ছবি ঘরশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

শীতের রঙ, খাবার

অর্ণব পাল সন্তু: পৌষ মাসের দ্বীতিয় দিন আজ। তাপের পারদ নামছে সামনে আরো কমবে। এখন চাই উষ্ণতা।চারদিকে সবকিছুই শুষ্ক, রুক্ষ। শীতকালের আবহাওয়া তো এমনই অন্দর, সাজসজ্জা,সবখানেই চাই উষ্ণতা। কিছু টিপস মানলেই মিলবে কাঙ্খিত উষ্ণতা।
শীতে অন্দরসজ্জা
অন্দরে সাজসজ্জার কিছু পরিবর্তন করে বাড়াতে পারেন উজ্জ্বলতা, সেই সঙ্গে ঘরও উষ্ণ হয়ে উঠবে৷ এর জন্য অবশ্য দেয়ালের রং পাল্টে ফেলতে হবে না৷ মজার ব্যাপার হলো, ঘরে উষ্ণ ভাব আনতে হিটারের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি রং আর বাতির আলো-আঁধারির খেলাতেই ঘরে উষ্ণ একটা ভাব চলে আসবে। অন্দরসজ্জাবিদেরা এমনটাই জানালেন।..
ঘরের টুকিটাকি জিনিসপত্র বদলেই অন্দরের সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
লাল, কমলা, হলুদ এই তিনটি রঙের উপস্থিতিতেই ঘরের শীতল ভাবটি বিদায় নেবে। পর্দা, বিছানা ও ডিভানের চাদর, সোফার কভার, কুশন, খাবার ঘরের টেবিল ক্লথ, রানার বদলানো তো খুব কঠিন নয়। সব যে একসঙ্গে পাল্টে ফেলতে হবে, তা-ও নয়। শুধু পর্দা, বিছানার চাদর, সোফার ব্যাগ, টেবিলের রানার, চেয়ারের কভার এসব জায়গাতে উজ্জ্বল এই তিনটি রঙের কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।
এখনকার আবহাওয়ায় একটু ভারী সিনথেটিক কাপড়ের পর্দাই ভালো। কারণ, শীতকালে মোটা কাপড় সহজে শুকাতে চায় না, তবে সিনথেটিক কাপড় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুকিয়ে যায়। তা ছাড়া ভারী কাপড় ভেদ করে বাইরের হিম বাতাস এবং ধুলাবালিও ভেতরে ঢুকতে পারে না। শীতকালে জানালায় দুই স্তরের পর্দা ব্যবহার করলে ভালো। ভেতরের দিকে নেটের পর্দা দিয়ে, ওপরে ভারী আরেকটি পর্দা রাখতে পারেন। তাহলে দিনের বেলায় ভারী পর্দাটি সরিয়ে নিলেই শীতের মিষ্টি রোদ ঘরে ঢুকে পড়বে।
ক্যানভাস, পাহাড়ি সুতি কাপড়, পাট এবং সিনথেটিক উপাদানের পর্দা এ সময় বেশ উপযোগী।
সোফার কভার যদি হয় চাপা সাদা তাহলে লাল রঙের হতে পারে সোফার ব্যাগগুলো। আবার সোফার কভার একরঙা হলে কুশন হতে পারে ছাপা নকশার। লাল, হলুদ, কমলা এই রংগুলোর সঙ্গে চাপা সাদার সমন্বয় খুব ভালো মানায়। অবশ্য এই তিনটি রঙের মধ্যে থেকে কোনটি বেছে নেবেন, তা আপনার ঘরের দেয়াল ও আসবারের রঙের ওপর নির্ভর করবে। ঋতুভেদে পুরো বাড়ির রং তো আর বদলে ফেলা যায় না, তবে বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু রঙের কথা জানিয়েছেন যা সারা বছরই চোখকে আরাম দেবে। যেমন: নীল, সবুজাভ, বাদামি।
মাঝখানের চেয়ারে কভারের ব্যবহারের চল উঠে গিয়েছিল৷ রং মিলিয়ে টেবিল ক্লথ, চেয়ার কভার, ম্যাট ও রানার ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে।
