সাহিত্য ও সংস্কৃতি

বিজয়ের ইতিহাস

হুমায়ূন সিরাজ

মানচিত্র খচিত প্রতিকী ইতিহাসে
লাল সবুজের বৈজয়ন্তি উত্তোলন
প্রচ্ছন্ন প্রচ্ছায়ার নেশায়
মুক্ত আকাশে লাল টকটকে সূর্য্যির ঘনঘটায়
সবুজ গালিচায় গ্রামে গ্রামে ছায়াছন্নের গোধূলির সুরে
আর রেসক্রস ময়দান থেকে ভেসে আসছে
শিখা গোষ্ঠীর কোন ছদ্মবেশি মানুষের উক্তি
বল কন্ঠস্বর
জাগো বিশ্ব
হে বিশ্ব জাগ্রত প্রার্থনা
বল আত্ম পরিচয়ের স্বরলিপি
হে মুক্ত বাংলাদেশ স্বাধীনতার ডাকে

অশনি সংকেত চারিদিকে
হঠাৎ কোন নিকষ কালো অন্ধকার
ক্রন্দনরোল আর চোখের জলে
চিৎকার করে বলছে আজাস্কের মত
পানি দাও পানি দাও আলো দাও পিতা
কোন এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে
কেন যেন কেউ লিখছে উৎকৃষ্ট দলিল
কখনও মোহর কখনও শিলা লিপিতে কখনও তাম্রলিপিতে
আম্রকাননে বসে গাছের ছায়ায় ঘাসে ভেজা রৌদ্রে
আর বুদ্ধিজীবিদের সুচিন্তিত পদক্ষেপে কাঁপছে রাষ্ট্র
যোদ্ধরা একত্রিত হচ্ছে কোন মিছিলে
আর কবিদের আত্মায় সরসতা
এগারটি সেক্টর কোন বীরের মত যুদ্ধের আসরে
দেশ দেশান্তর থেকে আসছে পাল তোলা নৌকা
পসিডনের মত সমুদ্র ফুসে উঠছে
তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনার মোহনায়
আর লঙ্গিনাসের ভাষায় নাবিকেরা কোন দিক নির্দেশনায়
আর দেবদূতেরা পাখা ঝাপ্টাচ্ছে কেন ক্ষুর্ধে
সীমান্ত থেকে আর্মি ফোর্স আসছে
বাতাসে বারুদের গন্ধ আর অশনির ঝলকানি
উর্ধ্ব গগণে ঢোলক বাজছে দামামা দামামা তাললয়ে
রাজধানী ঢাকা যেন ট্রয় নগরীর মত বন্দি
তাই স্বপ্নের হাতছানিতে ডাকছে হোমার রবীন্দ্রনাথ
নতুন কোন লেখক লিখছে পঁচিশে বৈশাখের উর্ধ্বে
কাহ্নপা থেকে শিখা গোষ্ঠী
অমর্ষে রপ্ত করছে রোমান গ্রীক সাহিত্য
আর ইংরেজী রাশিয়ান সাহিত্যের বিজয়
স্বাধীনতা মুক্ত বাতাসে

নৈসর্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
প্রয়োজন অর্থের আবাদ
মন যেন দ্বাদশ প্রাচীরে ঘেরা কোন সমাজতন্ত্রে
আর রাষ্ট্র নায়কের কোন সংলাপ
কৃষকের হাতে কাস্তে আর শ্রমিকের শ্রম শিল্প
আর উন্নয়নের চাকা ঘুরে
কবিতার ডাকে আর প্রাণের জাগরণে ঘরে ফেরা
উচ্চ কোন শিক্ষার দর্শনে
আর সৃজনশীল জ্ঞানের প্রবাদে
আত্মার বিশুদ্ধতা মহত্বে
নদীর অববাহিকায় ইরাটোর মত বেশে
পদ্মা মেঘনার কুলে কুলে
জীবনের প্রশান্তি প্রচ্ছায়ায় ঘেরা প্রস্বরে
বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্টের দিশায়
কোন অক্ষি বর্গে ক্রস চিহ্ন
আনন্দ লোকে মঙ্গল আলোকে মানুষের আশা
মম মাতৃভূমিতে বিজয়ী পতাকা উড়ে
ধর্মের সাক্ষ্যি কোন স্বর্গে
স্বপ্নলোকে পূর্ণজাগরণে শিক্ষা
আর মর্ত্যে আসবে ঈশা॥

Close