বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় গাছ কেটে রাতের আঁধারে জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় আদালতের রায়ে বুঝিয়ে পাওয়া জমির গাছ রাতের আঁধারে কেটে জোর পূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই জমিতে থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক ইউক্যালেকটাস গাছ কেটে রাতেই জমিতে চাষ বাস করে দখলের চেষ্টা চালচ্ছে প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লাঠিসোটা সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে থাকা গাছ কেটে দখল করছে বলে জানাগেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লায়। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে মন্টু ঘরামী ও তার ভাইদের জমির গাছ কেটে জোরপূর্বক চাষবাস করেছে একই মহল্লার মৃত সাহেব এবং ছায়বুল্লাহর ছেলেরা। তাদের ছেলে আহাম্মদ ঘরামী সহ তার ভাইয়েরা মিলে লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র সাথে নিয়ে উক্ত জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নিয়ে যায় এবং জমি চাষ করে ফেলেছে।

জানাগছে, চাঁনপাড়া মহল্লার সানার ঘরামী এবং পানা ঘরামী দুই ভাই মিলে ৪ বিঘা ২ কাঠা জমি। এর মধ্যে থেকে পানা তার অংশের কিছু জমি বিক্রয় করে দেয়। অপরদিকে সানা ঘরামী তার অংশের কোন জমি বিক্রয় করেনি। তার দুই ছেলে মসলেম এবং রায়েব উল্লাহ অংশ পায়। তাদের মৃত্যর পর তাদের ছেলে মন্টু সহ তার ভাইয়েরা ভোগদখল করতে থাকে। এদিকে ভুলক্রমে পানা ঘরামীর নামে রেকর্ড হয়ে যায় ওই সম্পত্তির কিছু অংশ। তার সেই সম্পত্তির অংশ পায় তার দুই ছেলে সাহেব ঘরামী এবং ছায়বুল্লাহ ঘরামী। পিতার মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি রেকর্ড দেখিয়ে সাহেব ঘরামী এবং ছায়বুল্লাহ ঘরামীর ছেলেরা নিজেদের বলে দাবী করে। উক্ত সম্পত্তি ভুলক্রমে রেকর্ড হয়েছে মর্মে সানা ঘরামীর নাতিদের পক্ষে রেকর্ড বাতিল চেয়ে ২০০৯ সালে রাজশাহী সহকারী জজ আদালতে একটি রিট আবেদন করে মন্টু ঘরামী।

দীর্ঘ সময় পর ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী মন্টু ঘরামীর পক্ষে রায় দিয়ে রেকর্ড বাতিল করে মহামান্য আদালত। সেই সাথে গত ২৮ জুন ২০১৯ তারিখে রাজশাহী জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট কমিশনার সারওয়ার জাহান সাদি সরেজমিনে মন্টু ঘরামী সহ তার ভাইদের আইন বলে রেকর্ড বাতিল হওয়া সম্পত্তি বুঝিয়ে দেন। পাঁচ মাস পরে এসে মাহামান্য আদালতের দেয়া রায় অমান্য করে রাতের আঁধারে ওই জমিতে থাকা গাছপালা কেটে জোর চাষবাস করেছে। এমন ঘটনায় উভয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। মন্টু ঘরামী জানায়, আমরা ওই পৈত্রিক সূত্রে ওই জমির অংশিদার। রেকর্ডে ভুরক্রমে তাদের নাম উঠে গেছে। পরে আদালতে মামলা করলে সেই রেকর্ড বাতিল করে মাহামান্য আদালত আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। সেই সাথে আদালতের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জমিটি ফিরিয়ে দেয়া হয়। এবং আমরা ভাইয়েরা মিলে ওই জমিতে গাছ লাগাই। সেই গাছ কেটে রাতের আঁধারে দখলের চেষ্টা করছে আহাম্মদ আলী সহ তার ভাইয়ে।

এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, গাছ কেটে জোরপূর্বক জমি দখলের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপাক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ সরা/ নাসি

Close