গোদাগাড়িশিরোনাম-২

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়েই চলছে ভূট্টার চাষ

ফজলুল করিম বাবলু: গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলে চলতি বছরে ভূট্টার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ছয়শত হেক্টর জমিতে বেশী চাষ হচ্ছে বলে জানা যায়। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের বরাত দিয়ে জানা যায় চলতি বছরে গোদাগাড়ীতে ভূট্টা চাষ হয়েছে ১৯৯০ হেক্টর জমিতে। গত বছর ছিল ১৪০০ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে গিয়ে গোদাগাড়ীর প্রতিটি মৌজাতেই ভূট্টার চাষ দেখা যায়।
গোদাগাড়ীর কাদিপুর গ্রামের ভূট্টা চাষী সাদিকুল বলেন, গত বছর তিনি এক বিঘা জমিতে চাষ করে লাভবান হওয়ায় চলতি বছরে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করছেন। তিনি বলেন, গমের থেকে খরচ কম, ফলন ও দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকরা এই ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে এক বিঘা জমিতে প্রায় পঁয়ত্রিশ মন করে ভূট্টার ফলন হয়। প্রতিমন ভূট্টা ছয় থেকে সাতশ টাকায় বিক্রি করছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, চাষ, পরিচর্যা ও কর্তন করে ঘরে তোলা পর্যন্ত আট থেকে দশ হাজার টাকা খরচ হয় । খরচ বাদে গত বছর এক বিঘা জমি থেকে এগার হাজার টাকা আয় করেছেন বলে তিনি জানান। চলতি বছরে আবহাওয়া ভাল থাকলে তিনি আরও বেশী লাভ করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা মাটিকাটা ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিঘাপতি দেড় থেকে দুই কেজি বীজ, ডি.এ.পি সার পঞ্চাশ কেজি, এম.ও.পি সার পঞ্চাশ কেজি, জিপসাম সার বিশ কেজি, দস্তা এক কেজি, বোরন সার এক কেজি ও ইউরিয়া সার একশ কেজি প্রয়োজন হয়। রোপনের পূর্বে পাঁচটি চাষ দিয়ে জমি ভালভাবে তৈরী করে নিতে হয় এবং ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত পাঁচটি সেচ দিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভূট্টা শক্তিশালী ফসল হওয়ায় প্রাকৃতি দূর্যোগ তেমন ক্ষতি পারেনা বলে তিনি জানান। তিনি বলেন এলিট, পাইনিয়র, সানশাইন ও এমকে-৪০ জাতের ভূট্টা সব থেকে ভাল জাতের। এইসব জাতের ভূট্টার বীজ রোপন করলে রোগ বালাই কম এবং ফলন বেশী হয় বলে তিনি জানান।
আশরাফুল বলেন, ভূট্টায় তেমন কোন রোগ বালাই হয় না, তবে কাটুই পোকা ভূট্টাতে আক্রমন করে চাড়া বা গাছের গোড়া কেটে দেয়। নাইট্রো অথবা এবামেকটিন গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করলে এই পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন এক বিঘা জমিতে চৌষট্টি মিলি কীটনাশক চৌষট্টি লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে হয় বলে তিনি পরামর্শ প্রদান করনে। তিনি বলেন ভূট্টা চাষে সময় লাগে পাঁচ মাস। সময় বেশী লাগলেও ফলন বেশী হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির হাত হতে রক্ষা পান। পলি ও দো-আঁশ মাটিতে বিঘাপতি চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মন করে ভূট্টার ফলন হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির লেয়ার দিন দিন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ব্যাপক পরিমনে দানে চাষ হওয়ায় এই অঞ্চলে পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। সেইজন্য তাঁরা কৃষকদের অল্প সেচ এবং পানি কম লাগে এমন ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন। এর মধ্যে ভূট্টা একটি পানি সাশ্রয়ী ও লাভজনক ফসল। ভূট্টায় প্রচুর পরিমানে পুষ্টি রয়েছে। এই ফসল দিয়ে চিপস্ থেকে শুরু করে মাছের খাদ্য, গো-খাদ্য, পল্ট্রি খাদ্যসহ মানুষের জন্য বিস্কুট, পাঁপড়, রুটি ও ছাতুসহ নানাবিধ খাদ্য তৈরী হয় বলে তিনি জানান। খরচ কম লাভ বেশী হওয়ায় তিনি অনান্য ফসলের পাশাপাশি ব্যাপক পরিমানে ভূট্টা চাষ করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহবান জানান। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close