বাঘাশিরোনাম

বাঘার সেই পাখিদের দায়িত্ব নিলো র‌্যাব

ষ্টাফ রির্পোট: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে আসা অতিথি পাখি শামুকখোল রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে র‌্যাব ৫-এর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান বাউসা গ্রামের ওই আমবাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় বাসা না ভাঙা এবং পাখি শিকার না করার জন্য তিনি আম চাষিদের অনুরোধ জানান। সেখানে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ‘পাখি মারা দণ্ডনীয় অপরাধ’ এমন লেখা-সংবলিত লিফলেটও বিতরণ করা হয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‌্যাব-৫ অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, র‌্যাব মহাপরিচালকের নির্দেশে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। সরেজমিন গিয়ে বাগানের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। একইসঙ্গে তাদের পাখির বাসা ভাঙতে মানা করেছি। আবার পাখি এখান থেকে তাড়াতেও মানা করা হয়েছে। প্রয়োজনে র‌্যাব থেকে পাখি রক্ষার জন্য গাছগুলো লিজ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছি। তবে তারা বলছে পাখির কারণে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে, যাতে গাছগুলো না মরে। পাখিগুলো যাতে নিরাপদে থাকে। গাছগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি আমরা দেখবো। এরজন্য পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।
তিনি আরও বলেন, পাখির দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পাখির অভয়াশ্রম ধরে রাখতে এবং অতিথি পাখি শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অতিথি পাখি শিকারের খবর পেলে তাৎক্ষণিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খোর্দ্দ বাউসার পাখির অভয়াশ্রম এলাকা পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর র‌্যাব-৫ সিনিয়র পুলিশ সুপার এনামুল হক, বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম, রাজশাহী বন অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার দেবাশীষ দে, ফরেস্টার আশরাফুল ইসলাম।
তবে বাগান মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২৫টি বড় আমগাছ দুই বছরের জন্য সাত লাখ টাকায় আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি লিজ নিয়েছিলেন। তবে অতিথি পাখি গাছে বাসা তৈরি করায় নাকি আম ধরে না এমন অভিযোগ করেছেন লিজ নেওয়া ব্যক্তি। তাই পাখির বাসা পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, র‌্যাব কর্মকর্তারা এসে আমাদের সঙ্গে মতবিনিয়ম করে বাগানের ক্ষতিপূরণ দিয়ে পাখির বাসা রক্ষার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় পাখিপ্রেমিক রফিকুল ইসলাম জানান, বন অধিদফতর থেকে একটি সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে বাগানের পাশে। সাইনবোর্ডে বন্যপ্রাণী হত্যার দায়ে সর্বোচ্চ ১২-১৫ বছরের শাস্তির কথা লেখা থাকলেও অনেকেই তা তোয়াক্কা করেন না। তবে আমগাছ পরিষ্কার করার নামে পাখির বাসা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে বাগান মালিককে আরও ১৫ দিন পর বাগান পরিষ্কারের অনুরোধ করেছিলাম।আমবাগানের পাখির বাসা ভাঙা যাবে না: হাইকোর্ট
এদিকে বুধবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে থাকা পাখির বাসা না ভাঙার জন্য আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই এলাকা কেন অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। আদেশে আদালত অভয়ারণ্য ঘোষণার কারণে বাগানমালিক বা ইজারাদারের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, তা নিরীক্ষা করে ৪০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close