ছবি ঘরমহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

ইতি ঘটলো রাজশাহী কলেজের মিলনমেলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শনিবার দুই দিনব্যাপী রাজশাহী কলেজের প্রথম এইচএসসি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।
এতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৯ হাজার অ্যালামনাস। দীর্ঘদিন পরে ক্যাম্পাসে এসে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উৎসবে মেতে ওঠেন। পুরোনো বন্ধুবান্ধবদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন তারা। শোনালেন হাজারো স্মৃতির গল্প। নাচ, গান, আনন্দ-উল্লাস আর আবেগঘণ মূহুর্তগুলোকে ফ্রেমে বন্দি করে রাখলেন। নিজেরা রোমাঞ্চিত হলেন, সেই সঙ্গে আবারো একবার গর্বিত করলেন কালের সাক্ষী ঐহিত্যবাহী রাজশাহী কলেজকে।
শনিবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে ঢুকতে থাকেন অ্যালামনাসরা। নানা সাজে নিজেদেরকে উপস্থাপন করেন তারা। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকাল থেকে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, ব্যাচভিত্তিক স্মৃতিচারণ, রাজশাহী কলেজের উন্নয়নের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আগামীর স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা ইত্যাদিতে অংশ নেন তারা।ইতি ঘটলো রাজশাহী কলেজের মিলনমেলার
তাদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে রাজশাহী কলেজের অতীত ঐতিহ্য-ইতিহাস, রূপালী অতীতের সোনালী গল্প। তাদের গল্পে উপস্থিতরা হারিয়ে যান সেই দিনগুলোতে। গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিচারণের মাধ্যমে সিনিয়র অ্যালামনাসরা যেমন যৌবনের সেই তারুণ্য ফিরে পেয়েছিলেন, তেমনিভাবে সকলকে করেছেন গৌরবান্বিত। সিনিয়রদের মুখে রাজশাহী কলেজের গৌরবগাঁথা শুনে গর্বে বুক ফুলিয়েছেন তরুণরা।
এগুলোর মাঝে চলতে থাকে একক, গ্রুপভিত্তিক ছবি ও সেল্ফি তোলা। ব্যাচের বন্ধুদের সাথে আলাপ, কলেজে কাটানো সময়ের স্মৃতি রোমন্থন, বন্ধুদের ফোঁড়ন কাটা, হাসি-ঠাট্টা, হাজারো খুনসুটি। অনেকেই পুরোনো দিনের বন্ধুকে কাছে পেয়ে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফিরে গেছেন সেই পুরোনো দিনগুলোতে।
এদিকে, টানা চারবার শিক্ষামন্ত্রনালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম হওয়া কলেজের বর্তমান সৌন্দর্যে অভিভূত প্রাক্তনরা। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের এমন আমূল পরিবর্তে তারা মুগ্ধ, সেইসঙ্গে গর্বিত। রাজশাহী কলেজকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং এই অ্যালামনাই অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় তারা বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) শিক্ষার্থী ছিলেন শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনিও যোগ দিয়েছেন মিলন মেলায়। তার মতে, এমন অপরূপ সাজে তিনি এই কলেজকে আগে কখনও দেখেন নি। এছাড়াও কলেজের বর্তমান সৌন্দর্যে মুগ্ধ তিনি। তিনি কলেজের সৌন্দর্য সম্পর্কে বলেন, ‘আল্ট্রা মডার্ণ, অতি সুন্দর’। ছেলে ও পুত্রবধুর সঙ্গে এই মিলনমেলায় অংশ নিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শেষ করা এই অ্যালামনাস।ইতি ঘটলো রাজশাহী কলেজের মিলনমেলার
ইংরেজ প্রকৌশলীর পরিকল্পনায় নির্মিত পুরনো গাঢ় লাল রঙের ভবনগুলো এমনিতেই কলেজের বিশেষ আকর্ষণ। সেসব ভবনের ওপর করা হয়েছে সাদা রঙের আলোকসজ্জা। এই আলোকসজ্জা ভবনগুলোর সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। শুধু প্রশাসন ভবন নয়, কলেজের অন্যান্য সব ভবনে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। বাদ যায়নি কলেজের ভেতরে থাকা গাছগুলোও।
কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রখ্যাত কবি, গীতিকার এবং সুরকার রজনীকান্ত সেনের নামে মঞ্চের নাম দেয়া হয়েছে ‘রজনীকান্ত মঞ্চ’। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকদের মন মাতান জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমস।
আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কার্যক্রমে যোগদান করেছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আমহমেদ পলক। সকল শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়ে গেলেন দুইটি গান। নিজ কণ্ঠে গান গেয়ে মঞ্চ মাতালেন প্রতিমন্ত্রী।
দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্যালভেশন ব্যান্ড এর গানের পর্ব চলছিল। ঠিক সে সময়ে উঠে আসলেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মঞ্চ ছাড়া আশে পাশের সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। শুধু সাদা ফ্লাস লাইট। বহুল স্মৃতিঘেরা বচন, সেই চিরো চেনা সুর। গেয়ে উঠলেন কিংবদন্তী আইয়ুব বাচ্চুর গান ‘সেই তুমি’। সাথে সাথেই গ্যালারীর চারপাশ থেকে গুঞ্জন উঠে যায়। প্রতিমন্ত্রী পলক যেন সবার মনের আশা পূরন করে দিয়েছেন।
এরপর আরেক কিংবদন্তী বাংলাদেশের পপ সম্রাটের গান “অভিমানী তুমি কোথায় হারিয়ে গেছ”। নেচে গেয়ে মঞ্চ কাপালেন পলক। সেই সাথে নাচলো পুরো রাজশাহী কলেজ।ইতি ঘটলো রাজশাহী কলেজের মিলনমেলার
অনুষ্ঠানের শেষ দিন মধ্যাহ্ন বিরতির পরে রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই গঠন, র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় অনুুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘চিরকুট’।
এরপরেই ছিল চোখ ধাঁধানো আতসবাজির খেলা। লাল, নীল, সবুজ, হলুদসহ নানারকম আলোর ঝলকানিতে জ্বলে ওঠে রাজশাহী কলেজের আকাশ। কলেজ মাঠে থাকা হাজার হাজার অ্যালামনাস তা উপভোগ করেন। তাদের তালি ও সিটিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। এর মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটে দুই দিনব্যাপী এই মহা মিলনমেলার। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close