চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে বিলুপ্তির পথে ‘বাঁশ শিল্প’

 

মো: সজিব ইসলাম: কেউ তৈরি করছেন চাটাই, কেউ ডালি, কেউ কুলা আবার কেউ বানাচ্ছেন চালন কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। তাদের ক্লান্তি নেই। বিভিন্ন আকার ও শৈলীতে তৈরি হয় এসব পণ্য।
রাজশাহীর চারঘাটে ডালিপাড়া নামক গ্রামটিতেই বাঁশ শিল্পীদের বসবাস। বাঙালির নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত সাংসারিক সামগ্রী তৈরীতে নিপুণ শিল্পী এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা । যুগ যুগ ধরে এই গ্রামের পরিবারগুলোর নারী-পুরুষ বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরিতে পারদর্শী।এ গ্রামে তৈরি ডালি দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়।হরেক রকমের ডালি তৈরির কারনেই গ্রামটির নাম ডালিপাড়া। বাঁশের সঙ্গে এসব এ গ্রামের মানুষের নাড়ীর সম্পর্ক। কিন্তু এই মানুষগুলোর ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।
রাজশাহী জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে চারঘাট উপজেলার চন্দনশহর ও পিরোজপুর গ্রাম।সেখানেই ডালিপাড়া নামক ছোট একটি এলাকা জুড়ে বাঁশ শিল্প গড়ে উঠেছে।সে গ্রামে না আসলে হয়তো কোনোদিন জানা যাবে না নতুন বাঁশ কাটলে এক প্রকার সুগন্ধ পাওয়া যায়। এই কাটা বাঁশের সুগন্ধ ও সোনালী রং পুরো গ্রামের পরিবেশকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। গ্রামের বাড়ির উঠানে কিংবা বাড়ির উপর দিয়ে চলে যাওয়া মেঠো পথ অথবা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে বাঁশ দিয়ে নানা পণ্য তৈরি করছেন গ্রামের লোকজন।
একাধিক বাসিন্দা জানালেন, সকালে অনেককে বের হতে হয় বাঁশ সংগ্রহে। এরমধ্যে বাকীদের শুরু হয় বাঁশ কাটা, চাছা, চাটাই বাঁধা, শুকানো ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরির কাজ। সংসারের কাজ শেষ করে নারীরাও বসেন বাঁশের কাজে। ছেলে-মেয়েরাও সাধ্যমতো সহযোগিতা করে। এভাবেই বয়ে যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা।
বাড়ির উঠানে বসে কাজ করছিলেন, কারিগর মতিউর রহমান (৩৩)। তিনি জানালেন, আগে সহজে বাঁশ সংগ্রহ করা যেত। এখন বাঁশের সংকটসহ দাম বেড়েছে। সে কারণে লাভ কমে গেছে। কারিগর শাপলা খাতুন (৫৫) জানান, বাশঁ কারিগরদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের তৈরি পণ্য বাজারজাতকরণ। বর্তমানে তাদের তৈরি পণ্য বাজারজাত করতে স্থানীয়ভাবে পাইকার সৃষ্টি হয়েছে। আর তাদের কাছে এই বাঁশের শিল্পীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
এসব স্থানীয় পাইকারদের কাছে আগাম টাকা নিয়ে বাঁশ শিল্পীরা বাঁশ সংগ্রহ করে পণ্য তৈরি করেন। ফলে কম দামে ওই পাইকাররা এসব পণ্য ক্রয় করে নিয়ে গিয়ে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারসহ নানা স্থানে বিক্রি করেন। যুগের পর যুগ এই বাঁশ শিল্পীদের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও তাদের এই শ্রম ও শৈল্পীক কাজের পুরো মুনাফাটা লুটে নিচ্ছেন মধ্যসত্ত‍্ব ভোগী এই পাইকার গোষ্ঠী।
সরকারী ভাবে সাহায্যের মাধ্যমে বাঁশের পণ্য সঠিকভাবে বাজারজাত করলে এ শিল্প যুগের পর যুক টিকে থাকবে বলে জানান বাঁশ শিল্পীরা।নয়তো কালের বিবর্তনে নানা সংকটে হারিয়ে যাবে এ শিল্প। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close