বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারার মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করলেন ইউএনও

আব্দুল মতিন, বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টোল আদায়ের নামসহ নানা অযুহাতে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ। তিনি বাগমারার বিভিন্ন গুরুত্তপূর্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত মহলের চাঁদাবাজি বন্ধ করে এলাকার ব্যবসায়ী মহল সহ বিভিন্ন যানবাহন ও পরিবহন মালিকদের ব্যাপক প্রশংসা ও সমর্থন যুগিয়েছেন। তবে এইধারা অব্যাহত রাখার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও যানবাহনের মালিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল ভবানীগঞ্জের ব্র্যাক মোড়, গোডাউন মোড়ে, বাসট্রান্ড, কলেজ মোড় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে টং ঘর বানিয়ে টোল আদায়ের সিষ্টেমে ভ্যান থেকে শুরু করে ট্রাক বাস, আটো, পিকআপ সহ সকল প্রকার যানবাহনের কাছে থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে আসছিল। এসব চাঁদাবাজরা দিনে দুপুরে ওই সব স্থানে জোর করে যানবাহন মালিকদের নাজেহাল করে ও শারিরিক লাঞ্চিত করে টাকা আদায় করে আসছিল। এর আগে নন্দনপুর কৃষক সমিতির পরিবহন ট্রাক ভবানীগঞ্জ ব্র্যাক মোড় দিয়ে যাওয়ার পথে চাঁদাবাজরা তাদের গাড়ি আটকিয়ে টাকার দাবীতে শ্রমিকদের মারপিট করে। তারা চাঁদার জন্য যানবাহনও ভাংচুর শুরু করে। এরপ্রেক্ষিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও যানবাহন মালিকরা ইউএনওকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানালে তিনি তাদেরকে আশ্বস্থ করেন। ইউএনও গত দুই দিন ভবানীগঞ্জের চাঁদা আদায়কারী ওই সব গুরুত্বপূর্ন স্থানে অভিযান শুরু করলে চাঁদাবাজরা পিছু হটে। পরে ইউএনও মোড় গুলোতে গিয়ে ওই সব টংঘর গুলো ভেঙ্গে দেন। স্থানীয়রা জানান, ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল মালেকের নাম ভাঙ্গিয়ে ওইসব রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবৈধ টং ঘর বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে একটি মহল। জনপ্রিতিনিধি ও ক্ষতাশীন দলের লোক দাবী করে ওই মহল চাঁদাবজি করলে ভুক্তভাগীরা এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এর আগে স্থানীয় ভ্যান চালকদের দাবীর মুখে এমপি এনামুল হক বাগমারার সকল ভ্যান চালকদের মোড় মোড়ে চাঁদা দিতে নিষেধ করেন। পরে এই ঘোষনা কিছু দিন বাস্তবায়ন থাকার পর আবারও শুরু হয় ভ্যান থেকে চাঁদাবাজি।
এবারও ভুক্তভোগিরা বলছেন ইউএনও’র এই প্রচেষ্টা ও ঘোষনা কতদিন চলমান থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ পোষন করেছেন অনেকেই। এ দিকে ইউএনও’র উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভবানীগঞ্জ বাজার বনিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম হেলাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু তালেব সহ সকল ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের মালিক ও শ্রমিক।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, আমি থাকাকালীন এই চাঁদাবাজদের আর বসতে দেওয়া হবে না। এ ভাবে চাঁদা আদায় সম্পূর্ন রুপে বেআইনী। তারা আবারও চাঁদা আদায়ের পায়তারা শুরু করলে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতে বসিয়ে কঠোর শস্তি প্রদান করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close