চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে এলাকাবাসীর অভিযোগ

 

মো: সজিব ইসলাম,চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা নদীর গোপালপুর ও চন্দন শহর ঘাটে নদীর বুকে জলধারায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন (খননযন্ত্র) বসিয়ে বেপরোয়া বালু উত্তোলন রোধে রবিবার ১২টায় এলাকাবাসী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চারঘাট উপজেলার গোপালপুর,চন্দন শহর ও পিরোজপুর গ্রাম গুলি নদীর তীরবর্তী।এসব গ্রামের অনেক অংশ ইতি মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।পদ্মা নদীর ভাঙনের আশংকা নিয়ে এসকল এলাকার মানুষগুলো নদী সংলগ্ন চরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
এমতাবস্থায় চারঘাট মৌজার বালুঘাট ইজারাদাররা তাদের নির্দিষ্ট এলাকা পার হয়ে গোপালপুর ও চন্দনশহর মৌজার পদ্মা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে হাজার হাজার ট্রাক বালু উত্তোলন করছে।যা ঐ সকল এলাকার হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলাদি সহ অনেক ক্ষতি সাধন হবে।ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন কেন্দ্র করে যে কোনো সময় রক্তপাত হওয়ার আশংকা আছে বলে তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার নদীর তীরবর্তী গোপালপুর ও চন্দনশহর এলাকার লোকজন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন করতে কতৃপক্ষকে নিষেধ করে।ড্রেজার মেশিং তাদের চিহ্নিত বালু মহালের ভেতরের নিয়ে যেতে বলে।তাতে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে এলাকাবাসীর তর্ক বিতর্ক হয় এবং বালু উত্তোলনকারীরা চলে যায়।
পরবর্তীতে সেদিন (শুক্রবার) রাতে বালু ব্যাবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান উকিল বাদী হয়ে ঐ এলাকার তিনজনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন।তিনি অভিযোগ পত্রে তিনজন তার কাছে বালু উত্তোলন করতে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবী করেন বলে উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগকারী হযরত আলী বলেন, বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী। তারা কাউকে তোয়াক্কা করে না। যেভাবে বালু তুলছে এটা অব্যাহত থাকলে নদী ভেঙ্গে এলাকার লোকজন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি জনগুরুত্বপূর্ন অভিযোগটি আমলে নিয়ে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বালু উত্তোলনকারী মোস্তাফিজুর রহমান উকিলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান,আমরা নীতিমালা অনুসরণ করে বালু তুলছি।তবে বালু উত্তোলনের নির্দিষ্ট সীমানা তার জানা নেই।উপজেলা প্রশাসন থেকে সীমানা চিহ্নিত করে দিলে তিনি সেই সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করবেন না বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম বলেন,গোপালপুর,চন্দনশহর ও পিরোজপুর এলাকার হাজারো লোকজন এসে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছে।যেহুতু আমি একজন জনপ্রতিনিধি।সাধারন জনগণের ক্ষতি হয় এসকল কাজকে আমি সাপোর্ট করিনা।তিনি সাধারন মানুষের এ দাবীর পক্ষে থেকে অবৈধ ভাবে যেনো বালু উত্তোলন না হয় সে ব্যাবস্থা করতে কতৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন,যখন বালু মহাল গুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়,তখন বালু উত্তোলনের সীমানাও নির্ধারন করে দেওয়া হয়।তারপরেও যদি নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে কেউ বালু উত্তোলন করে তবে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close