উন্নয়ন বার্তাস্বাস্থ্য বার্তা

কৈশোর বান্ধব সেবা কেন্দ্রের মান উন্নয়ন ও সময়সূচী বৃদ্ধির দাবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার – এ কথাটি সাধারন মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের কাছে একটি লজ্জার বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে কিশোরী বয়সে বাল্য বিয়ের শিকার হয়ে অকাল গর্ভধারণ, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, প্রজনন স্বাস্থ্য জটিলতা, এবং সন্তান জন্ম দান করতে গিয়ে প্রতি বছর হাজারো কিশোরী মৃত্যুর সাথে লড়ে, যার ফলশ্রুতিতে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন কিশোর-কিশোরী জনগোষ্ঠী রয়েছে যা দেশের মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং যাদের বয়স সীমা হল ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে। ইউনিসেফ এর তথ্যানুসারে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত ৫৩ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের মধ্যে। বাল্যবিবাহের জন্য স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বাল্য বিয়ের উচ্চ হারের কারণে বাংলাদেশে বয়ঃসন্ধিকালেই অনেক মেয়ে গর্ভধারণ, সহিংসতা ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকে। এই বয়সের ছেলে-মেয়ে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি থাকে। প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক ও সামাজিক বিষয়ে কাউন্সেলিং ইত্যাদির মতো বিষয়ে তারা অবগত নন। এই অবস্থার কারণে বাংলাদেশে অনেক নবজাতকের মৃত্যু হয়। আবার সন্তান প্রসবের পর মা ও শিশু রোগাক্রান্ত হন। বাংলাদেশে বয়ঃসন্ধিকালের তিনজন মেয়ের মধ্যে একজনই রুগ্ন। আর মেয়েদের ১১ শতাংশই অনেক বেশি রোগা-পাতলা। তাদের অধিকাংশেরই জিংক, আয়োডিন ও আয়রনের মতো পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ইউএনএইডস (২০১০) এর সূত্রানুসারে, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ১৫-২৪ বছর বয়সী প্রায় ১০ লক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী সামঞ্জস্যহীনভাবে এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এর ২০১৩ সালের তথ্য অনুসারে ৫৩ শতাংশ কিশোরী-তরুণ আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সমূহ ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেনা।
এ সমস্যা নিরসনে কিশোর বয়স থেকেই প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আপনার অধিদপ্তর ইতিমধ্যে সারাদেশে জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬০৩ টি কৈশোর বান্ধব সেবা কেন্দ্র চালু করেছে যা কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুনীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করছে। এ সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে‘কৈশোর কালীন স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৭-৩০ তৈরি করা হয়েছে। এবং এই কৌশলপত্র বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এরপরও এ সেবা কেন্দ্র সমূহের বর্তমান সময়সূচী সকাল ৯ টা থেকে বেলা ৩.৩০ পর্যন্ত হওয়ায় অধিকাংশ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ সময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারেনা। যদি এ সময়সীমা সপ্তাহে ৭ দিন এবং বিকেল ৫ টা পর্যন্ত হয় তবে শিক্ষার্থীরা সহজে এ সেবা গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত দক্ষ জনবলেরও প্রয়োজন রয়েছে। সাম্প্রতিককালে সিরাক-বাংলাদেশ এর উদ্যোগে সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের কৈশোরবান্ধব সেবা কেন্দ্রের উপর কিশোর-কিশোরীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ে জানা যায়, তারা এ সকল সেবা কেন্দ্রগুলোতে আরো বেশি তথ্য সরবরাহ, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং গোপনীয়তা রক্ষার উপর জোর দেন। এছাড়াও ২০১৭ সালে পপুলেশন কাউন্সিলের এক গবেষণা প্রতিবেদনে কৈশোর-বান্ধব সেবা কেন্দ্রের সময়সূচী বৃদ্ধি এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও সেবার পরিসর বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।
এ লক্ষ্যে ‘সপ্তাহ জুড়ে সারাবেলা, কৈশোর-বান্ধব সেবা কেন্দ্র থাকুক খোলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাক-বাংলাদেশ এর উদ্যোগে সারাদেশে এই মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close