বগুড়াশিরোনাম

রাত জেগে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন বগুড়ার কৃষকরা

ষ্টাফ রির্পোট : দেশে চলমান সময়ে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নাগালের বাইরে চলে গেছে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা। আর পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি নিয়ে দেশ ব্যাপী চলছে পেঁয়াজ ব্যবহার ও প্রাপ্তিতা নিয়ে নানা রঙ্গরসের গল্প, গান ও কবিতা। সরগম হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম। সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী করে এনে টিসিবি মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা করলেও অনায়াসেই পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। এদিকে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদ উঠতে এখনো ২মাস বাকি। দেশের অভ্যন্তরীন চাষে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসলে কমতে পারে কাঙ্খিত সবজির দাম। তাইতো পেঁয়াজ বাজারে বিক্রয়ের আশায় এবং এ সময়ের মহামূল্যবান পেঁয়াজের চুরি ঠেকাতে বগুড়ার কৃষকদের চোখে ঘুম নেই। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন পেঁয়াজের ক্ষেত।
জানা গেছে, বগুড়ার সোনানতলা উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কৃষক পেঁয়াজ চাষ করেছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ আহমেদ জানান, কৃষক দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করে থাকে। এর একটি হচ্ছে বীজ বপনের মাধ্যমে অপরটি চারা রোপণের মাধ্যমে। বীজ বপন থেকে আড়াই-তিন মাসের মধ্যে কৃষক পেঁয়াজ উত্তোলন করা যায়। আর চারা রোপণের মাধ্যমে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে পেঁয়াজ উত্তোলন করতে পারেন কৃষকরা।
তবে বগুড়ার সোনাতলায় মাঠ থেকে একের পর এক পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে। তাই পেঁয়াজ চুরি ঠেকাতে ওই উপজেলার কৃষকেরা তাদের পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। বিশেষ করে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকেরা জমিতে পলিথিন দিয়ে কুঁড়ে ঘর তৈরি করে সেখানে রাত্রিযাপন করছেন।
রাত জেগে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দেয়ার খবর সংগ্রহে গতকাল সরেজমিনে সোনাতলার উপজেলার আউচারপাড়া,ভিকনেরপাড়া, জন্তিয়ারপাড়া, খাটিয়ামারী, শিমুলতাইড়, দিঘলকান্দী, নওদাবগা, কর্পূর, সরলিয়া, খাবুলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, মূলবাড়ী, ফাজিলপুর, মহিচরণ, বালুয়াহাট, মধুপুর, হরিখালী, পাকুল্লা, চারালকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় কৃষক জমি থেকে পেঁয়াজ চুরি রোধে পলিথিন দিয়ে ঘর বেঁধে পেঁয়াজের জমিতে রাত জেগে পেঁয়াজ পাহারা দিচ্ছেন।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা এলাকার পেঁয়াজ চাষী সোনাউল্লাহ জানান, এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই ১০ শতক জমির পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে তিনি ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন। খাবুলিয়া এলাকার শামছুল হক জানান, এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি দেড় বিঘা জমির পেঁয়াজ বিক্রি করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন।
এ দিকে গত বুধবার দিবাগত রাতে খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া ও আউচারপাড়া চরের ছয়জন কৃষকের জমি থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটায় তারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
ওই উপজেলার কৃষকেরা জানান, প্রতি রাতেই কোনো না কোনো এলাকায় পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে। স¤প্রতি উপজেলার মধ্যদিঘলকান্দী এলাকার এক কৃষকের দুই শতক জমির পেঁয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরের দল।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে পুরাতন পেঁয়াজ আড়াইশ টাকা ও নতুন পেঁয়াজ দেড় থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং না থাকায় এক শ্রেণির মুনাফালোভী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে জমি থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে সচেতন মহল জানান। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close