গোদাগাড়িশিরোনাম-২

গোদাগাড়ীতে এক সপ্তাহে ৫টি পুকুর খনন বন্ধ

মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দিনে-রাতে অবাধে চলছে কৃষি জমিতে পুকুর বা দিঘি খননের কাজ। কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করায় আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন। এতে করে এক সপ্তাহে ৫টি পুকুর খনন বন্ধ,খননের কাজে ব্যবহাকৃত ৬টি ভেকু মেশিন জব্দ,৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিনজনকে কারাদন্ড দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নাজমুল ইসলাম সরকার। গত ১৪ ডিসেম্বর শনিবার উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের আন্দ্রাইল মাঠে পবা উপজেলার নওহাটা বড়গাছি এলাকার মধসুধনপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ৪০ বিঘা কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন করছিলো। ১৫ ডিসেম্বর রোববার পজেলার কুশিয়া বিলে পুকুর খনন করার সময় ম্যানেজার বিষ্ণু সরকার(৪৮)কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার মেহেরচন্ডি গ্রামের রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। ও ১৮ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে পুকুর খনন করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন জনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের নামো বিল্লি মাঠে ৩০ বিঘা ধানী জমিতে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন করার সময় হাতেনাতে ধরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভ্রাম্যমান আদালতে এ সাজা প্রদান করে। এবং ২টি (ইস্কেবেটর) ভেকু মেশিন অকেজো করার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল জব্দ করা হয়।সাজা প্রাপ্তরা হলেন উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের নামো বিল্লি গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে দুলাল হোসেন(৫৪), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন(২২) এবং পাবনা জেলার আমিনপুর উপজেলার রানীনগর গ্রামের আক্কাশ মোল্লার ছেলে সিহাব হোসেন (২৩)। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পাকড়ী ইউনিয়নের নামো বিল্লি বিলের মাঠে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা করে ৩ টি পুকুরে মোট ১০০ বিঘা ধানী জমিতে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন করছিলেন। উপজেলার কয়েকটিট ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি জমিতেই চলছে এ পুকুর খননের চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছে। আর খননের পর বেশিরভাগ মাটি ট্রাক্টরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক্টর অবাধে চলাচল করায় অল্পদিনেই নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। এতে করে দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে যারা গাড়িগুলো চালাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের বয়স পনের থেকে বিশের মধ্যে। এদের কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, আমার মাত্র ১০দিন হলো উপজেলায় যোগদান করা। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে ৫টি পুকুর খনন বন্ধ ও ৩ জনকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে এবং খনরে কাজে ব্যবহ্নত সরমঞ্জান আটক করা হয়। ফসলি জমিতে কেউ যদি পুকুর খনন করে কোন অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। যদি কেউ পুকুর খনন করতে চাইলে আবেদনের পর সরেজমিন তদন্ত করে অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন কৃষি ফসল বিনষ্ট করে পুকুর খনন করা আরও বড় অপরাধ।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close