মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

রাবি’র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবি: অফিসার সমিতির দুই দিনের কর্মসূচি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীকে তার পদ থেকে সরে যেতে বলাকে কেন্দ্র অফিসার সমিতির নেতাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেছেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান।
এ ঘটনায় বিকেলে বৈঠক করে দুই দিনের কর্মসূচি দিয়েছে অফিসার সমিতি। আজ মঙ্গলবার রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিবেন তারা। একই দাবিতে ২২ ও ২৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কলম বিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে বিকেল চারটায় উপাচার্যের দপ্তরে বৈঠকে বসেন ভিসি, প্রো-ভিসিসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন ব্যক্তিরা।
প্রশাসন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে এগারটার দিকে রেজিস্ট্রার দপ্তরে অবস্থান নেন অফিসার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অর্ধশত কর্মকর্তা। বেলা ১২টার দিকে নিজ দপ্তরে আসেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী। এ সময় অফিসার সমিতির নেতার রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি শিক্ষক মানুষ, আপনার সম্মানের জায়গা আছে। আপনি আপনার জায়গায় চলে যান, এটা (রেজিস্ট্রার পদ) আপনার জায়গা না। এখন থেকে আপনি আপনার কলমের কাজ বন্ধ রাখবেন।’
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অফিসার সমিতির অভিযোগগুলো হচ্ছে, কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত অসদাচরণ, কর্মকর্তাদের ন্যায্য প্রাপ্যতার ফাইলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে কর্মকর্তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা, সরকার ঘোষিত পে কমিশনের প্রাপ্যতা থেকে কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা, কর্মকর্তাদের প্রাপ্য বেতন-বকেয়া থেকে বঞ্চিত করা, কর্মকর্তাদের নানা পারিতোষিক থেকে বঞ্চিত করা, সর্বোচ্চ প্রশাসনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে মুখোমুখি করার চেষ্টা।
এরপর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উপাচার্যের দপ্তরে যান। অফিসার সমিতির নেতারা তখনও রেজিস্ট্রার দপ্তরে অবস্থান করছিলেন। একটু পরে উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান সেখানে আসেন। এ সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে অফিসার সমিতির নেতাদের কাজে বাধা দেয়ার বিষয়ে জানতে চান। এতে সমিতির নেতাদের সঙ্গে উপাচার্যের উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটে।
সমিতির অভিযোগের প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এম এ বারী বলেন, ‘তারা যেসব আর্থিক কারণে আসেন, তার কাজ করতে সময় লাগে। তথ্য পেতে দেরি হয়। কিন্তু তারা কোনো আইন-বিধান মানেন না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুসারে কোনো ফাইলের ব্যাপারে উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করি।’
সমিতির সভাপতি মোক্তাদির হোসেন অভিযোগ করেন, কাজ বন্ধ করে সেখানে যাওয়ায় উপাচার্য তাদেরকে শো-কজের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উপাচার্য বলেছেন, তিনি আমাদের যা দিয়েছেন (পদোন্নতি), তা কেড়েও নিতে পারেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতশ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করবেন।’ এতে আমরা উপাচার্যকে বলি, ‘স্যার, আপনি আমাদের সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন না।’
হুমকির ব্যাপারে জানার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close