মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

ধারাবাহিক সমাবর্তনে উৎফুল্ল গ্রাজুয়েটরা

রাবি প্রতিনিধি: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন আজ (৩০ নভেম্বর) বেলা ১১ এগার টায় থেকে শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সমাবর্তনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দশম সমাবর্তনের অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক এক বছরের মাঝে সমাবর্তন পেয়ে সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সমাবর্তনে অংশ নেয়া গ্রাজুয়েটধারী শিক্ষার্থীরা। সমাবর্তনের দিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বরে গ্রাজুয়েটদের আনাগোনায় ক্যাম্পাসে বিরাজ করেছে উৎসবের আমেজ। চিরচেনা ক্যাম্পাসে অনেক দিন পরে এসে অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেছে তারা। কতনা স্মৃতি জড়িয়ে আছে প্রিয় মতিহারের সবুজ চত্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে শতশত গ্রাজুয়েট গাউন ক্যাপ পড়ে মুখরিত করে তুলেছেন প্রিয় ক্যাম্পাসকে।

সমাবর্তনে অংশ নেয়া সমাজকর্ম বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাওয়া নিয়মিত সমাবর্তন হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাবর্তনের আয়োজন করেছে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করলে বেশী সংখ্যক গ্রাজুয়েট অংশ নিতে পারবে। মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মো. মিলন বলেন, সত্যি অনেক ভালো লাগছে কেননা ধারাবাহিক সমাবর্তন আয়োজন করা হচ্ছে। শিক্ষা জীবনের শেষে দু তিন বছরের মাথায় সমাবর্তন পেয়েছি। প্রশাসন সত্যি প্রশংসার দাবিদার। সমাবর্তনে গ্যাপ পড়ে গেলে অনেকই অংশগ্রহণ করতে চায়না কারণ অনেকে বেকার থাকে অথবা চাকরীর ব্যস্ততা জন্য সমাবর্তনে অংশ নেয়না। তাই আশা রাখি এখন থেকে নিয়মিত প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজন করবে প্রশাসন।

অন্যান্য গ্রাজুয়েটদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ক্যাম্পাসে এসে এত আনন্দ হচ্ছে যা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। দূরে থাকলেও ক্যাম্পাসকে আগের মতোই ভালবাসেন । ক্যাম্পাসে কাটানো সময়, আড্ডা-গল্প, ক্যাম্পাস চষে বেড়ানো এসব আর ফিরে আসবে না। তারপরেও ক্ষণিকের জন্য অতীতকে বর্তমানে ফিরে পেতে আগ্রহ-উদ্যোমের কমতি নেই গ্রাজুয়েটদের। তাদের চোখে-মুখে যেন পুরনো দিনগুলোকে ফিরে পাওয়ার ভাবনা। তারা দাবি জানান প্রতিবছর সমাবর্তনে ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক।

গত বৃহস্পতিবার সমাবর্তন উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম. আবদুস সোবহান বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে। যাতে বেশি সংখ্যাক গ্রাজুয়েট সমাবর্তনে অংশ নিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, একাদশ সমাবর্তনে অংশ নিয়েছে ৩ হাজার ৪৩১ জন গ্রাজুয়েট। এর মধ্যে কলা অনুষদের ১০টি বিষয়ে মোট ৬৬৬ জন, আইন বিভাগের ৮৯ জন , বিজ্ঞান অনুষদের ৮টি বিষয়ে ৩৭৭জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ৫০৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৯টি বিষয়ে ৫৮২ জন, কৃষি অনুষদের ৪টি বিষয়ে ৮৫জন, জীব ও ভূ- বিজ্ঞান অনুষদের ৬টি বিষয়ে ৩১০ জন, প্রকৌশল অনুষদের ৫টি বিষয়ে ১৩৫, চারুকলা অনুষদের ২টি বিষয়ে ৪৩জন, ও ইন্সটিটিউট সমূহে ৬জন গ্রাজুয়েট স্নাতকোত্তর এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি তাছাড়া এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রির জন্য যথাক্রমে ৫১১ ও ১২৩ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নিয়েছে।
বরেন্দ্র বার্তা/ কাহাঅ/ নাসি

Close