গোদাগাড়িশিরোনাম-২

সমাজ বদলের লড়াইকে আরও বেগবান করতে হবেঃ তানোর দিবসে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তানোরের তৎকালীন প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলনের নেতারা সমাজ বদলের যে স্বপ্ন ও আকাঙক্ষা নিয়ে লড়াই করতে গিয়ে জীবনকে উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছিলেন তাদের সেই স্বপ্ন ও লড়াইকে আরও বেগবান করতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার সকালে ‘তানোর দিবস’ উপলক্ষে উপজেলার গোল্লাপাড়া বাজার গোডাউনের পাশে নির্মিত শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় এই নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। প্রথমে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। পরে সেখানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ তানোর দিবসে সেসব শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি তারা সেই সময়ে একটি  গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তারা মানুষে মানুষে সমতা ও কৃষক-শ্রমিক, মেহনতী মানুষের দাবি আদায়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তাই তাদের সেই স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথকে বর্তমান সময়ে আরও এগিয়ে নিতে ওয়ার্কার্স পার্টিকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের সেই সমাজ বদলের লড়াইকে আরও গতিশীল ও বেগবান করে করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলসহ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সিরাজুর রহমান খান, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মান্নান,  মহানগর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য বিমল চন্দ্র রাজোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য গনেশ মাঝি, কামরুল হাসান সুমন, দারেস আলী, মাইনুল ইসলাম, ইমতিয়াজ বকুল, আব্দুল জলির, মনিরুরুল ইসলাম মনির, জেলা সদস্য কায়ুম উদ্দীন, গোদাগাড়ী পার্টির নেতা মুক্তিযোদ্ধা সাঈদুর রহমান, তানোর থানা নেতা আব্দুস সাত্তার, আকছার আলী, নগর ছাত্রমৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুর রহমান, তানোর থানা রফিকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার তানোরের প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলনের নেতা এরাদ আলী, এমদাদুল হক মুন্টু মাস্টার ও রশিদসহ ৪৪ নেতা-কর্মীকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তানোর গোল্লাপাড়া বাজারের গোডাউনের পাশে জীবন্ত মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। সেই থেকে তাদের স্মৃতিচারণে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, জাসদ, বাসদের নেতা-কর্মী ও স্বজনরা পৃথকভাবে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই থেকেই ১১ডিসেম্বর ‘তানোর দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close