গোদাগাড়িশিরোনাম-২

আদিবাসীদের সার্বিক উন্নয়নে কাঁকনহাট পৌরসভায় মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: :কাঁকনহাট পৌর অডিটরিয়ামে আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আদিবাসীদের সার্বিক উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী নেতা নিকোলাস মুরমু। প্রধান অতিথি ছিলেন কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাঁকনহাট পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাঁকনহাট পৌর প্যানেল মেয়র আজাহার আলী, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, কৃষকলীগ সভাপতি কল্লোল মোল্লা, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালাচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু, আদিবাসী নেতা বেনেডিক, ললিত নগর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক রাজেন, কাঁকনহাট পৌর মহিলা লীগের সভাপতি আশরাফুন নেসা পরি ও সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা বেগম।

এছাড়াও আদিবাসী নেতা সৃষ্টি টুডু, গনেশ মার্ডি, গোদাগাড়ী উপজেলা পারগানা বাইশির পারগানা বাবুলাল মুর্মু, জ্ঞানচন্দ্র মাঝি, বাবলু হাঁসদা, গাব্রিয়েল সরেন, পুতুল হাঁসদা, লুচিয়ানা সরেন, জ্ঞানেন হেমরম, বিশু হেমরম, চুড়কা হাঁসদা, মহেশ হেমরম ও দুলাল সরদারসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অন্যান্য আদিবাসী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলা পারগানা বাইশির সাধারণ সম্পাদক দীনেশ হাঁসদা।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে এখনো যেসব উন্নয়ন চলমান আছে এবং যে গুলো উন্নয়ন করা দরকার সে সবগুলো মেয়রের নিকট তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান মেয়রের আমলে প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, বেশীরভাগ রাস্তায় আলোকিত করণসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং অনেকগুলো চলমান রয়েছে। সেগুলো সমাপ্ত হলে কাঁকনহাট একটি মডেল পৌরসভায় পরিণত হবে। এছাড়াও মেয়র আদিবাসীদের শিক্ষার প্রসারে নিজ তহবিল হতে সহায়তা প্রদান করা সহ পৌর এলাকার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌরসভার মাধ্যমে একজন করে শিক্ষক প্রদান রেখেছেন বলে জানান তারা। উপস্থিত আদিবাসী নেতৃবৃন্দ মেয়র মজিদের দীর্ঘায়্যু কামনাসহ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে পূণরায় তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

মেয়র উপস্থিত সকলের কথা শোনেন এবং বলেন, তাঁর আমলে এই পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভা হতে ৬১৫ জন বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। এরমধ্যে আদিবাসী রয়েছেন ৯৭ জন। মাতৃত্বকালীন ভাতাভোঘী রয়েছেন ৪৫০জন, এরমধ্যে আদিবাসী নারী ৫৫জন। প্রতিবন্ধি ভাতা পাচ্ছেন ১৩৮ জন । এরমধ্যে আদিবাসী রয়েছেন ১৫ জন। এছাড়াও ২০ থেকে ৩৫ বছরের মায়েদের জন্য সর্বোচ্চ দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি আরো বলেন, পৌরসভাকে দিনের আলোর ন্যায় আলোকিত করে রাখতে ইতোমধ্যে স্টিক লাইট স্থাপন কাজ শুর করা হয়েছে। ৩০০টি এই ধরনের লাইট স্থাপন করা হবে। এছাড়াও পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিগত বছরের ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল করার জন্য দাতা সংস্থা প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জায়গার অভাবে তা করা সম্ভব হয়নি। সে সময়ে কেউ জায়গা দেয়নি। কিন্তু পুণরায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এই হাসপাতাল হবে বলে জানান তিনি।

আদিবাসীদের সার্বিক উন্নয়নে কাঁকনহাট পৌরসভায় মতবিনিময় সভা

তিনি বলেন, পৌরসভায় বতর্মানে প্রাথমিক চিকিৎিসা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। যে কেউ এখান থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। তিনি বলেন, পৌরবাসীর ব্যবসার উন্নয়নে দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ পর্য়ন্ত ৯৭টি দোকানঘর প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরো বরাদ্দ প্রদান করা হবে। সেইসাথে আরেকটি নতুন মার্কেট তৈরীর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই মার্কেটে দোকানঘর নেওয়ার জন্যই যেকোন ব্যক্তি আবেদন করতে পারবেন। আর যারাই আবেদন করবেন তারাই দোকানঘর পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। আগামীতে অবশিষ্ট কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সেইসাথে প্রশাসন চালাতে গিয়ে ভুলভ্রান্তিগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য উপস্থিত নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ করেন মেয়র।

বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close