জাতীয়শিরোনাম-২

ওয়ার্কার্স পার্টির ৬ নেতার খোলা চিঠি

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ছয় নেতা আগামী ২৯ নভেম্বর সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ, বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তি ও বিলোপবাদী ধারার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ছয় কেন্দ্রীয় নেতা পার্টির সবসদস্যদের প্রতি আসন্ন ১০ম পার্টি কংগ্রেস বর্জন করে সত্যিকারের বিপ্লবী পার্টি, কমিউনিস্ট ঐক্য, বাম-গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
প্রিয় কমরেডগণ
১৯৯২ সালের ৪ঠা মে ঐক্য কংগ্রেস গৃহীত মতাদর্শগত, নীতি ও কৌশল থেকে পার্টি ক্রমাগত দক্ষিণপন্থী, বিলোপবাদী ধারায় অধঃপতিত হয়েছে। ঐক্য কংগ্রেসের লক্ষ্য ছিল কমিউনিস্ট ঐক্যকে এগিয়ে নেওয়া, বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামই হবে পার্টির ভিত্তিমূলক কাজ। পার্টির বর্তমান নেতৃত্ব ঐক্য কংগ্রেসের মতাদর্শ নীতি, কৌশল ও সংগঠন সম্পর্ক গৃহীত ভিত্তি ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে পার্টির অভ্যন্তরে মতাদর্শগত বিচ্যুতি, বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তি ও বিলোপবাদী রাজনীতির বিরোধিতা করে আসছি। ইতোমধ্যে পার্টি তার সংগ্রামী ভাবমূর্তি হারিয়ে ফেলেছে। ফলে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পার্টি ও তার গণসংগঠনসমূহ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ১৪ দলের সঙ্গে কর্মসূচিভিত্তিক ঐক্য, হাতুড়ি ছাড়া নৌকা মার্কায় নির্বাচন ও সরকারের মন্ত্রীত্ব গ্রহণের মাধ্যমে পার্টির নীতি আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। এই ভ্রান্তনীতির ফলে পার্টির অগণিত নেতাকর্মী এবং জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বরিশাল জেলা সম্মেলনে অগণিত পার্টি কর্মী এবং জনগণের দাবির মুখে ২০১৮ সালের প্রহসনের নির্বাচন সম্পর্কে পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন যে সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, পরেরদিন তার ইউটার্ন পার্টি অনুসৃত বর্তমান রাজনীতিরই অনিবার্য ফল।
বাংলাদেশে বর্তমান বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয়, দুর্নীতি দুর্বত্তায়ন যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য ১৪ দল ও সরকার দায়ী। ওয়ার্কার্স পার্টির এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাতে করে আর ১৪ দল ও সরকার নয়, পার্টির স্বাধীন ভূমিকা নিতে হব। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সবপ্রকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বর্তমান মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে সংস্কারবাদী, সুবিধাবাদী পার্টিতে পরিণত হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব আজ রাজনৈতিক দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুর্নীতিতে আক্রান্ত, বাস্তবতার নামে বুর্জায়া, লেজুড়বৃত্তি রাজনৈতিক লাইন ও জোটনীতি তথা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যের যে নীতি-কৌশল গ্রহণ করে চলেছে, তা ওয়াকার্স পার্টি অধঃপতিত হয়ে দেউলিয়া পার্টিতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তঃপার্টি সংগ্রাম তথা দুই লাইনের সংগ্রামকে গলাটিপে হত্যা করতে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বিভিন্ন জেলায় অবিশ্বাস্য সংখ্যক পার্টি সভ্যপদ দেওয়ার মাধ্যমে ভুয়া প্রতিনিধিদের ১০ম পার্টি কংগ্রেসে উপস্থিত করানোর সব আয়োজন ও প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কংগ্রেস অনুষ্ঠান পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় পার্টি সভ্যপদ যাচাই-বাছাই করার প্রস্তাব আমরা উত্থাপন করেছিলাম। কিন্তু সভ্যপদ যাচাই-বাছাইয়ের ওই প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। সুতরাং এ কথা এখন নির্দ্বিধায় বলা যায়, পার্টি সভ্যপদ যাচাই না করে অবৈধ প্রতিনিধিদের নিয়ে পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলে ওই কংগ্রেস হবে অবৈধ কংগ্রেস। তাই নতজানু আপসকামী তথা তালমিল করে চলার নীতি পরিহার করে আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতে আমরা ১০ম পার্টি কংগ্রেসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। লাল পতাকাকে সমুন্নত রাখতে দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদকে পরাস্ত করে সত্যিকারের বিপ্লবী পার্টি, কমিউনিস্ট ঐক্য, বাম-গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে সব পার্টি কমরেডদের এই প্রহসনের কংগ্রেসে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী ২৯ নভেম্বর এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই সম্মেলন সফল করার জন্য প্রস্ততি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
বিপ্লবী অভিনন্দনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষে পলিটব্যুরোর সদস্য নুরুল হাসান, ইকবাল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন হবি, কেন্দ্রীয় কমিটির বিকল্প সদস্য মোফাজ্জল হোসন মঞ্জু, তুষার কান্তি দাস। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close