চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে ১২ ঘন্টায় কলার বাহ্যিক রং হলুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সবকয়টি বাজারে কলা পাকাতে প্রকাশ্যেই দেয়া হচ্ছে কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। ফলে কলার বাহ্যিক রং ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হলুদ ও আকর্ষনীয় আকার ধারণ করে। বিষাক্ত যেসব কেমিক্যাল মিশানো হচ্ছে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
চারঘাট উপজেলা সদর ও সরদহ বাজারে পুলিশ একাডেমীর ট্রেনিং নিতে আসা ব্যাক্তিদের কলার প্রচুর চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবং নজরদারির অভাবে অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
চারঘাট উপজেলা সদরের বাজারগুলো ছাড়াও এলাকা ভিক্তিক কলার দোকান রয়েছে শতাধিক। এসব কলার দোকানে প্রতিদিন কলা পাকানো এবং কলার রং আকর্ষণীয় করার জন্য কার্বাইড বা কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ মেশানো হচ্ছে। এসব বাজারে যেসব কলা বিক্রি করা হচ্ছে তার শতভাগ কলাই বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো। খুব তাড়াতাড়ি যাতে এসব কলা পেকে যায় তাই ব্যবসায়ীরা এই কেমিক্যাল মিশিয়ে থাকে। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে উপজেলা সদর বাজার,সরদহ বাজার, কাকড়ামাড়ী বাজার,বাঁকড়া বাজার, নন্দনগাছী বাজার সহ ছোট বড় সব কয়টি বাজারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারঘাট বাজারের এক কলা ব্যবসায়ী জানান, কলায় এসব পদার্থ মেশালে কলা দ্রুত পাকে এবং কলা দেখতে খুব সুন্দর দেখায়, তাই কাস্টমাররা এসব কলা কিনে নিয়ে যায়। এতে আমাদেরও লাভ হয় বেশি। কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা খুব দ্রুত পচেও যায়। এসব পদার্থ মেশানো কলা খেলে যে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই কলা ব্যবসায়ী বলেন, সবাই মেশায় তাই আমিও মেশাই।
কেমিক্যাল মেশানোর প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কলা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, কলা আমরা অনেক দূর থেকে নিয়ে আসি। আসতে অনেক সময় লেগে যায়। আনার পর একটি বদ্ধ ঘরে রেখে রাসায়নিক ছিটানো হয়। ছিটানোর ফলে এই কলা জলদি পেকে যায়। আমাদের বিক্রি করতেও সুবিধা হয়। তাই তারা এক সঙ্গে কলা পাকাতে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন।
সরদহ বাজারে বাজার করতে আসেন আজাদ আরিফ। কেমিক্যাল মিশিয়ে কলা পাকানোর বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, যারা খাদ্যদ্রব্যে এসব কেমিক্যাল মিশায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যার ফলে দিনদিন এসব বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয় চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মোজাম্মেল হক এর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষাক্ত এসব দাহ্য পদার্থ মিশানো কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং সঙ্গে সঙ্গে বমিভাব ও ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কেমিক্যাল মিশ্রিত কোন খাদ্য গ্রহণ করলে তার প্রভাব পড়ে লিভার ও কিডনির উপর।
এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক জানান,যেকোনো ধরনের অনিয়মের প্রতি আমাদের অভিযান সব সময়ই চলমান আছে। কলার মধ্যে যদি রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশিয়ে কলা পাকানো হয় তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/মোসই/অপস

Close