মহানগরশিরোনাম-২

তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিলেন উত্তরাঞ্চলের ১৩ জন সংসদ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:তামাকের কর নীতিমালা গ্রহণ এবং জাতীয় বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ ও  তামাকের ওপর আরোপিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২ শতাংশে উন্নীত করার পক্ষে অবস্থান নিলেন উত্তরাঞ্চলের ১৩ জন সংসদ সদস্য। তামাকজাত পণ্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে  সংসদ সদস্যগন মাননীয় অর্থমন্ত্রী বরাবর এমন প্রস্তাবনা দিয়ে ডিও লেটার প্রদান করেছেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্তত ১৩ জন সংসদ সদস্য। তারা হলেন- নাটোর -১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম, রাজশাহী সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম তানসেন, বগুড়া -৭ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ আলী, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সংরক্ষিত আসন-২ এর সদস্য এডভোকেট সফুরা বেগম, রংপুরের  সংরক্ষিত আসন এর সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, রংপুর-২ ডিউক চৌধুরী, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান প্রমূখ।

তারা ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তামাক ও তামাকজাত পন্য স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্য বলছে, পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য গবেষনা থেকে জানা যায় তামাক ব্যবহারের ফলে তামাকজনিত কারনে বাংলাদেশে প্রতিবছর অন্তত ৭৬ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের অকাল মুত্যু ঘটে। বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ১৩ লক্ষ (এঅঞঝ,২০০৯) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২৩% (২ কোটি ১৯ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২৭.২% (২ কোটি ৫৯ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, খৈনি, সাদাপাতা) ব্যবহার করেন। এই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি। বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৭% (এণঞঝ,২০১৩) কিশোর-কিশোরী তামাকপণ্য ব্যবহার করে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এছাড়া তামাকের পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের জিডিপির কমপক্ষে ৩ শতাংশ। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ তামাক আগ্রাসনের কবলে পড়ছে। ফলে সময়মতো তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে অকাল মৃত্যুর হার বৃদ্ধি সহ কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাবে এত দেশে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংসদ সদস্যরা ডিও লেটারে দাবী করেন, তামাকের মূল্য বৃদ্ধি পেলে ভোগের পরিমান হ্রাস পায়। তবে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে তামাক দ্রব্যের কর বৃদ্ধির ফলাফল আশানুরুপ নয়। তামাক পণ্যের ক্ষেত্রে ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ, সিগারেটের মূল্যস্তর বিন্যাস প্রথাবা বিড়ির উপর স্বল্প মাত্রায় ট্যারিফ ভ্যালুর ফলে ভোক্তা কমছে না। সিগারেটের মূল্যস্তরভিত্তিক কর-প্রথা বাতিল করে প্যাকেট প্রতি খুচরা মূল্যের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ, বিড়ির ট্যারিফ ভ্যালু তুলে দিয়ে প্যাকেট প্রতি খুচরা মূল্যের ৪০ শতাংশ পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ, গুল-জর্দার ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারনকরার দাবী করেন  যাতে সকল তামাকপণ্যের প্রকৃতমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটিরও বেশী । অন্যদিকে তামাকের অবৈধ বানিজ্যের পথ ধরে দেশব্যাপী সংঘবদ্ধ চোরাকারবার, মাদক প্রাচার ও মানবপ্রাচারের মতো ভয়াবহ ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।বরেন্দ্রবার্তা/এই

 

Close