নওগাঁশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

মহাদেবপুরে নিলাম বহির্ভূতভাবে ২৭টি গাছ বিক্রির অভিযোগ

মো.আককাস আলী, নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুরে নিলাম বহির্ভূতভাবে চককৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২৭টি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সাতটি গাছ বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং ও লক্ষাধীক টাকা মূল্যের ২০টি গাছ গোপন নিলামে নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ দায়েরের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কতৃপক্ষ। এ ব্যাপারে গত ২০ অক্টোবর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন সুজন সু-শাসনের জন্য নাগরিক এর নওগাঁ জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কিউএম সাঈদ টিটো ও বরুন মজুমদার।
এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিলাম বহির্ভূতভাবে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের চককৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোপর নিলামের অতিরিক্ত সতটি গাছ বিক্রি করে আতœসাৎ করা হয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে আম-কাঠাল, তালসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধীক টাকা মূল্যের ২০টি গাছ গোপন নিলামের মাধ্যমে গত ২০ আগষ্ট ১৫ হাজার ৬’শ ৮৫ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। গত ২০ আগষ্ট বিদ্যালয় চত্বর বা আশপাশের কোথাও নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ২০টি গাছ গোপন নিলামে বিক্রি করা হলেও গত ১৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ২৭টি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায় কাঠ ব্যবসায়ীর লোকজন। এছাড়া নামমাত্র গাছ নিলামে বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগও রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে।
প্রধান শিক্ষকের বলেন, বন বিভাগ গাছগুলো যাচাই-বাছাই করে দাম নির্ধারণ করেন। এরপর ২০ আগষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ, উপজেলা বন কর্মকর্তা আহসান হাবিব, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গো চন্দ্র বর্মণ ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে ২০টি গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে ১০ জন অংশগ্রহন করেন। এ সময় সর্বোচ্চ দরদাতা উপজেলার হাতুড় গ্রামের আবুল হোসেনের কাছে ১৫ হাজার ৬’শ ৮৫ টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়। গোপন নিলামে গাছ বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে।
নিলামে উপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ বলেন, ‘আমি বা আমার কোন প্রতিনিধি চককৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ নিলামে উপস্থিত ছিলাম না।’ গোপন নিলামে ২০টি গাছ বিক্রয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত সাতটি গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে চককৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আহসান হাবিব বলেন, ‘আমার যা বলার তদন্ত কমিটির নিকট বলবো।’ উপজেলা বন কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে।’
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ভোদন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, দু’জন সহকারী শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা তদন্ত করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close