শোয়ার ঘরের জন্য বেড কভার হিসেবে বেছে নিতে পারেন রানি গোলাপি, লাল, সোনালি, হলুদ বা চকলেট রং। এর সঙ্গে থাকতে পারে কালো বা ছাই রঙের মিশেল। অন্য সময় যে রঙের চাদরগুলো বেশি চোখে লাগত তা এখন অনায়াসে বিছিয়ে নিতে পারেন।
শোয়ার ঘরের পর্দাটা হতে পারে গাঢ় নীল এবং চাপা সাদার সমন্বয়ে। হতে পারে সোনালি রঙের ব্যবহার, এই রঙের সুবিধা হলো গরম বা শীত যেকোনো সময়েই মানিয়ে যায়।
বাড়ির কিছু জায়গায় শীতকালে কার্পেটিং করা যেতে পারে। বসার ঘর, শোয়ার ঘর কিংবা বাড়ির যেসব জায়গায় বেশি সময় কাটানো হয় সেই জায়গাগুলোতে পুরো মেঝেজুড়ে বা কিছু অংশে কার্পেট পাততে পারেন।
সন্ধ্যা নেমে এলে হালকা হলদে বাতি বা ওয়ার্ম লাইট জ্বালিয়েও ঘরটাকে উষ্ণ করে তোলা সম্ভব। ঘরের কোনায় তিন স্তরের ল্যাম্প শেড রাখা যেতে পারে। এটি সিলিং থেকে ঝুলন্ত হতে পারে, আবার টেবিল ল্যাম্পও হতে পারে। এটি নির্ভর করছে আপনার ঘরের আকার এবং অন্য আসবাবের ধরনের ওপর।
কেবল বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে নয়, রং-বেরঙের মোম জ্বালিয়েও ঘরের ভেতরে উষ্ণ একটা ভাব নিয়ে আসতে পারেন। স্বচ্ছ কাচের বোল বা মাটির বড় সরায় পানি ভরে তার ওপর ফুল অথবা ফুলের পাপড়ি আর সঙ্গে কয়েকটি মোম জ্বালিয়ে ভাসিয়ে দিন। ঘরের এক কোণে বা মাঝ বরাবর রেখে দিলে তা দেখতেও নান্দনিক হবে আর ঘরও থাকবে খানিকটা গরম।
আর শীতের এই সময়টায় প্রচুর রঙিন ফুল পাওয়া যায়; তা গুচ্ছ করে সাজিয়ে ফুলদানিতে রাখলেও কিন্তু ঘরের উজ্জ্বলতা বাড়ে, অন্দরে ফিরে আসে প্রাণ। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে ঘরে চলে আসবে বসন্ত।
শীতের রঙে সাজসজ্জা
শীত এসে গেছে। আমাদের দেশে শীতের পোশাকে যেমন বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায় তেমনি রংয়ের ক্ষেত্রেও অনেক রং পরিলক্ষিত হয়। ফ্যাশন সচেতনরা রং এবং ডিজাইন নিয়ে অন্য ঋতুতে যেমন ভাবেন শীতের পোশাকের ক্ষেত্রে আগ্রহটা আরও বেড়ে যায়।শীতকালে বেছে নিতে পারেন লাল, হলুদ, উজ্জ্বল সবুজ অথবা নীল রঙ।
শীতের নানা পোশাকের মাঝে নারীরা শাড়ীর সাথে ম্যাচ করে শাল পড়তেই বেশি পছন্দ করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে অফিস না হোক ঘরোয়া পরিবেশে কিংবা কোন উপলক্ষে শাল পরতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশের প্রতিদিনের আবহাওয়ায় তারতম্য থাকায় দেখা যায় সকালে খুব কুয়াশা বা ঠান্ডা দেখে বের হওয়ায় সময় বাসা থেকে শীতের কাপড় নিয়ে বের হলেও কয়েক ঘন্টা পরেই তা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
