নওগাঁশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

অযত্ন অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক আদ্যাবাড়ি মন্দির

মহাদেবপুর, (নওগাঁ) প্রতিনিধি: অযত্ন অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক আদ্যাবাড়ি মন্দির। এক সময় এ মন্দিরকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পুজা পার্বন উৎযাপিত হলেও কালের আবর্তে এ মন্দির আজ বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে এ মন্দিরের আশেপাসের কয়েকটি আদিবাসী পরিবার বছরে একবার মাত্র এ মন্দিরে দূর্গাপুজা পালন করে। এ ছাড়া সারা বছর অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে এ মন্দির। পর্যায়ক্রমে এ মন্দিরে বিশাল ভুসম্পত্তিও চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। প্রত্নতত্ব বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন এ ঐতিহাসিক মন্দিরটি রক্ষার জন্য আজ পর্যন্ত কোন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলো মিটার পশ্চিমে খাজুর ইউনিয়নের খাজুর ও দেবীপুর গ্রামের মধ্যবর্তি স্থানে এ মন্দিরটি অবস্থিত। আদ্যাবাড়ি মন্দিরের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে সে ব্যাপারে কোন নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।

মহাদেবপুর উপজেলার ইতিবৃত্ত গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী ১৭৫৭ সালে মহাদেবপুরের জমিদার শ্রী নয়ন চাঁদ রায় চৌধুরীর অধঃস্তন পুরুষ শ্রী রামেশ্বর রায় চৌধুরীর সময় এই আদ্যাবাড়ি মন্দিরের উদ্ভব হয়। বিশেষ উদ্দেশ্যে স্থাপিত আদ্যাবাড়ি মন্দিরটি আদ্যাবাড়ি সিবালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। জনশ্রুতি রয়েছে আদ্যাবাড়ি সিবালয় থেকে কাশির অনুকরণে দ্বিতীয় কাশি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য ছিল। কাশিতে ১০৮টি শিব মন্দির বা শিবালয় আছে। এখানেও ১০৮ শিব মন্দির বা শিবালয় স্থাপনের প্রচেষ্টা চলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই ১০৮টি শিবমন্দির তৈরী করা হলেও পরে দেখা গেছে ১টি শিব মন্দির কমে সেখানে ১০৭টি মন্দির রয়েছে। এ কারনে এটি কখনই দ্বিতীয় কাশি হতে পারেনি। সেসময় এখানে যে ১০৭টি শিবমন্দির ছিল এখন সেগুলোর প্রায় সবগুলোই ধ্বংস হয়ে গেছে। মাত্র দু-তিনটি মন্দির ধ্বংসের চিহ্নবুকে নিয়ে যেন বিলুপ্তির প্রতীক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা দ্বিপংকর লাকড়া বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এ মন্দিরের জমিগুলো উদ্ধার করে এ মন্দিরকে রক্ষার প্রদক্ষেপ নিলে এ ঐতিহাসিক মন্দিরটির হারানো গৌরব আবার ফিরে আসবে।
বরেন্দ্র বার্তা/মাআ/নাসি

Close