মহানগরশিরোনাম

ভাঙনের সুর নতুন নেতৃত্বের শুরুতেই

রিমন রহমান, রাজশাহী: রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলো গেল রোববার। এর মধ্য দিয়ে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু তাদের যাত্রার শুরুতেই বেজে উঠেছে ভাঙনের সুর। রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কার্যালয়টিও আর থাকছে না। সম্মেলনের দুই দিনের মধ্যেই নতুন কোনো জায়গায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় করার কথাবার্তা উঠেছে।
এদিকে নতুন কমিটির সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা মঙ্গলবার জেলার প্রতিটি উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সভা করেছেন। কিন্তু লক্ষ্মীপুর মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। পবা উপজেলার নওহাটায় নতুন কমিটির ২ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিনের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় রাজশাহীর সব দলীয় সংসদ সদস্যকেও উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সভায় এমপি আয়েন উদ্দিন ছাড়াও ছিলেন রাজশাহী-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি ডা. মুনসুর রহমান। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নিজে উপস্থিত না থেকে তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। রাজশাহী-৬ আসনের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভায় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র জানায়, আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল দলের আসন্ন জাতীয় সম্মেলনের জন্য কাউন্সিলর প্রস্তুত। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা নেতাদের কেন্দ্র থেকে পাঠানো একটি চিঠি দেখান। চিঠিটি তার নামেই লেখা। এ চিঠিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের জন্য জেলার প্রতি ২৫ হাজার মানুষের জন্য একজন করে কাউন্সিলর প্রস্তুত করে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।
সভায় কাউন্সিলর প্রস্তুতের বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়েও কিছুটা আলাপ হয়। এছাড়া এ সভায় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। একপর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। নতুন কমিটির নেতারা উপজেলার নেতাদের জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পরিবর্তনের বিষয়ে মতামত চান। উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মতামত দেন, লক্ষ্মীপুরের দলীয় কার্যালয় থাকতে অন্য কোনো জায়গায় দলীয় কার্যালয় খোলা ঠিক হবে না। কিন্তু যদি পরিবর্তন করতেই হয় তাহলে কার্যালয় যেন শহরের ভেতরেই থাকে। নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এখন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
সম্মেলনের আগে সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরোধ দেখা দেয়। ফারুক চৌধুরী এ কার্যালয়ে না যাওয়ার ঘোষণা দেন। তাই সম্মেলনের আগে ২৬ মাস যাননি। তবে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দুই-তিনটি সভায় তিনি এ কার্যালয়ে যান। সম্মেলনে ফারুক এবং আসাদ-দুজনেই বাদ পড়েছেন। তবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফারুকের অনুসারীরা। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই আসাদের অনুসারী। ফলে এ নতুন কমিটি দেওয়ার পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগে বিভেদ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি প্রথম বোঝা যায় সম্মেলনের পরদিন সোমবার। সেদিন নতুন কমিটির নেতারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান। কিন্তু দলীয় কার্যালয়ে যাননি সাধারণ সম্পাদক।
এ বিষয়ে কথা বলতে নতুন কমিটির সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। আর ফোন ধরেননি সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা এবং ২ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আয়েন উদ্দিন। ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। গেল রোববার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এ চারজনেরই নাম ঘোষণা করে গেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
দলীয় কার্যালয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, লক্ষ্মীপুর মোড় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে প্রাণকেন্দ্র। এখানেই দলীয় কার্যালয়। এখন নতুন সভাপতি-সম্পাদক যদি এর চেয়েও বড় এবং ভালো দলীয় কার্যালয় করেন, তাহলে তাদের অভিনন্দন। কিন্তু লক্ষ্মীপুর মোড় প্রাণকেন্দ্রই থাকবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close