জাতীয়শিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

ফেসবুকে অভিযোগ করে ৮ম হলেন অকৃতকার্য শিক্ষার্র্থী

অনি আতিকুর রহমান, ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অভিযোগ করে মেধাতালিকায় ৮ম হয়েছেন এক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর প্রকাশিত রেজাল্টে প্রথমে তাকে ফেল দেখানো হয়। পরে অভিযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষ ফল সংশোধন করলে মোহাম্মদ আবু সাঈদ নামের ওই শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় ৮ম স্থান অধিকার করেন বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ নভেম্বর থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উপাচার্য অধ্যাপক রাশিদ আসকারীর নিকট ফল হস্তান্তর করে ইউনিট সমন্বকারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। পরে প্রকাশিত ফল বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (িি.িরঁ.ধপ.নফ) তে প্রকাশ করা হয়। একইসাথে মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্তদের ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করা হয়। ওই দিন আবু সাঈদ নামের এক শিক্ষার্থী ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এডমিশন হেল্পলাইন (ওংষধসরপ টহরাবৎংরঃু অফসরংংরড়হ ঐবষঢ়ষরহব) নামক ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে উল্লেখ করেন, বড় ভাইদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি। আমি এমসিকিউ তে ৪৫.৫ পেয়েছি কিন্তু লিখিততে ০ পেয়েছি। অথচ আমার হিসাব অনুযায়ী অন্তত ১০ পাওয়ার কথা যদিও ১৪ টি উত্তর নিশ্চিত। কি জন্য লিখিততে ০ আসতে পারে। এর কি কোন সমাধান আছে?
বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে ইউনিট সমন্বয়কারীকে বিষয়টি জানানো হয়। সংশোধিত ফলে দেখা যায় ওই শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় ১০ পেয়ে মেধাতালিকায় ৮ম তম হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর ২০৩১ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ স্কোর ৪০ এর মধ্যে ৩৮ ছিল। পরে ১৩ নভেম্বর সংশোধিত ফল অনুযায়ী পুণরায় সকল পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মেধাক্রম পূর্বের প্রকাশিত মেধাক্রমের তুলনায় দুই থেকে তিন ধাপ পিছিয়ে যায়। এতে মেধাতালিকায় স্থান প্রাপ্তরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে জানা যায়। ৩২৯ রোলধারী আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী প্রথম প্রকাশিত মেধাক্রমে ২৩৮তম হলেও সংশোধিত ফলে ২৪২ তম মেধাক্রমে স্থান পেয়ে আপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে। জানা গেছে, ‘এ’ ইউনিটের অধীনে ২৪০টি আসন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এ’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. লোকমান হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা পুনরায় সকল খাতা মূল্যায়ন করেছি। পরে সংশোধিত রেজাল্টে মুহম্মদ আবু সাঈদসহ তিন জনের ফল পরিবর্তন হলে তাদেরকে মেধা তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বিষয়টি টেকনিক্যাল ভুল ছিল। সবাইকে পুণরায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তাদের মেধাক্রম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ভর্তি পরীক্ষা টেকনিক্যাল উপ-কমিটি ২০১৯-২০ এর সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃক উত্তরপত্র নিরীক্ষণে কিছু ভুল থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে উত্তরপত্র পুর্নমূল্যায়ন করে বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে।’বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close