নওগাঁশিরোনাম-২

রাণীনগরের করজগ্রামেরসুজন মন্ডল ১২ বছর ধরে দঁড়িতে বাধা

অর্থের অভাবে জোটেনি উন্নত চিকিৎসা

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : জন্মের ২৫ বছরের মধ্যে প্রায় ১২ বছর ধরেই দঁড়িতে বাধা অবস্থায় রয়েছে সুজন মন্ডল নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের করজগ্রাম মন্ডল পাড়া গ্রামের মৃত লিতব আলী মন্ডলের ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন সুজন। দঁড়িতে বাধা সুজনের ভাগ্যে জোটেনি উন্নত মানের চিকিৎসা, নেপথ্যে রয়েছে অর্থের অভাব । তাই বাধ্য হয়েই সুজনের পরিবারের সদস্যরা তাকে দঁড়িতে বেধে রাখেন বাড়ির ওঠানে ও বারান্দায়। দিন যতই যাচ্ছে ততই সুজনের পাগলামীর পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটির বাড়ির বারান্দার বাঁশের সঙ্গে হাতে মোটা দঁড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে সুজনকে। হাতে দঁড়ি বাধা অবস্থায় এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে সুজন। আগে একটু কথা বলতে পারলেও বর্তমানে তেমন কোন কিছুই আর বলতে পারে না সুজন। নয় ভাই-বোনের মধ্যে সুজন ৬ষ্ঠ ছেলে। শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমেও সুজনের একমাত্র আশ্রয়স্থল বাড়ির এই ওঠান বা বারান্দা। হাতের দঁড়ি খুলে দিলেই সুজন রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের ধাক্কা দেয়। এছাড়াও অনেক দুর্ঘটনা ঘটায় সুজন। তাই সুজনের এই সব অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় হাতে দঁড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে তাকে এমনটাই দাবী করেছেন পরিবারের লোকজন।
সুজনের মা রিজিয়া বেওয়া জানান, জন্মের পর থেকে সুজনের মাঝে কিছুটা অস্বাভাবিক আচার-আচরন ধরা পড়তো। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাগলামী আচরন বৃদ্ধি পাওয়ায় ওর বাবা বেঁচে থাকতে জমি-জমা বিক্রয় করে সাধ্যমতো চিকিৎসা করার চেষ্টা করেছে। তখন পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুজন কোনদিন ভালো হবে না বলে কিছু ওষুধ প্রদান করে সেখানকার চিকিৎসকরা। সেই ওষুধগুলো খাওয়ার পর সুজনের আচরনের আরো অবনতি হলে আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু প্রায় ১০ বছর আগে ওর বাবার মৃত্যুর পর সুজনের ভাগ্যে অর্থের অভাবে আর কোন উন্নত মানের চিকিৎসা জোটেনি। কারণ আমার স্বামীর মৃত্যুর পর সুজনের ভাইয়েরা আলাদা বসবাস শুরু করেন। দিন যতই যাচ্ছে ততই সুজনের আচরনের আরো অবনতি হচ্ছে। সম্প্রতি সুজন প্রতিবন্ধি ভাতার আওতায় এসে কিছু টাকা ভাতা হিসেবে পেলেও তা ওর চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়। তাই সরকারি ভাবে যদি কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে সুজনের উন্নত চিকিৎসা করা সম্ভব হতো।
সুজনের বড় ভাই আজিজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, সুজনের চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক টাকা খরচ করেছি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের তেমন সামর্থ নেই। তাই সুজনের জন্য উন্নত মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছি না। যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা করে তাহলে আমার ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসা করা সম্ভব হতো। হয়তোবা উন্নত চিকিৎসা পেলে সুজন ভালো হয়ে উঠতে পারে।
কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বলেন, সুজনের বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানতাম না। তবে আমি বর্তমানে সুজনের উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার পরিষদ ও নিজের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। এছাড়াও আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে সুজনের বিষয়টি জানাবো। আশা করি তারাও সুজনের জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ইতিমধ্যে আমরা জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার কয়েকজন এরকম মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তেমনি ভাবে দ্রুত আমি নিজে সুজনের বাড়িতে গিয়ে তার সর্বশেষ অবস্থা জেনে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সুজনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close