার নিকট জমা থাকে বলে জানান তিনি। আগামীতে জমি ক্রয় করে নিজের জমিতে ফুলে চাষ করার সপ্ন দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষিত ছেলেরা চাকরী না পেয়ে বেকার ঘুরে বেড়ায়। তারা যদি এই ধরনের ফসলের চাষ করেন তাহলে রাজশাহীসহ এই অঞ্চলের ফুলের চাহিদা গোদাগাড়ী থেকে মেটানো সম্ভব বলে তিনি আশাব্যক্ত করেন।
ফুলের রোগবালাই ও এর প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা বিদিরপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফুলের রোগবালাই খুব কম। তবে গোড়া পঁচা, পাতা হলদে, পাতায় মরিচা ধরা ও ফুলে ল্যাদা পোকাড় আক্রমন হয়। গোড়া পঁচা, পাতা হলদে ও পাতায় মরিচা রোধ করতে ছত্রাকনাশক গোল্ডাজিম প্রতি লিটার পানিতে দেড় মি.লি এবং চ্যাম্পিয়ন এক লিটার পানিতে ২গ্রাম একত্রে মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করতে হবে। বিঘাপ্রতি ৬৪ লিটার পানিতে প্রয়োজনীয় এই সকল ছত্রাক নাশক মিশিয়ে সপ্তাহে একবার করে স্প্রে করতে হবে বলে জানান তিনি। ল্যাদাপোকা জাতীয় পোকা দমন করতে সবিক্রম অথবা নাইট্রো জাতীয় কীটনাশক প্রতিলিটার পানিতে এক মি.লি করে মিশ্রন করে একই পদ্ধতিতে জমিতে স্প্রে করতে হবে। এতে কলে পোকাড় আক্রমন থেকে রেহাই পাওয়া যাবে এবং ফুল বড় ও রং ভাল হবে বলে জানান এই কৃষি অফিসার। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close