খেলাশিরোনাম-২

কারাতে থেকে সোনা এনে দিলেন রাজশাহীর আল আমিন

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: স্বাগতিক নেপালের প্রতিযোগীকে সেমি-ফাইনালে উড়িয়ে দিলেন। বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে নেমে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দিলেন না আল আমিন ইসলাম। কারাতের কুমিতে ইভেন্টে এই অ্যাথলেট জিতলেন দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) সোনার পদক। বাংলাদেশও পেলো আসরে নিজেদের দ্বিতীয় সোনা।
কাঠমান্ডুর সাতদাবাতোর ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার পুরুষ একক অনূর্ধ্ব-৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে পাকিস্তানের জাফরকে ৭-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সেরা হন আল আমিন। সেমি-ফাইনালে নেপালের প্রতিযোগীকে ৭-৪ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই কারাতেকা।
আল আমিন ইসলাম মেট্রোপলিটন কলেজ, রাজশাহীর স্নাতক(পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁকে কলেজের সভাপতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র এ. এইচ. এম.খাইরুজ্জামান লিটন, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছে।
সোনা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসলেও কারাতে শুরুর কঠিন দিনগুলো নিয়ে ঠিকই স্মৃতি রোমন্থন করলেন আল আমিন। জানালেন, কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন খেলাটির সঙ্গে।
“কারাতেতে আসার পেছনের কারণ আমার ছোট চাচা (শরিফুল ইসলাম), তিনি কারাতের প্রশিক্ষক ছিলেন। ছোট বেলা থেকে তিনি আমাদের হাত ধরে নিয়ে আসতেন কারাতে শেখানোর জন্য। তখন মন চাইত না কিন্তু চাচা ধরে পেড়ে নিয়ে আসতেন। একটু মারধোরও করতেন। এভাবেই কারাতেতে আসা।
“প্রথম প্রথম কষ্ট ছিল। কেননা, আমি আগ্রহী ছিলাম না। এরপর জেলায় খেলতে গেলাম, ভালো করলাম। কারাতে ভালো লাগতে শুরু করল। এভাবেই খেলাটিকে ভালোবেসে ফেললাম।”
গত নভেম্বরেই ঢাকায় হয়েছিল সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানেও সোনা জিতেছিলেন রাজশাহী থেকে উঠে আসা আল আমিন। এরপর কাঠমান্ডুতেও নোঙর ফেলেছিলেন দেশকে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে।
“সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলাম, সেখান থেকে খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। সেখানে বাইরের যারা খেলেছিল, তাদের অনুশীলন, কৌশলগুলো খুব অনুসরণ করেছিলাম। সেগুলো নিজে চেষ্টা করতাম। কোচেরাও অনেক অনুশীলন করিয়েছেন।”
“যখন দেশ থেকে আসি, অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম। নিজের ওপর ভরসা ছিল, দেশের জন্য কিছু করতে পারব। রাতে নিজের মতো করে অনুশীলন করেছি। ফাইনালের মঞ্চে ওঠার আগে কোচ পাকিস্তানের প্রতিযোগীর কিছু মুভমেন্টের ব্যাপারে বলেছিলেন। কৌশলও বলে দিয়েছিলেন। সেটা অনুসরণ করলাম। কোচ আরও বলেছিলেন দেখো-দেশের মান সম্মানটা যেন রক্ষা করতে পারো। আমি পেরেছি।”
“এই আবেগ আসলে বলে বোঝাতে পারব না। আমার ভেতরে অনেক কিছু হচ্ছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমি কিছু নিয়ে আসতে পেরেছি, বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা তুলে ধরতে পারছি, এজন্য গর্ব লাগছে।”
এর আগে সোমবার তায়কোয়ান্দোয় ছেলেদের ২৯ (প্লাস) বয়সীদের ইভেন্ট পুমসে বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দেন দিপু চাকমা।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close