মহানগরশিরোনাম

দুদকের অভিযানে আটককৃত রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে আটককৃত ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শিক্ষাবোর্ডে সেবা নিতে আসা জনগণের নিকট থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ নেওয়ার প্রমান পাওয়ায় বোর্ডের ছয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দুর্নীতি দমণ কমিশন (দুদক) এর একটি দল ধরে ফেলেন। পরে তাঁর নিকট নিয়ে আসেন এবং শিক্ষাবোর্ডে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড ঝুলানো, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও বহিরাগত দালাল চিহ্নিত করে তাদের বোর্ডে প্রবেশে নিষিদ্ধকরণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
দুদকের নির্দেশনা অনুযায়ী বোর্ডের সিদ্ধান্তমতে অভিযুক্তদের ভিন্ন শাখায় বদলী করার সিদ্ধান্ত হয়। সেইসাথে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান সচিব। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তদের শাখার কোন কর্মকর্তা এর সঙ্গে যুক্ত নয়। আগামীতে যেন এই সমস্যা না হয় এবং সেবাগ্রহিতারা নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহন করতে পারেন তার জন্য বোর্ডে ওয়ানস্টপ সেন্টার খোলা হবে। এই কার্যক্রম জানুয়ারী-২০২০ সাল থেকে শুরু হবে। এছাড়াও স্কুলের সংশোধনীগুলো এখনে থেকে স্কুলের মাধ্যমেই অনলাইনে সকল কাগজপত্র নেওয়া হবে এবং প্রাপ্তি ও কাজ সমাপন্ন হলে ম্যাসেজ এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে জানান তিনি। এছাড়াও সেবা গ্রহনকারীদের জন্য আরো অনেক নতুন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সচিব।
উল্লেখ্য সোমবার সকাল ১০টায় দুদকের একটি টিম রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে অভিযান চালান। এরমধ্যে তিনজন টাকাসহ ধরা পরে ও অপর তিনজন অর্থ নিতে সহযোগিতা করছেন বলে দুদকের টিম প্রমান পায়। দুদকের পক্ষ থেকে ঐ ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দুদকও তার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করবেন। বিষয়টি সোমবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন, দুদক রাজশাহীর উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।

শিক্ষাবোর্ডের পত্রপ্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী মুরাদ আলী, স্ক্রীপ্ট শাখার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী রুবেল খান ও মাধ্যমিক সনদ শাখার আসলাম হোসেন ওরফে চৌধুরীকে হাতেনাতে প্রার্থীদের আবেদন ফরম ও উৎকোচসহ দুদক টিমের হাতে ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়ে যাওয়া হলে শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন, পত্রপ্রাপ্তি শাখার শহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আহসান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতের কথা স্বীকার করেন তারা।

রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সনদপত্র উত্তোলন, নাম সংশোধন, ফলাফল সংশোধন, ভর্তি বাতিল, এক কলেজে ভর্তি বাতিল করে নতুন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনে সরকার নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয় মঞ্জুরী নবায়ন, বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা, মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি, এ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও মহাবিদ্যালয়ের ছাড়পত্র প্রদান ইত্যাদি কাজে উৎকোচ গ্রহণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে একজন ভূক্তভোগী দুদককে হটলাইন ১০৬ নম্বরে জানালে দুদুক এই অভিযান পরিচালনা করেন।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close