চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে ভ্রাম্যমাণ মধু চাষে আব্দুল আলীমের ভাগ্যবদল

মোঃ সজিব ইসলাম, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের বালাদিয়াড় গ্রামের আব্দুল আলীম(২৭)। ভ্রাম্যমাণভাবে মধু চাষে রীতিমত স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রবল মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমী আব্দুল আলীম। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ও দারিদ্রতার কারনে পড়াশুনা করতে পারেননি। সি.এম.ই.এস প্রজেক্ট থেকে মধু চাষের কিছুটা ধারণা লাভ করেন। বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ মধু চাষ করে সফলতা এনেছেন।

সরেজমিনে, শুক্রবার চারঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উত্তরে নিমপাড়া ইউনিয়নের বালাদিয়ার গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে মৌ-বাক্স। মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এসব বাক্সে জমা করছে। প্রতিটি বাক্সের উপরিভাগ কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। কালো পলিথিনের মোড়ক খুলে মৌ-বাক্স থেকে কাঠের ফ্রেমে ধরে থাকা মৌচাক বের করা হচ্ছে। এরপর মধু আহরণ যন্ত্র দিয়ে চাক থেকে মধু বের করে নেওয়া হচ্ছে।

তার এই সফলতা দেখে ওই এলাকার কয়েকজন তরুন এই মধু চাষের সাথে যোগ দেন।

চলতি মৌসুমে তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে দেড় শতাধিক মৌমাছির বাক্স তৈরি কওে শরীষার মধু সংগ্রহের জন্য সিরাজগঞ্জ উপজেলার এক মাঠে বাক্স নিয়ে মধু চাষ শুরু করবেন। শরীষার মধু সংগ্রহ শেষ করে কালিজিরা, ধনীয়ার জন্য তারা শরীয়তপুর জেলায় যাবেন। সর্বশেষে লিচুর মধু সংগ্রহের জন্য নাটোর ও দিনাজপুর জেলায় অবস্থান করবেন।

এবছর তিনি ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি করেছেন। তিনি আরো দেড় লাখ টাকার মধু সংগ্রহ করবেন বলে জানান। এই সফলতা তাকে আরও সাহসী করে তুলেছে বলে জানান তিনি।

আব্দুল আলীম বলেন, প্রথমদিকে আমার কোনো পুজি ছিলোনা বাড়ি থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে মৌমাছির ১০টি বাক্স তৈরি করে নিজ এলাকার মাঠে মধু চাষ শুরু করেছিলাম। মৌচাষের আয় ও ব্যয় সম্পর্কে তিনি জানান, যত বেশি মৌ বাক্স স্থাপন করা যাবে আয়ের পরিমাণ তত বেশী হবে। নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত মৌবাক্স থেকে আয় করা সম্ভব হয়। জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তেমন কোন ফুলের সমারোহ না থাকায় মৌমাছি খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে না। এ সময় তাদের কৃত্রিম খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। আব্দুল আলীম আরও বলেন, দশটি মৌবাক্সোর জন্য সপ্তাহে ৮ কেজি করে খাদ্য দিতে হয় যার মূল্য আসে চারশত টাকা। এভাবে ৫মাস খাদ্য দিতে হয়।

সাফল্যের নাগাল পাওয়া আব্দুল আলীম আগামী বছর আরো দুই শতাধিক মৌমাছির বাক্স তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন। মধু চাষ শুরু করে তার ভাগ্যের চাকা অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই স্বাবলম্বী।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুরমান আলী জানান, মৌচাষের উপর বেকার যুবকদের আগ্রহ বেড়েছে। ভ্রাম্যমান মৌচাষিরা সরিষার ফুল ছাড়াও কালিজিরা, লিচু ও বনের ফুল থেকে মধু আহরনে মনোযোগি হচ্ছেন। এতে করে এলাকায় মৌচাষ ও মধু আহরন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close