বগুড়াশিরোনাম-২

বাবুরপকুর শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের কর্মসূচী

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: আগামীকাল ১১নভেম্বর বাবুরপকুর শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদ সকাল ৮টায় বাবুরপকুর শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা করবে।
বাবুরপকুর শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি মো: নাদিম মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন শহীদদের স্মরণে বিবৃতিতে বলেন, আগামীকাল ১১ নভেম্বর বাবুরপুকুর শহীদ দিবস।
১৯৭১ সালের এই দিনে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া শহীদ নগর এলাকায় হানা দেয় পাকিস্তানি বাহিনী। সেখান থেকে হানাদাররা এক মহিলাসহ ২১ জনকে তুলে নিয়ে যায়। তৎকালীন বগুড়া সদর বর্তমানে শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের টেঙ্গামাগুর হাটের উত্তর পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের মধ্য থেকে ১৪ জনকে ব্রাশফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসেই বগুড়ার ঠনঠনিয়া এলাকার কিছু তরুণ ও যুবককে সংগঠিত করেন মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি মাহফুজুর রহমান পশারী মান্নান এবং তাঁর ছোটভাই শহর ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আব্দুল হান্নান পশারী। তাঁদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি চলতে থাকে সেখানে। এদিকে মে মাসেই ওই এলাকায় গঠন করা হয় শান্তি কমিটি। শান্তি কমিটির নেতারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিতদের একটি তালিকা প্রণয়ন করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায় ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে রোজা শুরু হয়। অনেকে যুদ্ধের মাঠ থেকে বাড়ি ফেরেন স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর ছিল রমজানের ২১ তারিখ। ওই দিন শেষ রাতে সবাই যখন সেহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই সময় শান্তি কমিটির সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হানা দেয় ঠনঠনিয়ার শাহ পাড়া, মণ্ডলপাড়া, তেঁতুলতলা, হাজীপাড়া ও পশারীপাড়ার বেশ কিছু বাড়িতে। হানাদার বাহিনী সেসব বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা ও তৎকালীন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি মান্নান পশারী ও তাঁর ভাই হান্নান পশারী, ন্যাপের কর্মী ওয়াজেদুর রহমান টুকু, জালাল মণ্ডল ও তাঁর ভাই মন্টু মণ্ডল, আব্দুস সবুর ওরফে ভোলা মণ্ডল, মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, আলতাফ আলী, বাদশা শেখ, বাচ্চু শেখ, ফজলুল হক খান, বগুড়া টিঅ্যান্ডটির অপারেটর নূর জাহান, আবুল হোসেন ও তাঁর বাবা গেদু জিলাদার, ছোট ভাই আশরাফ আলী, জনাব আলী ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর খন্দকার, সিবের আলীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিনজনকে।
ছাত্র ইউনিয়ন এর জন্মলগ্ন থেকেই নেতাকর্মীরা দেশের ও দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রয়োজনে বাবুরপকুর শহীদদের মত নিজেকে উৎসর্গ করেছে। আমরা বাবুরপকুর দিবসে সরকার ও প্রসাশন কে বলতে চাই বাংলাদেশ বিরোধী মৌলবাদী,জামাত-শিবির, শান্তি কমিটির নেতাকর্মীদের সম্বনয়ে বাবুরপকুর শহীদদের মত অনেক বাঙ্গালীদের হত্যা করেছে। এই হত্যাকারীদের স্বাধীন ও মুক্তিযুদ্ধের দেশে রাজনীতী নিষিদ্ধের জোর দাবি জানাই। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close