বাগমারাশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

ভেঙ্গে পড়েছে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা

আব্দুল মতিন, বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে বলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনেক রোগী ও রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতালে এসে মুঠোফোনে ফেসবুক নিয়ে ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে রোগীর স্বজনেরা জানিয়েছেন। সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর সর্ব বৃহৎ বাগমারা উপজেলার প্রায় চার লাখ জনসাধারনের জন্য কমপ্লেক্সটি ৩৩ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড ও অন্যান্য স্থান নোংড়া ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দেখা শোনার কেউ না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবা ব্যহৃত হচ্ছে বলে এলাকার সচেতন মানুষ মনে করছেন।
স^রজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে নোংড়া অবস্থার এমন দৃশ্য নজরে পড়ে। চিকিৎসকরা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন না বলেও জানা গেছে। দুই একজন চিকিৎসক থাকলেও তারা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা নিজেদের কক্ষে শুয়ে বসে থেকেই সময় পার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রমেজান বেওয়া জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঔষুধ কোম্পানীর লোকদের নিয়ে ডাক্তারেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডাক্তারের টেবিলের চারি পার্শ্বে রোগীর ভিড় জমলেও তারা সেদিকে লক্ষ করছেন না। তারা ঔষুধ কোম্পানীর লোকজনদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন। এছাড়াও জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তি হতে আসলে হাসপাতালে চিকিৎসক ও পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই বলে তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে কোন চিকিৎসককে দেখা যায়নি। নাম জানাতে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে না। চিকিৎসকরা যথা সময়ে হাসপাতালে আসেন না বলেও জানা গেছে। পরে এসেও কিছুক্ষণ থেকেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। সেখান থেকে তারা আবারো রাজশাহী অথবা অন্য কোন ক্লিনিকে কাজ করতে চলে যায় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। চিকিৎসক না থাকার কারনেই রোগীরা ভাল চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের এমন চলাফেরার কারনে নার্সদের (সেবিকা) সেবার মানও কমে গেছে। কোন কোন সময় নার্সরা রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরন করেন। তাদের আচরনে অনেকেই রোগী নিয়ে বাহিরে ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে সেখান থেকে ফিরে যায়। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, নার্সরাও ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে গল্পগুজবে ও ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। স্যালাইন দেয়া রোগীদের ঠিকমত দেখাশুনা করেন না তারা। স্যালাইন শেষ হয়ে রোগীর শরীর থেকে স্যালাইনে রক্ত প্রবেশ করলেও দেখার কেউ থাকে না। অধিকাংশ নার্সদের বাড়ি বাগমারায় হওয়ায় তারা রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করে থাকেন। এলাকাবাসী অভিযুক্ত নার্স ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর হাছেন আলী অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার এক আত্মীয়ের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। তার সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা খারাপ আচরন করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে অবহিত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করবেন। কাউন্সিলর হাছেন আলী আরো অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবির নিজ অফিসে বসে সময় কাটালেও তিনি কোন দিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদের কাছে যান না।
এসব ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবির জনবল সংকটের কারন দেখিয়ে তিনি সকল বিষয় এড়িয়ে যান। এলাকার সচেতন মানুষ হাসপাতালের এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছেন। তারা অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলী ও অন্যান্য কর্মকচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।#
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকার চি‎িহ্নত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের গতকাল বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে । বরেন্দ্র বার্ত/অপস

Close