চারঘাটশিরোনাম-২

দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়ে খুশি চারঘাটের অসহায়রা

মোঃ সজিব ইসলাম, চারঘাটঃ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়বড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জমির আলী। গত ১৫ বছর যাবৎ একটি হাত নাড়াচাড়া করতে পারেন না তিনি। তারপরও অতি কষ্টে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকেই শুরু করেছেন নতুন যুদ্ধ।

ছেলে ও তার টিনের দুটো কুঁড়ে ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস শুরু করেতে থাকেন জমির আলী। টিনগুলো অনেকদিনের হওয়ায় অসংখ্য ছিদ্র হয়ে যায়। ফলে বর্ষায় পানি এবং শীতে হিমেল হাওয়া ঢুকতো। সামান্য আয় দিয়ে কোনো রকমে চলতো তার সংসার। ঘর সারানোর অর্থ জোগাড় করতে সক্ষম হননি তিনি। তবে এখন জমির আলীর দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। মাস খানেক আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়েছেন তিনি। এখন সেখানে তার সহধর্মীনিকে নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করছেন ।

শুধু জমির আলীই নয়, তার মতো উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অসচ্ছল, হত দরিদ্র, গৃহহীন পরিবার, বিধবা, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ, অসচ্ছলরা আধা পাকা বাড়ি পেয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে চারঘাট উপজেলার ১৫টি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দিয়েছে সরকার। এমন বাড়ি পেয়ে খুশি তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অসহায়সহ এলাকাবাসী। তবে চাহিদার তুলনায় বাড়ি অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন তারা।

ত্রাণ ও পূর্নবাসন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ৪০০ বর্গফুটের ওপর বাড়িগুলো পাঁচ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ২ কক্ষের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। প্রতিটি ঘরে দুটি করে লোহার বা কাঠের দরজা-জানালা, অত্যাধুনিক রঙিন টিনের ছাউনি, বারান্দা, একটি রান্নাঘর, রান্না ঘরে যাওয়ার করিডোর ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন রয়েছে। এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম।১৫টি পরিবারের প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে। বড়বড়িয়া গ্রামের হত দরিদ্র জমির আলী বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলে মেয়েকে মানুষ করেছি। এখনও কষ্ট করেই যাচ্ছি। ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করতাম। এখন সরকার থেকে একটি ঘর দিয়েছে সেখানে বসবাস করছি। ইটের ঘর পাব তা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন শান্তিমতো ঘুমাতে পারছি। দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থভাবে আরও অনেকদিন বেঁচে থাকেন। আর গরিব মানুষের দিকে মুখ তুলে তাকান।

শলুয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের ইন্তাজ আলী বলেন, পারিবারিক সূত্রে পাওয়া সামান্য জমিতে বেড়ার বাড়ি ছিল। নিজের বলতে ওই বেড়ার বাড়েই একমাত্র সম্পদ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন যাপন করি। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ছেলেকে পড়াশুনা করাচ্ছি। সরকার থেকে ৩ মাস হলো ইটের ঘর পেয়েছি। এই ঘর পেয়ে আমি খুবই খুশি।

চারঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামীম আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা বিশেষ উদ্যোগ। দেশের কোনো মানুষ যেন বাস্তুহারা না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)। এর অংশীদার হতে পেরে আমরাও খুশি। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও রান্নাঘর সুবিধাসহ এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের দূর্যোগ সহনীয় বাড়ি দেয়া হচ্ছে যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনব ও চমৎকার উদ্যোগ। বাড়িগুলো পেয়ে হতদরিদ্ররা এতো খুশি হয়েছেন যে আমার সামনে তারা হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা সফলভাবে বাড়িগুলো তৈরি করতে পেরেছি। এতে করে গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ ধরনের বাড়ি নির্মাণের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close