বিনোদন

বিয়ে করলেন গুলতেকিন, কি বললেন পুত্র নুহাশ

বিনোদন ডেস্কঃ নন্দিত কথাশিল্পী প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হয়েছেন। পাত্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমেদ। গুলতেকিনের পারিবারিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গুলতেকিনের বনানীর বাসায় অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, গুলতেকিনের মতো আফতাব আহমেদেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েক বছর আগে তারও বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। আফতাবের একমাত্র ছেলে লন্ডনে পড়াশোনা করছেন।

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য বিচ্ছেদে গড়ায় ২০০৪ সালে। হুমায়ূন-গুলতেকিনের তিন কন্যা নোভা, শীলা, বিপাশা ও এক পুত্র নুহাশ। গুলতেকিনের চার সন্তানের সম্মতিতে এই বিয়ে হয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিয়ে অনুষ্ঠানে ঢাকায় বসবাসরত গুলতেকিনের ছেলে-মেয়েরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের কয়েকদিন পর গুলতেকিন যুক্তরাষ্ট্রে তার ছোট মেয়ে বিপাশা আহমেদের বাসায় বেড়াতে গেছেন।

বিপুল জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখালেখিতে অনেক সময়ই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের অবতারণা করতেন। সেই সূত্রেই বাঙালি পাঠকদের কাছে আশি ও নব্বই দশকে গুলতেকিন অতি পরিচিত এক জীবন্ত চরিত্র হয়ে ওঠেন। ১৯৭৬ সালে ১৫ বছরের কিশোরী গুলতেকিনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। তারপর দীর্ঘ প্রায় তিন দশকে গুলতেকিনের সঙ্গে তার সংসারের খুটিনাটি বহু বিবরণের সঙ্গে হুমায়ূনের পাঠকরা পরিচিত। তেমনই বিপুল আলোচনার বিষয় হয় হুমায়ূনের সংসার ভেঙে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত।

২০০৪ সালে গুলতেকিনকে ডিভোর্স দেন হুমায়ূন। পরের বছর তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের জুলাইয়ে হুমায়ূন আহমেদ ৬৪ বছর বয়সে মারা যান। রাজধানীর একটি খ্যাতনামা ইংরেজি স্কুলের শিক্ষক গুলতেকিন খান কয়েক বছর সাহিত্যচর্চা বিশেষত কাব্যচর্চায় মনোযোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

কি বললেন পুত্র নুহাশ-
একটি গণমাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের বড় ছেলে নুহাশ মায়ের বিয়ে নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মা শক্ত হাতে আমাদের বড় করেছেন। কখনো কোনো অভাব বুঝতে দেননি। মা সবসময়ই আমাদের কাছে আইডল। মা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন আমার কোনো দুঃখবোধ ছিল না। বরং আমি অনেক খুশি হয়েছি।

আমি মায়ের সঙ্গেই ছিলাম এ ব্যাপারে। তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। আমি নিজে থেকে মায়ের বিয়ে দিয়েছি। এটা লুকানোর কিছু নেই। সামনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও হবে। এটা নারীদের জন্য নতুন একটা দ্বার উম্মোচন হলো বলতে পারেন।’
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close