বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ মামলায় আসামী আটকের পরেই মুক্তি

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের কনোপাড়া গ্রামের পুকুরে বিষয় প্রয়োগের মামলায় আসামীরা আটকের পরেই জামিনে মুক্তি পেয়েছে। ফিরে এসে বাদীকে মামলা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বাদী দিঘির মালিক মকছেদ আলী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার বাগমারা থানায় একটি ডাইরী করেছে। ডাইরী নং-২৮৩, তারিখ: ০৭/১২/২০১৯ইং। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের সবসার দীঘি ও পুকুরে একই সময় বিষ প্রয়োগের ঘটনায় ৭জনের নাম উল্লেখসহ আরোও অজ্ঞাত ১০/১২জনের নামে বৃহস্পতিবার বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-০৮/৩২০। মামলা দায়েরের পরে বাগমারা থানা পুলিশ এজাহারে উল্লিখিত ৫নং আসামী বাবু এবং ৬নং আসামী আফজাল হোসেনকে আটক করে। আটকের পরেই শুক্রবারই তাদের আদালতে প্রেরণ করে। আদালতে প্রেরণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আসামীরা আদালত থেকে জামিনে এসেই বাদীকে মামলা প্রত্যাহার না হলে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।

এ ঘটনায় বাদী মকছেদ আলী বাগমারা থানায় একটি জিডি করে। মামলা সূত্রে আরোও জানা যায়, গত ০৫/১২/২০১৯ ভোর রাতে কনোপাড়া গ্রামের সবসার দীঘি ও উক্ত দীঘি পূর্ব পার্শ্বে পাকা রাস্তা সংলগ্ন পুকুরে একই সাথে বিষ প্রয়োগ করে। বিষ প্রয়োগের ঘটনায় বাদীর দাবি ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষতি সাধন করে। মামলার আসামীরা দীর্ঘদিন যাবত বাদী মকছেদ আলীকে নানান রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। তারই জের ধরে আসামীরা বাদীর দীঘি ও পুকুরে একযোগে বিষ প্রয়োগ করেন বলে বাদি দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাদী মকছেদ আলী দীঘি ও পুকুরের মালিক ইঞ্জি:এনায়েতুল্লার কাছ থেকে ৫বছরের জন্য দীঘি ও পুকুর লিজ গ্রহণ করে মাছ চাষ করে আসছিল। এ প্রসঙ্গে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসামীকে জামিন দেয়া আদলতের ব্যাপার এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। এজাহারে উল্লিখিত অন্যান্য আসামীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাদীকে আসামীরা জামিনে এসে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি ডাইরী করা হয়েছে। বাদীর সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশী নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।এদিকে বাদী মকছেদ আলী জানান, আসামীরা আটকের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ছুটির দিন শুক্রবার কিভাবে আসামিরা জামিন পেল তা আমার বোধগম্য নয়। আসামিরা ফিরে এসে আমাকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে আসামীরা আমার প্রাণ নাশের হুমকিসহ পুনরায় দীঘি ও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করার হুমকি দিয়েছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা বদলীর দাবী জানাচ্ছি। উল্লেখ, গত ৫ ডিসেম্বর মকসেদ আলীর দুটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার মাছ নিধন করা হয়।
বরেন্দ্র বার্তা/ সামা/ নাসি

Close