শীতের সময়ে সাজে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করুন। তবে সেটা আপনার সঙ্গে যাচ্ছে কিনা সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। শীতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানের পোশাকটা একটু জমকালো হলেই ভালো। এ ছাড়া জন্মদিন, বিয়েবাষির্কী বা এজাতীয় অনুষ্ঠানে সিল্ক, সুতি, কোটা, অ্যান্ডি জামদানি এ ধরনের পোশাক বা শাড়ি মানানসই। ট্র্যাডিশনালের বাইরে সাজতে চাইলে ফিউশন পোশাক বেছে নিতে পারেন। জিন্স, লেগিংসের সঙ্গে ফতুয়া, শাটর্ টপস বা কামিজও ভালো যায়। কালো সব সময়ই গজির্য়াস। এ ছাড়া অন্য কোনো উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরলেও ভালো লাগবে। বাঙালি নারীর চিরকাল প্রিয় পোশাক শাড়ি। যে কোনো অনুষ্ঠানেই এটি বেশ মানায়। তবে শীতের কথা মাথায় রেখে সিল্ক, জামদানি অথবা কোটা শাড়ি পরাই শ্রেয়। শাড়ির সঙ্গে ফুল¯িøভের বøাউজ পরুন। ফ্যাশনের সঙ্গে শীত তাড়াতেও কাজে দেবে। হালকা রঙের শাড়ি পড়লে এর সঙ্গে ম্যাচিং করে ভারী শাল অথবা কাডিের্গন পরুন। শাড়ির এক সাইডে শাল ছেড়ে দিলেও দেখতে বেশ স্টাইলিশ লাগবে। অনেকে সময় বঁাচাতে শাড়ির বদলে পাটিের্ত ফুল¯িøভ সালোয়ার-কামিজ অথবা ফতুয়া পরেন। এর সঙ্গে ছোট শাল অথবা চাদর পরুন। ব্যাস পাটির্র জন্য আপনি তৈরি।
শীতের সময়ে সাজে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করুন। পোশাক, মেকআপ বা অ্যাক্সেসরিজ সব কিছুতেই রাখুন উজ্জ্বল রঙের সমাবেশ।
শাড়ি পরলে চুল আয়রন করে ছেড়ে রাখতে পারেন অথবা উঁচু করে খেঁাপা করতে পারেন। ওয়েস্টানর্ পোশাক বা লম্বা গাউন টাইপের পোশাক পরলে সামনের অংশের চুল হালকা পাফ করে ফুলিয়ে পেছনে ক্লিপ আটকিয়ে বাকি চুল খোলা রাখুন। হাত-পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। নখে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নেইলপলিশ পরুন।
শীত উজ্জ্বল রঙের মৌসুম। চোখে গাঢ় স্মোকি মেকআপ করুন আর ঠোঁট রাঙিয়ে নিন উজ্জ্বল লিপস্টিকে। লিপস্টিকের জন্য বেছে নিন গাঢ় ওয়াইন, ডিপ প্লাম, বেরি, ফুশিয়া, ঝলমলে কোরালের মতো রং আর রাঙিয়ে তুলুন আপনার প্রতিটি দিন।
শীতের উপযোগী উষ্ণ রং বেছে নিন নিজের পছন্দমতো:
উজ্জ্বল কোরাল
সাধারণত কমলা বা কোরাল সারাবছর তেমন পরা হয় না অনেকের, কিন্তু শীতের সময়টা এই শেড পরার পক্ষে আদর্শ। শীতের নরম রোদ্দুরের সঙ্গে মিলিয়ে দিন আপনার ঠোঁটের রং, আর ঝলমলে হয়ে উঠুন।
গাঢ় ফুশিয়া
গোলাপি মানেই বেবি পিঙ্ক নয়। এখন সময় ফুশিয়া রঙের লিপস্টিক পরার। শীতের চন্দ্রমল্লিকার রঙে রং মিলিয়ে আপনার ঠোঁটও রাঙিয়ে নিন গাঢ় ফুশিয়ায়।
ক্রিম ম্যাট লাল
শীতের দিনগুলোতে সাধারণত ম্যাট লিপস্টিক এড়িয়ে চলতে বলা হয় যাতে ঠোঁট শুকনো হয়ে না যায়। কিন্তু আপনি যদি ম্যাটের ভক্ত হন, তা হলে বেছে নিন ক্রিম-বেসড ম্যাট। আর অতি অবশ্যই তার রং যেন হয় গাঢ় মেরুন-লাল। পার্টিতে উষ্ণতা ছড়ানোর জন্য এর চেয়ে ভালো শেড আর নেই!
