নাটোরশিরোনাম-২

মহাদেবপুর মহিষবাথান ঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধে ড্রেজার মেশিন কেটে ফেললেন গ্রামের মেয়েরা

মো.মাহবুবুউল আলম,মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে খনন যন্ত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ গভীর করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের সিসি ব্লক নতুন করে ধ্বসে পড়ায় বাঁধ রক্ষায় গ্রামের মেয়েরা দলবদ্ধভাবে হাসা, বটি ও ঝাটা নিয়ে নদী পার হয়ে অবৈধ ডেজার মেশিন কেটে ফেললেন নদীতে এবং সিসি ব্লক এলাকায় বালু উত্তোলন করতে বাধা দিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। ড্রেজার মেশিনের শ্রমিক ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে মহিষবাথান এলাকার শরিফুল ইসলাম, এমদাদুল হক, বুলু, মিজানুর রহমান সহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জন কে আসামী করে মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রামবাসী জানায় বালু মহালের নীতিমালা অনুসারে সেতু, কালভাটর্, বাঁধ ,সড়ক মহাসড়ক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন সরকারী বেসরকারী স্থাপনার ১ কিমি এর মধ্যে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
কিন্তু মহাবেপুর উপজেলা প্রসাশন এবং বালু দস্যুরা কেহই সরকারী নীতিমালাকে তোয়াক্কা করছে না। নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে ৫শ কিলোমিটার সিসি ব্লক দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মান করেন। তার পরেও উপজেলা ভূমি অফিস বালু মহাল চিহ্নিত করেন মহিশবাথান ঘাট। যে কারনে বালু ব্যবসায়ীরা কোন কিছু তোয়াক্কা না করে সিসি ব্লক এরিয়ার মধ্যে ৮/১০ টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। এতে বাঁধ হুমকির মুখে পড়লেও তাদের কিছু যায় আসে না। নৌকা পারাপার ঘাটের দক্ষিন পাশের কোন ড্রেজার মেশিন ছিল না বর্তমান বালু ব্যবসায়ীরা দক্ষিন পাশের ৬ মাস পূর্বে ৩টি ড্রেজার মেশিন তীর সংলগ্ন স্থানে বসিয়ে অবাধে বালু তুলতে থাকলে নতুন করে সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ে। নতুন করে সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ায় এলাকা বাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রক্ষায় সিসি ব্লক এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গত ২০ অক্টোবর গনস্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্র পৃথক পৃথকভাবে নওগাঁ জেলা প্রশাসক, মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাদেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে মহাদেবপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম গত বুধবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করে আসেন বলে গ্রামবাসীর ভাষ্যে জানা যায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার আবারও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলতে থাকলে গ্রামের মহিলালা দলবদ্ধভাবে নদী পার হয়ে ঐ ড্রেজার মেশিন কেটে ফেলে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানায়। এবং ঐদিন বিকাল ৩ টার দিকে আবারও একটি ড্রেজার মেশিন চালু করলে আবারও গ্রামে মহিলারা নদী পার হয়ে ঐ ড্রেজার মেশিন কেটে ফেলে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এ সময় গ্রামের মেয়েরেদর উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথা বার্তা বললে এক যুবককে মারপিট করেন মেয়েরা। ঐ দিন সন্ধ্যায় ড্রেজার মেশিনের শ্রমিক ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত
করে আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের
করেন। মহাদেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান বালু মহাল দেখভালের বিষয়টি আমার না এটি দেখবেন ইউএনও। আমি মূলত আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি লক্ষ্য রাখি। আমাকে একটি অনুলিপি দিয়েছে গ্রামবাসী। সেখানে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না হয় এজন্য একজন অফিসারকে পাঠিয়েছিলাম দেখার জন্য। সেখান ড্রেজার মেশিন কর্তন এবং শ্রমিকদের মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আর কোন অঘটন যাতে না ঘটে আমরা লক্ষ্য রাখছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান প্রায় ৩ মাস পূর্বে এলাকাবাসীর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য তহসিলদার ও এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছিলাম সেখানে তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বালু উত্তোলনের কারনে সিসি বøকের কোন ক্ষতি হচ্ছে না। তবে বর্তমানে যদি কোন ক্ষতি হয় আমি ২/১ দিনের মধ্যে নিজে তদন্ত করে দেখব বিষয়টি। বর্তমানে বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে বালু তোলা বন্ধ আছে। মহিশবাথান এলাকার শরিফুল, এমদাদুল, বুলু, মিজানুর সহ অর্ধশতাধিক লোকজনরে সঙ্গে কথা বললে তারা জানায় বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে এবং বাঁধ যদি ভেঙ্গে যায় এলাকার বাড়ীঘর অফিস আদালত সহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। সিসি ব্লক আশেপাশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযোগ করে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখানে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close