চারঘাটশিরোনাম-২

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: গত ১ নভেম্বর দৈনিক রাজশাহী সংবাদ ও আমার রাজশাহী অনলাইন পত্রিকায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বাবা গোলাম রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, মৃত গোলাম রহমানের ছেলে মোঃ আবু ফয়সাল। মোঃ আবু ফয়সাল প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়:
গত ১ নভেম্বর দৈনিক রাজশাহী সংবাদ ও আমার রাজশাহী অনলাইন পত্রিকায় আমার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বাবা গোলাম রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত একটি মিথ্যা সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদগুলোতে একটি মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রহমানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩২ বছরের সদস্য ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে এমন সংবাদ আমাদের মর্মাহত করেছে।আমরা সংবাদগুলোর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রকৃত ঘটনা হলো,অভিযোগকারী আমাদের প্রতিবেশী আজব আলী, পিতা আজর আলী উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই একের পর এক নানা অভিযোগ করে আসছেন। কখনও মামলা ও অভিযোগের বাদী এবং কখনও সাক্ষী হয়ে আমাদের হেনস্থা করেছেন।কিন্তু সংশ্লিষ্টদের তদন্তে এসব অভিযোগের একটিও প্রমানিত হয় না। শুধু আমাদের হয়রানি করার জন্য অভিযোগগুলো করা হয়।তার মিথ্যা মামলার কারনে আমাদেও প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আমাদের ছাড়াও এলাকার অনেক মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। এসবের প্রতিবাদে এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।
আজব আলী আমার প্রয়াত বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আমার বাবা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আর আজব আলীই একাত্তরে সংখ্যালঘুদের মালামাল লুটপাঠ করেছেন। অপর পক্ষে আমার বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য এবং আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করেছে আমাদের পরিবার। যার ফলে রাজাকারেরা আমাদের বাড়ি ভাংচুর করেছে ও লুটপাট করেছে। রাজাকারেরা আমার বাবাকে পাকবাহিনীর হাতে তুলেও দিয়েছে। পাকিস্তানী সেনারা সারদা পিটিসিতে ধরে নিয়ে গিয়ে আমার বাবাকে ব্যাপক নির্যাতন করে মৃত ভেবে পদ্মা নদীর পাড়ে ফেলে রেখে যায়। ঝিকড়া গ্রামের বাসিন্দারা আমার বাবাকে উদ্ধার করে জীবন রক্ষা করেন।
বিষয়গুলো তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুস্তম আলী, থানা কমান্ডার দেলসাদ চৌধুরী ,পান্নাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দেলসাদ আলী,মুক্তিযোদ্ধা জামরুল ইসলাম সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীন ব্যক্তিরা সবাই জানেন। এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে আজব আলী মিথ্যা অভিযোগ করায় সম্প্রতি ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ মুক্তিযোদ্ধাগণ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং জনপ্রতিনিধিরা বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমার বাবা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আর ১৯৯৪ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় তালিকার দ্বিতীয় খন্ডে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার বাবার নাম আছে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও তৎকালীন সংসদ সদস্য চারঘাটের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে সনদ দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করেন। সেখানেও আমার বাবার নাম আছে। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যয়নে যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যাচাই বাছাই করেই আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ দিয়েছে এবং গেজেট প্রকাশ করেছে কতৃপক্ষ। ২০১৭ সালের সর্বশেষ যাচাই-বাছাইয়েও আমার বাবাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমার বাবাকে বিতর্কিত করার কোন সুযোগ নেই। তাই আমি প্রকাশিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বরেন্দ্র বার্তা/মোসই/অপস

Close