মহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকের বড় ভাই নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে দুই কর্মচারীর মারামারি থামাতে গিয়ে কৌশিক প্রমানিক মিঠু (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর মতিহার থানার বিনোদপুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত কৌশিক প্রমানিক মিঠু রাজশাহী মহানগর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রমানিক দেবুর বড় ভাই। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। রাজশাহীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ পারভেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এছাড়া এ ঘটনায় বর্তমানে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যামামলা করা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মারপিটের ঘটনায় আহত রাহুল আলাদাভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি। জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, কৌশিক প্রামাণিক মিঠু অলিম্পিক বিস্কুট কোম্পানির সুপারভাইজর। তার দু’জন কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে একজন ডেলিভারি ম্যান অপরজন ড্রাইভার। এর মধ্যে একজনের নাম সজিবুল ইসলাম (২২) আর কভার্ডভ্যান চালকের নাম রাহুল (২৫)। মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার অফিসে সকালে কোনো একটি বিষয় নিয়ে এরা দু’জনে নিজেরদের মধ্যে ঝগড়া করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে সবাই মিলে তাদেরকে থামিয়ে দেন।
এরা পন্য ডেলিভারি দিতে কভার্ডভ্যান নিয়ে দুপুরে মহানগরীর মতিহার থানার বিনোদপুর বাজারে যান। এর মধ্যে সজিবুলের বাড়ি পাশের ধরমপুরেই। নিজের বাড়ির এলাকার পাশেই মনে করে সেখানে যাওয়ার পর সজিবুল আবারও রাহুলের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কভার্ডভ্যান চালক রাহুলকে মারপিটও করেন। এ সময় কৌশিক প্রমানিক তাদের সাথেই ছিলেন। তিনি এদের দু’জনকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সজিবুলের হাতে তিনিও মার খান। পরে রাহুলকে নিয়ে আহত অবস্থায় কৌশিক প্রমানিক মতিহার থানায় সজিবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে যান। থানায় যাওয়ার পর কৌশিক আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগে পথেই কৌশিকের মৃত্যু হয়েছে।
তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও তার ডান কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এখন মারপিটের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটুকু বলা যায়। তবে মুত্যুর কারণ মাথায় আঘাত না অন্য কিছু তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে বলে যাচ্ছে বলে জানান, মহানগর পুলিশের এই ঊর্ধতন কর্মকর্তা। এদিকে রাজশাহী জেলা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা বলেন, বিকেলই কৌশিকের ময়না তদন্ত শেষ হয়। আজ রাত ৮টায় কৌশিকের শেষকার্য সম্পন্ন করা হয়। বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close