আন্তর্জাতিকশিরোনাম-২

সোলাইমানির শোকমিছিলে পদদলিত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু: মৃত্যর আগে যা লিখেছিলেন সোলাইমানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবিশ্বাস্য ভিড়ের কারণে মার্কিন হামলায় নিহত বিপ্লবী গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানির দাফন কাজে বিলম্ব হচ্ছে। শোক মিছিলে পদদলিত হয়ে তার নিজশহর কেরমানে ৩৫ ইরানির মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, শোকার্ত মানুষের চাপে জেনারেল সোলাইমানির দাফন অনুষ্ঠান আপতত স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সোলাইমানির নিজ শহরে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষকে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। এছাড়া তেহরান, কুয়াম, মাশহাদ ও আহভাজ শহরেও মানুষের ঢল নেমেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা গেছে, লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন। তাদের পরনে শোকের কালো পোশাক।
ইরনার খবরে বলা হয়, জেনারেল সোলাইমানির মরদেহ বহনকারী গাড়ি ভিড়ের কারণে সহজে সামনের দিকে এগোতে পারছে না। শোকার্ত জনতা খুব কাছ থেকে তাদের বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন।
জেনারেল সোলাইমানিকে বহনকারী গাড়ীতে একবার হাত বুলিয়ে দিতে পারাকে পরম সৌভাগ্য বলে মনে করছেন অনেকে। এ কারণে গাড়ির সামনে পেছনে শুধুই মানুষ।
দেশটির জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান পীর হোসেন কলিভান্দ বলেন, শোকমিছিলে অংশ নিয়ে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন।
কেরমানে এএফপির প্রতিনিধি বলেন, দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহরের রাস্তায় লোকে লোকারণ্য। নিহত জেনারেলের প্রতি শোক জানাতে তারা মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, শোকার্ত লোকজন অবসন্ন হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছেন। অন্যরা তাদের বুকে ঘষামাজা করছেন। মাটিতে পড়ে থাকা কারো কারো মুখ জ্যাকেট ও কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখা গেছে।
এর আগে , রোববার সোলেমানির মৃতদেহ ইরাক থেকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ইরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের জুমার নামাজ চত্বরে তার জানাজা হয়।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখানে সোলেমানিসহ তার সঙ্গে নিহত সবার জানাজা হয়।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানাজায় ইমামতি করেন, এর এক পর্যায়ে তাকে কাঁদতে দেখা গেছে।
জানাজায় যোগ দিতে তেহরানে ব্যাপক লোক সমাগম হয়েছিল। তাদের অনেককেই কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ নিহত কমান্ডারের ছবি নিয়ে জানাজায় যোগ দিতে এসেছিলেন।
মৃত্যর কয়েকঘন্টা আগে যা লিখে গেলেন সোলাইমানি
মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার আগে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি অসাধারণ কিছু কথা লিখে গেছেন। নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি কথাগুলো লিখে যান।
সোলাইমানির শোকমিছিলে পদদলিত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু: মৃত্যর আগে যা লিখেছিলেন সোলাইমানিসোলাইমানি বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ফ্লাইটযোগে বাগদাদে যাওয়ার আগে আধ্যাত্মিক কথাগুলো লিখে যান। আবাসিক কক্ষে তিনি কাগজটি রেখে যান। যেখানে তার একটি প্রার্থনা লেখা ছিল।
জেনারেল সোলাইমানির আধ্যাত্মিক কথাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
“হে আল্লাহ! আমাকে একা ছেড়ো না
হে আল্লাহ! আমাকে গ্রহণ করো
হে আল্লাহ! আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করি
সেই একই সাক্ষাৎ যা নবী মূসাকে (আ.) দাঁড়াতে ও শ্বাস নিতে অক্ষম করেছিল
হে আল্লাহ! আমাকে গ্রহণ করো
সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর প্রতি যিনি বিশ্বজগতের প্রভু
হে আল্লাহ! আমাকে বিশুদ্ধরূপে গ্রহণ করো।” বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close