মহানগরশিরোনামস্বাস্থ্য বার্তা

রোগীদের জন্য পথ্য সরবরাহের ইচ্ছামতো ঠিকাদার নির্বাচন, রামেকের বিরুদ্ধে আবারও মামলা

ষ্টাফ রির্পোট: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রোগীদের জন্য পথ্য সরবরাহের ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়েছে ইচ্ছামতো। এ নিয়ে আবারও মামলা হয়েছে। মামলায় হাসপাতাল পরিচালক ও দরপত্র কমিটির সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর যুগ্ম জজ আদালতে রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে নাটোরের ঠিকাদার এমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
আদালতের বিচারক জয়ন্তী রানী দাস এমদাদুল হকের আবেদনটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলায় ঠিকাদার এমদাদুল হক অভিযোগ করেছেন, মোট আটটি গ্রুপের মধ্যে চারটি গ্রুপের দরপত্র খোলা হয় প্রকাশ্যে। অন্য চারটি গ্রুপের দরপত্র খোলা হয় গোপনে। গোপনে মাছ, দুধ, স্টেশনারি ও বিবিধ কাজের দরপত্র খোলা হয়। যারা কাজ পেয়েছেন, তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কে কত দর দিয়েছিলেন, তা জানানো হয়নি।
দরপত্র ডকুমেন্টে দেখা যায়, রেশন গ্রুপে শাহাবুদ্দিন হলুদের দর দেন প্রতিকেজি ৫৮ টাকা। কিন্তু কাজটি ১৭০ টাকা দর দিলেও তাকে দেওয়া হয়নি। ২২৫ টাকা দর দেওয়া আজাদ আলীকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। জিরা প্রতিকেজি ১২০ টাকা দর দেন শাহাবুদ্দিন। কিন্তু সরবরাহের কাগজে তাকে দর দেওয়া হয়েছে ৩৫০ টাকা প্রতিকেজি।
জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মামলা হলে তারা আদালতেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।
এদিকে রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের জন্য মোট আটটি গ্রুপে ৩৮ আইটেমের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদাররা এতে অংশ নিয়ে সরবরাহ করতে দরপত্র জমা দেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর দরপত্র বাক্স খোলা হয়। ২৬ অক্টোবর ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কার্যাদেশে হাতে পাওয়ার পর ধরা পরে নানা অনিয়ম। সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে উচ্চ দরে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
এমদাদুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াহিয়া জানান, অনিয়ম করে সরবরাহকারী নিয়োগ করায় একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ লোকসান হবে। অন্যদিকে তার মক্কেল ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছেন।
এর আগে একই ঘটনায় মো. সুমন ও পাবনার আরজেডএস এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার রাশেদুজ্জামান আদালতে আলাদা দুটি মামলা করেছেন। জানুয়ারিতে ওই মামগুলোরও শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close