চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে লাভবান কৃষকরা

মো: সজিব ইসলাম, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে বদলে দিয়েছে বহু কৃষকের ভাগ্য। এ বছর আশানুরূপ দামের থেকেও বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি তাই বেশি করে সবজি চাষে ঝুকছে এ উপজেলার কৃষকরা। উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেই এখন কৃষক ঘরে তুলছেন নগদ অর্থ।

আর এই শীত মৌসুমে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা আগ্রহের সঙ্গে ট্রাকে করে লাখ টাকার ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কুমড়া, সিম, লাউ, বরবটি, পালং শাক ও লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি নিয়ে যাচ্ছেন।

এ উপজেলা অনেক কৃষক এই শীত কালীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আর এ দৃশ্য দেখে বাজারে সবজির দাম বেশি থাকায় বর্তমান এলাকার কৃষকরা সবজি চাষে ঝুকে পড়েছেন।

উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের আবুল হোসেন তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি জানান, পরিবারের দারিদ্রতার কারণে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি। জীবন যুদ্ধের তাগিদে সম্পৃক্ত হন কৃষিকাজে। কৃষি কাজ নিয়েই চলছে তাদের জীবনের সংগ্রাম।

তিনি পড়ালেখা তেমন না থাকায় কি করবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তিনি শুরু করেন সবজি চাষ। আর এই সবজি চাষের বদলৌতে বদলেগেছে তাঁর ভাগ্য। পরিবারের আর্থিক কষ্ট অনেকটা কমে গেছে। গত বছর শীত মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে তিনি সবজি চাষ করে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর তিনি সবজি চাষ করেছেন সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে।

ঝিকড়া গ্রামের আশরাফুল হোসেন জানান, গত বছর ১০ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। ফলে এবছরও একই আবাদ করছেন। কিছু দিনের মধ্যে বিক্রয়ও শুরু করবেন। তার চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন। গত বারের চেয়ে এবার দামও অনেক বেশি। আশা করছেন আগের বছরের চেয়ে এবার আরো বেশি লাভ হবে।

নিমপাড়া ইউনিয়নের রফিকুল জানান, ৬/৭ বছর আগে রবিশস্য চাষাবাদ করতেন তিনি। তাঁতে খরচই উঠত না। কষ্টে করে দিন কাটত তাঁদের। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। অনেক ভেবে চিন্তে শুরু করেন লাউ চাষ। লাউ চাষের শুরুতেই আসে তাঁর সফলতা।

এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে। লাউ চাষে দুইটি লাভ খুঁজে পায় তিনি। প্রথমে লাউ বিক্রয়, এরপর লাউয়ের ডগা বিক্রয়। চলতি বছরে ১ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন তিনি। লাউ চাষে মাচা তৈরি সহ তাঁর খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তিনি এ পর্যন্ত ঐ ক্ষেত থেকে লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন ৫৫ হাজার টাকা । আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

এই উপজেলার সিম চাষী লইম বলেন, আমি এ বছর ১ বিঘা জমিতে আগাম সিম চাষ করেছি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার টাকার সিম বিক্রয় করেছি। সেই টাকা দিয়ে আমি ১টি গরু ক্রয় করেছি।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার হাজার বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা।অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি চাষ হয়েছে বাঁধা কপি ও ফুল কপি।সরদহ ইউনিয়নে সবজির আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

সরজমিনে স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি নতুন গাজর ১৫০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০/৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫/৩০ টাকা, ওলকপি ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, বেগুন ৪০টাকা, বরবটি ৪০, লাল শাক ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শসা ৩০/৪০ টাকা, টমেটো ৮০/১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০/৮০ টাকা, পালং শাক ৬০/৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ মুনজুর জানান,চারঘাট উপজেলায় আগে সবজির আবাদ কম হতো।এ বছর এখন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষবাদ হয়েছে। সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তারা বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

তিনি আরও বলেন বাজারে সবজির দাম ভালো থাকায় এলাকার কৃষকরা সবজি চাষ আরও বেশী করে চাষাবাদ করছেন। এবছর আরোও জমিতে সবজি চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close