মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

দুই প্রশাসনের নোংরা রাজনীতিতে থমকে রাবির স্মৃতিফলকের কাজ

কামরুল হাসান অভি, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের উত্তর-পশ্চিম পাশে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। গত ১০ আগস্ট ২০১৬ সালে এ স্মৃতিফলকের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন।
তবে নির্মাণকাজ চলাকালীন সময়ে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্বে অধ্যাপক আব্দুস সোবহান আসার পর দুই প্রশাসনের রেষারেষিতে ও নোংরা রাজনীতির চর্চার কারণে থমকে আছে স্মৃতিফলকের নির্মাণ কাজ এমনটি অভিযোগ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া কবে নাগাদ শেষ হচ্ছে র্র্নিমাণ কাজ সে নিয়েও তাদের মনে সৃষ্টি হয়েছে নানান প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্মৃতিফলকটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬১ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে স্মৃতিফলকের নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার শর্ত ছিল আহবায়ক কমিটির। সে অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হয়ে তিন বছর পার হলেও অর্ধেকেরও বেশি কাজ পড়ে আছে।
এর আগে ১৫ এপ্রিল ২০১৭ এই বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি অবমাননার অভিযোগ তুলে সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও স্থানীয় মহানগর আওয়ামী লীগ। এদিন নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার এই প্রতিকৃতি সংস্কারের দাবি জানান।
জানতে চাইলে নির্মাণ কমিটির আহবায়ক ও ভূতত্ত¦ ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সুলতানুল-উল-ইসলাম বলেন, স্মৃতিফলকটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর ভৌত কাঠামো নির্মাণ ও শৈল্পিক এই দুইটি পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে কাজ চলছিল। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন আসায় নানা কারনে কাজ বন্ধ থাকে। এর নির্মাণ কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে আমি অনেকবার প্রশাসন বরাবর কথা বলেছি সেখানে কোন সাড়া পায়নি। বরং তারা মাঝে মাঝে কিছু পাথর ও গাছ রোপন করেছে সেটার ব্যাপারেও আমাকে কোন অবহিত করা হয়নি। এমনকি এ প্রশাসন আমাদের করা নির্মাণ স্মৃতিফলকের কাজ নিয়ে পর্যবেক্ষন কমিটি গঠন করেছে সেটা আমি একবছর অতিবাহিত হওয়ার পর ২০১৮ সালে জানতে পেরেছি।
স্মৃতিফলকের নির্মাণ কাজ নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মিত হওয়ায় এ নিয়ে গর্ববোধ করছিলাম। কিন্তু ভাবিনি মুক্তিযুদ্ধের নির্মাণ কাজ নিয়েও এতটা রাজনীতি হবে।
এ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল তিন বছর আগে আর সেটা এখনও বিশ^বিদ্যালয়ের নোংরা রাজনীতির কারনে আটকে আছে। আমি প্রশাসন বরাবর সবিনয়ে বলতে চায়, আমাদের আবেগের জায়গা মুুক্তিযুদ্ধ এবং নির্মাণাধীন যে স্মৃতিফলক সেটি আমাদের অনেক গর্বের বিষয়। তাই যত তাড়াতাড়ি পারা যায় এটির কার্য সম্পাদন করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করছি।
স্মৃতিফলকের নির্মাণ কাজ থেমে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, দৃশ্যত থেমে আছে দেখালেও প্রকৃত অর্থে নির্মাণ কাজ থেমে নেই। ভিসি মহোদয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে তিনি বিষয়টি দেখছেন। তাছাড়া অতি দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্মৃতিফলক নির্মাণে এমন দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড.ফরিদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শিক্ষক-ছাত্রসহ সকল মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষণীয় আজ অবধি সেই স্মৃতিফলকের কাজ সমাপ্ত হয়নি।
আরো বেশি হতাশাজনক শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য স্মৃতিফলক নির্মাণেও আমাদের রাজনৈতিক বিভেদ ও দৈণ্যতা সুস্পষ্ট হয়েছে। শুরুতে মূল নকশায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কোন প্রতিকৃতি এখানে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তীতে একটি মহলের দাবির মুখে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিও সংযোজন করা হয়। কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির অবস্থানগত তারতম্যের বিষয়ে আপত্তি উঠে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিফলক নির্মাণে যে গড়িমসি এবং দ্বিধাদ্বন্দ সেটা অত্যন্ত অনাকাঙ্ঘিত এবং অগ্রহণযোগ্য। আমি বর্তমান প্রশাসনকে অনুরোধ করছি এই বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই যেন অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে শহীদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানাতে সমর্থ হয়।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close