অর্থ ও বাণিজ্যশিরোনাম

পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধি: দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: দেশে পেঁয়াজের মূল্য এখনও চড়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি। রোদ-বৃষ্টিসহ বিভিন্ন অজুহাতে বেড়েই চলছে পণ্যটির মূল্য। প্রতিকেজি পেঁয়াজের মূল্য এখন ১২০ টাকা ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অন্যদিকে, এই পণ্যটি নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানিকারকরা প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮০ টাকায়। আর আড়তদাররা সেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১০০ টাকা কেজিতে। মহল্লায় সেই পেঁয়াজের মূল্য ঠেকেছে ১২০ টাকায়। প্রতিকেজি পেঁয়াজে ৪০ টাকার পার্থক্য তৈরি হলেও এক্ষেত্রে জবাবদিহি করার কোনও কর্তৃপক্ষ নেই। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) রংপুরের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ধৈর্য ধরুন, নভেম্বর মাসেই পেঁয়াজের মূল্য কমে যাবে।
রবিবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘মাস খানেকের মধ্যেই ক্রেতাদের আয়ত্তে চলে আসবে পেঁয়াজের মূল্য। তখন দেশেও নতুন পেঁয়াজ উঠবে, আবার ভারতও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করবে। এই সপ্তাহের মধ্যেই মিসরের পেঁয়াজ এসে যাবে। তখন হয়তো আমরা ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ পাবো। তবে, পুরো স্বস্তি পেতে মাসখানেক সময় লাগবেই।’
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন দফায় দফায় আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। পেঁয়াজ আমদানিকারকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওইসব সভায় কী হচ্ছে, সভায় কোনও অগ্রগতি হয়েছে কিনা, কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা বা ব্যবসায়ীরা কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা, এসব বিষয়ে কথা বলতে নারাজ বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন। শুধু তা-ই নয়, এ ধরনের বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অন্য যেসব কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন, তারাও কিছু বলতে রাজি হননি। তাদের পরিষ্কার জবাব, ‘কিছুই বলা যাবে না।’ আর এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করলে বাণিজ্য সচিবের একান্ত সচিব প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে স্যার কোনও কথা বলবেন না।’
রবিবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি বাজারেই পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। কোথাও সংকট নেই। এরপরও মূল্য চড়া। কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের সাফ জবাব, ‘সরবরাহ নেই।’ আর আমদানিকারকরা জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই মূল্য বেড়েছে।
জানতে চাইলে রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সোহরাব হোসেন জানান, ‘পেঁয়াজের বাজারে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়ানো অব্যাহত রেখেছেন। কেউ কেউ সরবরাহে ঘাটতির কথা বলছেন। কিন্তু বাজারে এলে তো ঘাটতির কিছু দেখি না।’
এদিকে, এমন পরিস্থিতিতেও বাজারে সরকারের কোনও নজরদারি না থাকার সমালোচনা করেছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘আগে থেকে সরকার বাজারে নজরদারি রাখলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।’
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারি সংস্থা টিসিবির উদ্যোগে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির পদক্ষেপও কমাতে পারেনি পেঁয়াজের বাজারের নৈরাজ্য।’
আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি বড় সিন্ডিকেট। তা ভাঙা আসলেই খুব কঠিন। এদিকে, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিলে দেশে অস্থিরতা শুরু হয়। ওই সময় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকায় ওঠে। কিন্তু এর কিছুদিন পর পেঁয়াজের মূল্য কমে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে আসে। কিন্তু দ্রুতই আবার তা ১০০ টাকা, পরের ধাপে ১১০ টাকা এবং সবশেষ ১২০ টাকায় ওঠে।
এদিকে, সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলাবাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। টিসিবি বর্তমানে ঢাকার ৩৫টি স্থানে ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে তারা। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি পেয়াজ কিনতে পারছেন। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close