ছবি ঘরজাতীয়নাগরিক মতামতশিরোনাম-২

গোর্কি (১২ নভেম্বর ১৯৭০)

অর্ণব পাল সন্তু: আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর আজকের এই দিনে ভয়াল গোর্কির আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় ভোলাসহ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। ২০ ফুটেরও বেশি পানিতে তলিয়ে যায় গোটা জনপদ। প্রাণ হারায় লক্ষাধিক মানুষ। দুর্বিষহ সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি মানুষ। ঘটনার ৪৯ বছর পরও প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে।
অন্যদিকে আজও এই ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস ঘোষণার দাবি স্থানীয়দের। সেদিন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল ভোলার বিস্তীর্ণ জনপদ। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, মনপুরা, কুক্রী-মুক্রী ঢালচর ও চর নিজামসহ বিভিন্ন দ্বীপচরের বেশিরভাগ মানুষই প্রাণ হারায়। গোটা এলাকা পরিণত হয় মানুষ আর গবাদিপশুর লাশের স্তূপে। সত্তরের সেই যন্ত্রণাময় স্মৃতি নিয়ে এখনও দিন কাটাচ্ছে ভোলাবাসী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ জাতীয় নেতারা জলোচ্ছ্বাস পরবর্তী সময়ে ভোলায় এসে পাক সরকারের অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতা দেখে হতবাক হয়ে যান। ভোলাবাসী মনে করে গোর্কি মোকাবিলায় তৎকালীন সরকারের উদাসীনতা দেশের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যাপকভাবে তরান্বিত করেছে। সত্তরের গোর্কির মতো যেন এমন আর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের কবলে ভোলাবাসীকে পড়তে না হয়, সেটাই জেলার ২২ লাখ মানুষের প্রত্যাশা।
ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপপরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ভোলার সক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়লেও তা যথেষ্ট নয়। এমনকি দ্বীপবাসীর নিরাপত্তায় এখনও নির্মিত হয়নি প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র। ভোলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাক জানান বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিইডির মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ৪২টি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ শেষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া আরও ৯৭টি নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ ঠিকাদারকে দেওয়ার অপেক্ষায়।

Close