বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় কঠোর অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই মাদকের ব্যবহার

বাগমারা প্রতিনিধি :রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শীর্ষ মাদক বিক্রেতারা র‌্যাব-পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ালেও এলাকায় থেমে নেই মাদকের ব্যবহার। তবে যে কোন মূল্যেই এলাকা থেকে মাদক নির্মূলে তৎপর রয়েছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশব্যাপি মাদক নির্মলে চলমান অভিযানে নেমে বাগমারা থানা পুলিশ এ পর্যন্ত ৩০ টি মামলা দায়ের করেছে। বাগমারা থানা পুলিশের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়েকৃত এসব মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১১২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং উদ্ধার করে ৫২০ পিচ ইয়াবা সহ অন্যান্য মাদক সামগ্রী। বাগমারায় পুলিশ তার মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রেখেছে। এখানে মাদকের সাথে সংম্পৃক্ত এমন কোন ব্যবসায়ীকে এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ার দেওয়া হয়নি। এদিকে পুলিশের এত ঢাকঢোল পিটিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও অংশিক মাদক দ্রব্য উদ্ধার করলেও এলাকায় মাদকের ব্যবহার থেমে নেই বলে দাবী করেছেন এলাকাবাসী। তারা বাগমারার মত একটি বিশাল এলাকায় মাদক নিমূলের অভিযানে নেমে পুলিশের অর্জনকে পর্বতের মূসিক প্রসব বলে আখ্যায়িত করছেন অনেকে। তাদের দাবী এখানে এখনও মাদকের মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে জানা গেছে, ১৬ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিশাল বাগমারায় রয়েছে দুটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও পুলিশ ফাঁড়ি। তার পরও এখানে মাদকের আমদানী ও এর বেচা কেনা নিয়ন্ত্রন করা যায় না। বাগমারার পূর্বে নাটোর, উত্তরে নওগাঁ ও দক্ষিনে রাজশাহীর তানোর গোদাগাড়ি তৎসংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে খুব সহজেই মাদক প্রবেশ করে। এছাড়া গোদাগাড়ি ও চারঘাট বাঘার সীমান্ত হয়ে ইয়াবা ফেনিসিডিলের বড় বড় চালান বাগমারার উপর দিয়ে পাশ্ববর্তী আত্রাই রানীনগর হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালান হয়ে চলে যায়। মাঝে মধ্যে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসব ইয়াবা ফেনসিডিলের বড় বড় চালান উদ্ধার করলেও এর মূল হোতারা বরাবরই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। সূত্রে জানা গেছে, বাগামারায় এখন পর্যন্ত পুলিশ যে স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে তার পরিমান একেবারে নগন্য। ইয়াবার ক্ষেত্রে ১০/১৫ টি এবং ফেনসিডিলের ক্ষেত্রে ১০/১২ টির বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখানে ইয়াবা ফেনসিডিল সহ অন্যান্য মাদক দ্রব্যের বড় বড় চালান আসলেও পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করতে বা তার পাচারকারীদের চিহ্নিত করে আটক করতে এখনও অন্ধকারে রয়েছে। বিশাল এই বাগমারায় শতাধিক মাদক স্পট রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাদক স্পট রয়েছে তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, মচমইল, হাটগাঙ্গোপাড়া ও হাটদামনাশ  এলাকায়। এসব মাদক স্পটকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনকারী কিছু মূল হোতা। সূত্র মতে, বাগমারা থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত যে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের দাবী করেছে তারা সবাই ছিঁচকে মাদক ব্যবসায়ী। এখানে মূল হোতারা এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মূল হোতারা ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী, ব্যবসায়ী এবং জন প্রতিনিধি হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করার ঝুকি নিচ্ছে না। ইতিমধ্যে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব পুলিশের অভিযানের আতংকে এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান নিয়েছে এবং দু’একজন স্বেচ্ছা কারাবরণ করেছে। জানা গেছে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লার মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় তিনি মাদক স¤্রাজ্ঞী হিসাবে পরিচিত। সেই মাদক স¤্রাজ্ঞী জুলেখা বেগম (৪০) এখন আদালতে আত্মসমর্পন করে স্বেচ্ছা কারাবাস বেছে নিয়েছে। ওই এলাকার আলামিন, আতাহার সহ আরো কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী এখন এলাকা ছাড়া। তাদের মোবাইলও এখন বন্ধ রয়েছে। উপজেলার তাহেরপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী ও এক শিক্ষক  জানান, তাহেরপুরের চৌকির পাড়া, জেলে পাড়া ও স্লুইচগেট এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি মাদক স্পট। এসব স্পটে দিন রাতের চব্বিশ ঘন্টায় মাদক বেচা কেনা হয়। এদিকে তাহেরপুরের মত উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জেও রয়েছে মাদকের বিস্তার ও ভয়াবহতা। ভবানীগঞ্জের বাসট্রান্ড, হলপট্রি, পল্লী বিদ্যুত মোড়, হেলিপ্যাড, দানগাছি, চাঁনপাড়া, বাসুপাড়া ইউনিয়নের দ্বীপনগর, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বুজরুক কৌড়, সৈয়দপুর এলাকায় রয়েছে একাধিক মাদক স্পট। এলাকাবাসীর অভিযোগ র‌্যাব পুলিশের সাম্প্রতিক মাদক বিরোধী অভিযানে এসব স্পটের ছিঁচকে মাদক বিক্রেতারা আটক হলেও এদের মূল হোতারা রয়েছে নাগালের বাইরে। তারা কেউ গা ঢাকা দিয়েছে নয়তো এলাকার বাইরে আত্মগোপন করে আছে। এখানাকার সচেতন মহল বলেন, বাগমারায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কোনই মাথা বাঁথা নেই। অথচ মাদকের ভয়াল গ্রাসে সবার আগোচরে ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে এলাকার যুব সমাজ। তাদের মতে, মাদকের এই নিয়ন্ত্রনহীন লাগাম সময় থাকতেই টেনে ধরা উচিত। দেশব্যাপি মাদক নির্মূলে যে গণজাগরন সৃষ্টি হয়েছে এই অভিযানকে সফল করে তুলতে এখানকার জনপ্রতিনিধিদের উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক নিমূলে সার্বিক সহযোগিতা করা। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের পূনর্বাসনেরও দাবী জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, বাগমারা থেকে মাদক নির্মুলের জন্য সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।  বরেন্দ্রবার্তা/আম/অপস

 

Close