গ্লসি ন্যুড
শীতের দিনেও স্বাদবদলের জন্য এক-আধবার ন্যুড লিপস্টিক পরা যেতেই পারে! তবে তা যেন হয় চকচকে ন্যুড। দিনের বেলার যে কোনও অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল রঙের পোশাকের সঙ্গে পরে নিন এই শেডের লিপস্টিক।
শীতের খাবার
ই শীতে অনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হন। এর বাইরে শীতের বৈরী আবহাওয়া ত্বকের জন্য বয়ে আনে নানান ধরনের সমস্যা। শীতের বৈরী আবহাওয়া ত্বকের জন্য বয়ে আনে নানান ধরনের সমস্যা। পাশাপাশি অনেক সময় ত্বকে হতে পারে বিভিন্ন রোগও। কিছু চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এই সময়। সুস্থ থাকার জন্য ঋতুর এ পরিবর্তনে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে একটু সচেতন হতে হবে। কিন্তু শীতে অসুস্থ হওয়া ঠেকাতে পারে শীতের কিছু সবজি, যা খেলে দিব্যি তরতাজা থাকবেন আপনি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি চাই ভেতর থেকে সুস্থতা।
সারা দেশে শীত এখন জেঁকে বসেছে। এই শীতে অনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হন। এর বাইরে শীতের বৈরী আবহাওয়া ত্বকের জন্য বয়ে আনে নানান ধরনের সমস্যা। পাশাপাশি অনেক সময় ত্বকে হতে পারে বিভিন্ন রোগও। কিছু চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এই সময়। সুস্থ থাকার জন্য ঋতুর এ পরিবর্তনে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে একটু সচেতন হতে হবে। কিন্তু শীতে অসুস্থ হওয়া ঠেকাতে পারে শীতের কিছু সবজি, যা খেলে দিব্যি তরতাজা থাকবেন আপনি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি চাই ভেতর থেকে সুস্থতা। শীতে কিছু খাবার আপনাকে সজীবতা ও সুস্থতা দেবে। জেনে নিন এই খাবারগুলো কী:
স্যুপ: শীতে শরীর সুস্থ রাখতে স্যুপ বা ঝোল দারুণ উপকারী। শীতেই মেলে স্যুপের আসল মজা। ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম-গরম চুমুক। শীতের বিকেলে বা রাতের খাবারে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি স্যুপ হলে কিন্তু মন্দ হয় না। এতে শরীর থেকে একটু হলেও কাটবে ঠান্ডার রেশ। শরীর সুস্থ রাখতে শীতের সময় নানা সবজি আর মুরগির মাংস বা ডিম দিয়ে বানিয়ে খেতে পারেন স্যুপ।
মূল জাতীয় সবজি: শীতের রোগবালাই দূর করতে এ মৌসুমের মূলজাতীয় সবজি দারুণ কার্যকর। বিট, মিষ্টি আলু, গাজর, শালগমের মতো নানা সবজি শীতে আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এসব সবজিতে থাকা ভিটামিন ও নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এগুলো ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এসব সবজি শীতকালে দেহের উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে।
টক ফল: শরীরে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি মেটাতে ও ভিটামিন সির জোগান দিতে শীতের সময় বেশি করে টকজাতীয় ফল খেতে পারেন। কমলা, বরই, পেয়ারা হতে পারে ভিটামিন সির দারুণ উৎস। পেয়ারায় আরও অনেক বেশি ভিটামিন সি থাকে, যা অনেক বেশি প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে আরও থাকে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের তথ্য অনুযায়ী, বরইয়ে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ আছে নানা কিছু। রোগ প্রতিরোধে যেমন ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। বরই সবার জন্য ভালো হলেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কিন্তু না। পাকা বরইয়ে চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পাকা বরই না খাওয়াই ভালো।
