চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়ে আহত সেই কিশোরের মৃত্যু

মো: সজিব ইসলাম, চারঘাট: পরিবারের বড় ছেলে মোহন ইসলাম (১৪) ঘিরে গরিব বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল অনেক। পড়ালেখা শিখে ছেলে একদিন সেনাবাহিনীর বড় অফিসার হবে। অভাব ঘুচাবে পরিবারের, সাথে দেশের সেবাও করবে। কিন্তু ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়ে নিজের ব্যাটের আঘাতে সেই স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মহিদুল ইসলামের বড় ছেলে মোহন ইসলাম। সে মেরামাতপুর এরশাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। চার ভাই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়।

মোহনের চাচা কাবুল শেখ জানান, গত ২০ শে নভেম্বর(বুধবার) রাত ৮ টার দিকে বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় বন্ধুদের সাথে অন্য দিনের মত সেদিনও ব্যাডমিন্টন খেলছিল মোহন। খেলার সময় অসাবধানতা বশত হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় সে। এ সময় তার হাতে থাকা ব্যাডমিন্টনের ব্যাটটি ভেঙ্গে তার কপালের ডান পাশে ঢ়ুকে যায়। তাৎক্ষণিক মোহনকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেদিন দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, ব্যাডমিন্টনের ব্যাট একটি অংশ ছোচালো ভাবে ছেলেটির মাথায় ঢ়ুকে যায় এবং অনেক বেশি রক্তক্ষরন হয়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বিবেচনায় ওই দিনই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মোহনের আত্নীয়রা জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ তে গত ১৫ দিন যাবৎ চিকিৎসাধীন ছিল সে। অবশেষে বুধবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বুধবার বিকেলে চাঁদপুর কাঁকড়ামারী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মোহনের মা রঙিলা বেগম সন্তানের শোকে পাগলপ্রায়। নানা রকম প্রলাপ বকছেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই তিনি মূর্ছা যাচ্ছেন। মোহনের বাবার অবস্থাও পাগলপ্রায়।

অনেকক্ষণ পর মহিদুল ইসলাম জানালেন, তাঁর নিজের জমিজমা নেই। মেকানিক্স এর কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান। তার চার ছেলে মেয়েসহ পরিবারে সদস্য ৬ জন। অনেক কষ্টের মাঝেও একমাত্র ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু খেলতে গিয়ে একটু অসাবধানতায় সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

মোহনের চিকিৎসার সময় সার্বক্ষণিক পাশে থাকা চারঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রায়হানুল হক রানা জানান, গবির হলেও ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল মহিদুলের। বড় ছেলের মৃত্যুর কারণে পরিবারটির একটি স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে।আমরা উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মোহনের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য নিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু এতকিছু করেও আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close