পালং: শীতে বাজারে পালং শাক প্রচুর পাবেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শীতে সুস্থ থাকতে পালং শাক খেতে পারেন। পুষ্টিতে ভরপুর পালংয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যানসারপ্রতিরোধী গুণের কারণে এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত। সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমাতে পারে। পালংয়ে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, এতে ক্যালরি থাকে কম। তাই ওজন কমাতে খাবারে বেশি করে পালং রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের ওজন বেশি, তাঁরা নিয়মিত পালং শাক খেলে বাড়তি ওজন কমে যায়।
মাছ ও শিম: শীতে বেশি করে মাছ খান। আমিষের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন দুই বেলা মাছ খান। খাবারে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন সামুদ্রিক মাছ রাখুন। এ ছাড়া মাছের সঙ্গে শিম যুক্ত করে খেতে পারেন। মাছের ঝোলে শিম মানিয়ে যায়। ভর্তা হিসেবেও অনন্য। শিম শুধু রসনাবিলাসই করে না, তার অন্য গুণও আছে। পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের তথ্যানুযায়ী, শিম প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেলে সমৃদ্ধ। যাঁরা সরাসরি প্রোটিন খান না, অর্থাৎ মাছ-মাংস খাওয়া হয় না, তাঁদের জন্য শিমের বিচি শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে। যাঁদের আমিষ খাওয়ায় সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। আর এই শীতে নিয়মিত শিম খেলে ত্বকও ভালো থাকবে।
তাপ বাড়াতে শীতের খাবার
বাড়িতে কী খাবেন, তার একটা পরিকল্পনা করে নেওয়া যায়। চাই এমন খাবার, যা দেহের বিপাকক্রিয়া বাড়াবে, তাপ উৎপাদন করবে শরীরে আর শীত তাড়াবে।
এক. শীতকালে হালকা তেল-মসলার খাবার বা জলীয় খাবারের বদলে একটু ভারিক্কি খাবার খেলে ক্ষতি নেই। মসলা শরীরে তাপ উৎপন্ন করে, বিশেষ করে একটু ঝাল, আদা বা পেঁয়াজ ইত্যাদি। খাবারে একটু বেশি চর্বি তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তাই মাছের বদলে মাংস বেছে নেওয়া যায় এ সময়। ভাজা-পোড়া খেলেও ক্ষতি নেই, তবে বুঝেশুনে।
দুই. ঠান্ডা তাড়াতে এক কাপ গরম চায়ের তুলনা নেই। শীতের বিকেলে বা সন্ধ্যায় এই চা যথেষ্ট উষ্ণ করবে। আরও ভালো হয় যদি চায়ে আদা বা দারুচিনি-জাতীয় মসলা যোগ করা যায়। এগুলো দেহের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
তিন. রাতের বেলায় সাধারণ ভাত-তরকারির বদলে এক বাটি গরম স্যুপ ও সঙ্গে ওটমিল বা লাল চালের ভাত বেছে নেওয়া ভালো। এগুলো তাপ যেমন বাড়ায় তেমনি অনেকক্ষণ ক্যালরির জোগান দেয়।
চার. রাতে শোবার সময় এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম দুধ সমস্ত রাত ধরে তাপ ও ক্যালরি জোগাবে। এটা ভুলবেন না।
পাঁচ. একটু ভাজা-পোড়া বা ভারিক্কি খাবারের পর হালকা গরম পানি বা কোনো গরম পানীয় নিন, সেটা হজমে সাহায্য করে। কুসুম গরম পানি গলায় ঠান্ডা লাগানো থেকেও রক্ষা করে।

Close